ই-পেপার | শনিবার , ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

দুপচাঁচিয়া এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন

এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :

বগুড়ায় দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে এবং ইউনিসেফ এর সহযোগিতায় জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতা এবং ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে।

(২৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার) সকালে স্থানীয় পাইলট বালিকা বিদ্যালয় মাঠে টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. শামসুন্নাহার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাত আরা তিথি।

এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইন বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জানান যে, উক্ত ক্যাম্পেইন প্রথম পর্যায়ে অদ্য ২৪ অক্টোবর হতে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত দুপচাঁচিয়া উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৫ম থেকে ৯ম শ্রেণির ছাত্রীকে একডোজ এইচপিভি টিকা প্রদান করা হবে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে দুপচাঁচিয়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের ১৪৪ অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে আগামী ৯ নভেম্বর হতে ২৩ নভেম্বও পর্যন্ত ১০ থেকে ১৪ বছরের কিশোরদের একডোজ এইচপিভি টিকা প্রদান করা হবে।

টিকা গ্রহণে বাদপরা কিশোরীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর স্থায়ী কেন্দ্রে শুক্রবার, শনিবার এবং সরকারি ছুটির দিন বাদে যেকোন দিন সকাল ৯ টা হতে ৩ টা পর্যন্ত নিবন্ধন স্বাপেক্ষে টিকা গ্রহণ করতে পারবেন। উক্ত এইচপিভি টিকাদান ক্যাম্পেইনে উপজেলার ৮১৬৪ জন ছাত্রী এবং কিশোরীকে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী একডোজ এইচপিভি টিকা প্রদান করা হবে।

সভায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং জনবসতি এলাকায় এইচপিভি টিকাদান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রচারাভিযান এবং টিকা রেজিস্ট্রেশন জোরদার করার জন্য উপজেলার ০৬টি ইউনিয়ন থেকে আগত স্কাউট, গার্লস ইন স্কাউট সদস্য ও রেডক্রিসেন্ট প্রতিনিধিদের অরিয়েন্টেশন দেয়া হয়। এর প্রায় ৯০% মৃত্যুই বাংলাদেশের মত উন্নয়নশীল বা স্বল্পোন্নত দেশে ঘটে থাকে। বাংলাদেশী নারীদের ক্ষেত্রে জরায়ুমুখ ক্যান্সার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ হাজার নারী মৃত্যুবরণ করেন জরায়ুমুখ ক্যান্সারে।

ডা. সামসুন্নাহার নাহার বলেন, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে বাংলাদেশ সরকার সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচিতে এইচপিভি টিকা সংযোজন করেছে। ২৪ অক্টোবর ২০২৪ তারিখ হতে উপজেলায় বিভিন্ন স্কুলে এবং এলাকায় ইপিআই কর্তৃক ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীদের বিনামূল্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধী এইচপিভি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

প্রধান অতিথি জান্নাত আরা তিথি তার বক্তব্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের কারণ, লক্ষণ এবং প্রতিকারে এইচপিভি টিকা গ্রহনে গুরুত্ব উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন।

সাধারণত নারীরা যে সকল ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন বৈশ্বিক ভাবে তন্মধ্যে জরায়ুমুখ ক্যান্সার চর্তুথ সর্বোচ্চ। প্রতিবছর বিশ্বের ছয় লক্ষাধিক নারী জরায়ুমুখ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। যার মধ্যে প্রায় তিন লক্ষ বিয়াল্লিশ হাজার জন মৃত্যুবরণ করে থাকেন।

;