ডিজিটাল জনসেবা অবকাঠামো গড়তে দরকার পুনর্কল্পনা, পুনর্দিকনির্দেশনা ও ডিজিটাল মানসিকতা
ডাক বিভাগকে নতুন করে ভাবার সময় এখনই:
৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস। এ বছরের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য, “One postal network, infinite possibilities” বা এক ডাক নেটওয়ার্ক, অসীম সম্ভাবনা। কথাটি শুনতে ভালো লাগে। কিছুটা আশাবাদীও করে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে প্রশ্নটি এত সহজ নয়। আমাদের ডাক বিভাগ কি সত্যিই ডিজিটাল যুগের নাগরিকের প্রয়োজন বুঝে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলতে প্রস্তুত? নাকি আমরা পুরোনো কাঠামোর ওপর শুধু নতুন ডিজিটাল রং লাগিয়ে নিশ্চিন্ত হতে চাইছি?
ডাক বিভাগের কথা উঠলে আমাদের অনেকের মনেই এক ধরনের অতীত-স্মৃতি ভেসে ওঠে। চিঠি, পোস্টম্যান, ডাকটিকিট, পোস্টবক্স, অপেক্ষা। এখন এসবের অনেকটাই স্মৃতির অংশ। ব্যক্তিগত যোগাযোগ চলে গেছে মোবাইল ফোন, ই-মেইল, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ও সামাজিক মাধ্যমে। চিঠি কমেছে, পোস্টবক্স অচল হয়েছে, ডাকঘরের সামনে আগের সেই ভিড় আর নেই। কিন্তু এখানেই যদি আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাই যে ডাক বিভাগের কাজ শেষ, তাহলে ভুল হবে। আমার মনে হয়, সেটি শুধু ভুল নয়, নীতিগতভাবে অদূরদর্শীও হবে।
কারণ ডাক বিভাগ কেবল চিঠি বিলির প্রতিষ্ঠান নয়। এটি রাষ্ট্রের সবচেয়ে বিস্তৃত সেবা-নেটওয়ার্কগুলোর একটি। বিশ্বজুড়ে ৬ লাখ ৬০ হাজারের বেশি ডাকঘর এখনও মানুষ, ব্যবসা ও সরকারের মধ্যে সংযোগ তৈরি করছে। UPU-র ২০২৬ সালের প্রতিপাদ্যও তাই ডাককে শুধু মেইল সার্ভিস হিসেবে নয়, নাগরিকসেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ই-কমার্স, ডিজিটাল পরিচয়, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানবিক সংযোগের অবকাঠামো হিসেবে দেখতে বলছে। UPU
বাংলাদেশেও এই সম্ভাবনা ছোট নয়। ডাক বিভাগের প্রায় ৯ হাজার ৮৮৬টি ডাকঘর, প্রায় ৪০ হাজার জনবল, প্রায় ৫১ হাজার কিলোমিটার সেবা-পথ এবং প্রায় ৩০ ধরনের সেবা আছে বলে আগের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। The Daily Star এগুলো নিছক সংখ্যা নয়। এগুলো রাষ্ট্রের এমন এক উপস্থিতি, যা বহু জায়গায় এখনও মানুষের দরজার সবচেয়ে কাছে থাকে। সঠিকভাবে রূপান্তর করা গেলে এটি দেশের শেষ মাইল ডিজিটাল জনসেবা অবকাঠামো হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু এখানেই একটু থামা দরকার। সম্ভাবনা আর সক্ষমতা এক জিনিস নয়।
ডাক বিভাগের সংকটও বাস্তব, এবং সেটি লুকিয়ে রাখার সুযোগ নেই। ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার প্রায় ভেঙে পড়েছে। ১৯৮৩-৮৪ সালে যেখানে ডাক বিভাগ প্রায় ৪১ কোটি সাধারণ চিঠি ব্যবস্থাপনা করত, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তা নেমে আসে প্রায় ৫ কোটিতে। The Daily Star মানুষের যোগাযোগের অভ্যাস বদলেছে, কিন্তু ডাক বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সেই গতিতে এগোয়নি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ডাক বিভাগের আয় ছিল ৪৪৫ কোটি টাকা, ব্যয় ৮৭৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ ব্যয় ছিল আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। The Business Standard এই বাস্তবতা না বুঝে শুধু নতুন প্রকল্প নিলে হয়তো কিছু ছবি তোলা যাবে, কিছু উদ্বোধন হবে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
এমন সময়ে সরকারের “ডিজিটাল ঠিকানা” উদ্যোগ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। ডাক অধিদপ্তরের ‘নাগরিক প্রান্তে বিদ্যমান ডাকসেবার সম্প্রসারণ ও সহজলভ্যকরণ’ প্রকল্পের আওতায় দেশের সব মানুষকে ডিজিটাল ঠিকানার আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে শুরু হওয়া প্রায় ৪০ কোটি টাকার প্রকল্পটি ২০২৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্যে ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি টাকার বেশি। প্রথম ধাপে পাঁচ লাখ মানুষের তথ্য নিয়ে পাইলট করার কথা বলা হয়েছে। ধাপে ধাপে প্রায় চার কোটি পরিবারের ঠিকানা যুক্ত করার পরিকল্পনাও আছে। জাগো নিউজ
ধারণাটি সময়োপযোগী, এ নিয়ে সন্দেহ নেই। বাংলাদেশে ঠিকানা শুধু প্রশাসনিক তথ্য নয়। এটি নাগরিক অধিকার, সেবা পাওয়া, দুর্যোগ-পরবর্তী সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা, ই-কমার্স, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং আইনি নোটিশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষ, বস্তিবাসী, ভাসমান জনগোষ্ঠী, চরাঞ্চলের মানুষ বা অনানুষ্ঠানিক বসতির বাসিন্দাদের জন্য নির্ভরযোগ্য ঠিকানা না থাকা এক ধরনের নীরব বঞ্চনা। যাদের ঠিকানা নেই, রাষ্ট্রের সেবা-মানচিত্রেও তারা অনেক সময় অর্ধেক দৃশ্যমান, কখনও একেবারেই অদৃশ্য।
তবে এখানেই সবচেয়ে বড় সতর্কতা দরকার। “প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে ই-মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপ” ধরনের লক্ষ্য শুনতে আধুনিক মনে হতে পারে। কিন্তু নীতিগতভাবে এটি কিছুটা অপরিণত, এমনকি ঝুঁকিপূর্ণও। ই-মেইল একটি খোলা যোগাযোগব্যবস্থা, কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপ একটি বেসরকারি বিদেশি প্ল্যাটফর্ম। রাষ্ট্রের নাগরিক যোগাযোগব্যবস্থা কোনো একক বেসরকারি প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করতে পারে না। আজ হোয়াটসঅ্যাপ আছে, কাল নীতিমালা বদলাতে পারে, প্রবেশাধিকার বদলাতে পারে, তথ্য ব্যবহারের শর্ত বদলাতে পারে। রাষ্ট্রের ডিজিটাল অবকাঠামো এতটা ভঙ্গুর ভিত্তির ওপর দাঁড়ানো উচিত নয়।
নাগরিকের ডিজিটাল ঠিকানা হতে হবে উন্মুক্ত মানভিত্তিক, বহুমাধ্যমনির্ভর, নাগরিকের সম্মতিনির্ভর এবং আইনগত সুরক্ষাসম্পন্ন। অন্যথায় একটি ভালো উদ্যোগও নাগরিকসেবার বদলে নজরদারি, তথ্যফাঁস ও ডিজিটাল বৈষম্যের নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ জায়গায় আমাদের খুব সতর্ক হতে হবে। উন্নয়ন দরকার, কিন্তু উন্নয়নের নামে নাগরিকের তথ্যকে অসুরক্ষিত রেখে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এখানে কয়েকটি প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
প্রথম প্রশ্ন, তথ্যের মালিক কে? নাগরিকের ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ই-মেইল, পরিবারের অবস্থান, স্থানান্তর, বসবাসের ধরন, এমনকি ভাসমান জনগোষ্ঠীর তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। এগুলো সংগ্রহের আগে স্পষ্ট আইনগত ভিত্তি, ডেটা মিনিমাইজেশন, উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধতা, সংরক্ষণকাল, নাগরিকের সম্মতি, ভুল সংশোধনের অধিকার এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে। শুধু তথ্য সংগ্রহ করলেই ডিজিটাল রাষ্ট্র হয় না। তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটিই আসল পরীক্ষা।
দ্বিতীয় প্রশ্ন, ডিজিটাল ঠিকানা কি সত্যিই অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে? যদি শুধু শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক নিজের তথ্য ওয়েবসাইটে আপডেট করতে পারেন, তাহলে প্রান্তিক মানুষ আবার বাদ পড়ে যাবেন। যাদের জন্য এই ব্যবস্থা সবচেয়ে জরুরি, তারাই হয়তো সবচেয়ে শেষে যুক্ত হবেন। তাই ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থার কেন্দ্রে রাখতে হবে পোস্টম্যান, স্থানীয় সরকার, কমিউনিটি সেন্টার, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, নারী, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জলবায়ু-বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে।
তৃতীয় প্রশ্ন, ডাক বিভাগ কি এই দায়িত্ব নেওয়ার মতো প্রস্তুত? একটি ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থা শুধু সফটওয়্যার নয়। এর জন্য দরকার মানসম্মত ডেটা, প্রশিক্ষিত কর্মী, সাইবার নিরাপত্তা, আন্তঃসংযোগযোগ্য প্রযুক্তি, মাঠপর্যায়ের যাচাই, নাগরিক সহায়তা ডেস্ক, নিয়মিত হালনাগাদ প্রক্রিয়া এবং স্বাধীন নিরীক্ষা। এগুলো ছাড়া ডিজিটাল ঠিকানা হয়তো ডেটাবেস হবে, কিন্তু জনসেবা অবকাঠামো হবে না।
বিশ্ব অভিজ্ঞতা বলছে, ডাক বিভাগকে আধুনিক করা মানে শুধু পার্সেল ডেলিভারি দ্রুত করা নয়। UPU বলছে, বিশ্বে প্রায় ১৫০ কোটি মানুষ ডাক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মৌলিক আর্থিক সেবা পায়; আর ২০২১ সালে ৫৩ শতাংশ ডাকসেবা কোনো না কোনোভাবে বীমা সেবা দিত। UPU অর্থাৎ ডাক বিভাগ দরিদ্র, গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার অবকাঠামোও হতে পারে। বাংলাদেশে এই সম্ভাবনাকে এখনও পুরোপুরি কল্পনাই করা হয়নি, বাস্তবায়ন তো দূরের কথা।
বাংলাদেশের ডাক বিভাগের সামনে তাই তিনটি পথ খোলা। এক, পুরোনো কাঠামো নিয়ে ধীরে ধীরে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়া। দুই, বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু ডিজিটাল সেবা চালু করা, কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তর না করা। তিন, ডাক বিভাগকে জাতীয় ডিজিটাল জনসেবা নেটওয়ার্ক হিসেবে পুনর্গঠন করা। আমার বিবেচনায়, দেশের স্বার্থে তৃতীয় পথটাই বেছে নেওয়া উচিত। তবে সেটি বলার চেয়ে করা অনেক কঠিন, এবং সেই কঠিন কাজের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক সক্ষমতা এবং নাগরিক আস্থা তিনটিই লাগবে।
এ জন্য কিছু কাজ এখনই শুরু করা দরকার।
প্রথমত, ডাক বিভাগের জন্য ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি জাতীয় ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন রোডম্যাপ দরকার। এতে ডিজিটাল ঠিকানা, ই-কমার্স লজিস্টিকস, ডিজিটাল আর্থিক সেবা, সরকারি নোটিশ, সামাজিক সুরক্ষা বিতরণ, দুর্যোগকালীন যোগাযোগ এবং গ্রামীণ ডিজিটাল সহায়তা এক কাঠামোয় আনতে হবে।
দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থার আগে একটি ডেটা সুরক্ষা ও নাগরিক অধিকার কাঠামো প্রকাশ করতে হবে। কোন তথ্য নেওয়া হবে, কেন নেওয়া হবে, কে ব্যবহার করবে, নাগরিক কীভাবে ভুল সংশোধন করবেন, কীভাবে অভিযোগ করবেন, এসব পরিষ্কার না হলে আস্থা তৈরি হবে না। আর আস্থা ছাড়া কোনো জনসেবা ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে টেকে না।
তৃতীয়ত, প্রতিটি ডাকঘরকে ধীরে ধীরে “ডিজিটাল নাগরিক সহায়তা কেন্দ্র” হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সেখানে শুধু পার্সেল নয়, ডিজিটাল পরিচয় সহায়তা, সরকারি ফরম পূরণ, সামাজিক সুরক্ষা তথ্য, কৃষি ও স্বাস্থ্য তথ্য, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার ই-কমার্স সহায়তা এবং নিরাপদ ডিজিটাল যোগাযোগ সেবা থাকতে পারে।
চতুর্থত, পোস্টম্যানদের নতুন যুগের মাঠকর্মী হিসেবে পুনঃপ্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাঁরা শুধু চিঠি বিলি করবেন না; ঠিকানা যাচাই, নাগরিক সহায়তা, প্রান্তিক মানুষের তথ্য হালনাগাদ, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী মানুষের সেবা-সংযোগ এবং দুর্যোগকালীন বার্তা পৌঁছানোর কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে মানুষের কাছে রাষ্ট্রের সবচেয়ে পরিচিত মুখ এখনও এই মাঠকর্মীরাই।
পঞ্চমত, পাইলট প্রকল্পকে সত্যিকারের পরীক্ষাগার বানাতে হবে। পাঁচ লাখ মানুষের তথ্য সংগ্রহের পর শুধু সংখ্যার সাফল্য দেখালেই হবে না। দেখতে হবে, কতজন নারী নিজে তথ্য হালনাগাদ করতে পারলেন, কতজন প্রান্তিক মানুষ যুক্ত হলেন, কত ভুল ঠিকানা সংশোধিত হলো, কত অভিযোগ এল, কত দ্রুত নিষ্পত্তি হলো, তথ্যফাঁসের ঝুঁকি কীভাবে সামলানো হলো। সংখ্যা দরকার, কিন্তু সংখ্যার পেছনের মানুষের অভিজ্ঞতা আরও বেশি দরকার।
বাংলাদেশ ডাক বিভাগকে পুনর্গঠন করা কোনো স্মৃতিবিলাস নয়। এটি ডিজিটাল রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্তিমূলক ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রশ্ন। চিঠির যুগ হয়তো শেষ হয়ে গেছে, অন্তত আগের অর্থে। কিন্তু মানুষের দরজায় রাষ্ট্রের সেবা পৌঁছানোর প্রয়োজন শেষ হয়নি। বরং ডিজিটাল যুগে সেই প্রয়োজন আরও গভীর হয়েছে, কারণ অনলাইন সেবা যত বাড়ছে, বাদ পড়ার ঝুঁকিও তত বাড়ছে।
বিশ্ব ডাক দিবসে তাই শুধু উদ্যাপন নয়, একটু অস্বস্তিকর আত্মসমালোচনাও দরকার। ডাক বিভাগকে প্রশ্ন করতে হবে: আমরা কি নাগরিকের নতুন প্রয়োজন বুঝছি? আমরা কি প্রান্তিক মানুষকে ডিজিটাল রাষ্ট্রের বাইরে রেখে দিচ্ছি না? আমরা কি নাগরিকের তথ্যকে সেবা হিসেবে দেখছি, নাকি সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করছি?
বাংলাদেশের ডাক বিভাগের হাতে এখনও এক অসাধারণ সম্পদ আছে: মানুষের কাছে পৌঁছানোর সক্ষমতা। এখন দরকার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, নীতিগত সততা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং নাগরিকের অধিকারকে কেন্দ্রে রাখার সাহস। ডিজিটাল ঠিকানা প্রকল্প সেই পরিবর্তনের শুরু হতে পারে। তবে শর্ত একটাই: এটি যেন মানুষের ওপর আরেকটি ডেটা-প্রকল্প না হয়ে মানুষের জন্য একটি আস্থাভিত্তিক জনসেবা অবকাঠামো হয়।
---------------
দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর
এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন
১১ ছক্কায় ৩০ বলে সেঞ্চুরি, অভিষেক শর্মার বিশ্ব রেকর্ড