বিনোদন

একটি রেডিওর মায়ায় পাঁচ বিঘা জমি বেচেছিলেন দেলোয়ার মিঞা

  • ১৯৬৫ সালে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার রহিমাবাদ গ্রামের এক রেডিওপ্রেমীর ভালোবাসা ও হারানোর বেদনার গল্প।

পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করে কেনা বাবার রেডিওটি অর্ধশতাব্দী পর ঘরে ফিরিয়েছিলেন আলতাফ হোসেন। কিন্তু ব্যাটারি কিনে সেটি বাজানোর সামর্থ্য ছিল না তাঁর। নিজের প্রথম মাসের বেতনের টাকায় রেডিও কেনার স্মৃতি থেকে এই ভালোবাসা ও বেদনার গল্প ফিরে দেখেছেন একজন রেডিওপ্রেমী।

-এ এইচ এম বজলুর রহমান, সদস্য, মাল্টিস্টেকহোল্ডার কনসালটেশন গ্রুপ, জাতিসংঘের তথ্যসমাজবিষয়ক আন্তসংস্থা গোষ্ঠী (ইউএনজিআইএস)

একটি রেডিও ঘরে ফিরল। কিন্তু যার শখে সেটি কেনা হয়েছিল, তিনি তখন আর বেঁচে নেই। যিনি ফিরিয়ে আনলেন, তাঁরও সামর্থ্য হলো না সেটি বাজানোর। পুরোনো যন্ত্রটি হাতে নিয়েও তাই শোনা গেল না কোনো গান। ২০২২ সালে সিরাজগঞ্জের রহিমাবাদ গ্রামের আলতাফ হোসেনের জীবনে এমন একটি ফিরে পাওয়া ঘটেছিল। খবরটি পড়তে গিয়ে রেডিওপ্রেমী হিসেবে আমার মনে হয়েছে, কিছু কিছু নীরবতারও শব্দ থাকে। মন দিয়ে শুনলে সেখানে মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা শোনা যায়।

ঘটনার শুরু ১৯৬৫ সালে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার রহিমাবাদ গ্রামের দেলোয়ার হোসেন মিঞা পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করে একটি রেডিও কিনেছিলেন। পরে ব্যাটারি কেনার জন্য বিক্রি করেছিলেন আরও এক বিঘা জমি। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ ও আরিফুল গনি তাঁর পরিবারের এই কাহিনি তুলে এনেছেন। ছেলের স্মৃতিতে থাকা ঘটনাটি আমাদের সামনে খুলে দেয় রেডিও শোনার আকুলতার এক বিস্ময়কর, একই সঙ্গে বেদনাময় অধ্যায়। www.prothomalo.com

আমিও একজন রেডিওশ্রোতা, রেডিওপ্রেমী। ১৯৯৬ সালে অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের ভোলা দ্বীপ প্রকল্পে অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিলেশনসের সমন্বয়কারী হিসেবে যোগ দিই। সেখানে প্রথম মাসের বেতন ছিল ৯ হাজার ৫০০ টাকা। সেই বেতনের পুরোটাই খরচ করে সনির একটি শর্টওয়েভ রেডিও কিনেছিলাম। রেডিওর প্রতি আমার এমন টান দেখে সহকর্মীরা আমাকে ডাকতেন ‘রেডিও পাগল’ বলে। নিজের শখের পরিচয়টুকু ওই ডাকের মধ্যেই যেন ধরা ছিল।

প্রথম মাসের বেতন দিয়ে কে কী কিনবেন, তার হিসাব সবার আলাদা। আমার পছন্দ ছিল রেডিও। আজ সেই সময়ের কথা মনে করলে টাকার অঙ্কের সঙ্গে নিজের ভালো লাগাটুকুও ফিরে আসে। মানুষের কণ্ঠ শোনার একটি যন্ত্রকে এত আপন মনে হওয়ার মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো গভীর টান কাজ করে। দেলোয়ার মিঞার রেডিও কেনার কথা পড়তে গিয়ে তাই নিজের জীবনের সেই অধ্যায়টিও মনে পড়ে গেল।

আজ হাতের ফোনে ইচ্ছামতো গান চালিয়ে দেওয়া যায়। খবর শুনতে একটি যন্ত্রকে ঘিরে সবার বসারও প্রয়োজন হয় না। এই অভ্যাস থেকে পেছনে তাকিয়ে দেলোয়ার মিঞার সিদ্ধান্ত বুঝতে গেলে হয়তো শুধু বিস্ময়ই জাগবে। কিন্তু তাঁর সময়ের দূরত্বটুকুও বোঝা দরকার। বাইরের পৃথিবীর কণ্ঠ নিজের ঘরে পৌঁছানোর আকর্ষণ তাঁর কাছে কত প্রবল ছিল, পাঁচ বিঘা জমি বিক্রির ঘটনাটি তারই আভাস দেয়।

রেডিওর প্রতি ভালোবাসার একটি কারণ, সেটি মানুষের কল্পনাকে জায়গা দেয়। একজন মানুষ কথা বলেন, শ্রোতা নিজের মনে তাঁর মুখ আঁকেন। গান শুনতে শুনতে কেউ নিজের গ্রামে ফিরে যান, কেউ মনে করেন প্রিয় মানুষের কথা। চোখের সামনে ছবি না থাকলেও ভেতরে একটি দৃশ্য তৈরি হয়। শব্দের সঙ্গে এই ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই হয়তো রেডিওর পুরোনো কোনো সুর বহু বছর পরও মানুষকে অপ্রস্তুত করে দিতে পারে।

আলতাফের স্মৃতিচারণায় সেই ব্যক্তিগত ভালোবাসার সঙ্গে মানুষের একসঙ্গে শোনার অভিজ্ঞতাও পাওয়া যায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, আশপাশের মানুষ তাঁদের বাড়িতে এসে রেডিও শুনতেন। শোনা হতো গান, নির্বাচনের খবর, মুক্তিযুদ্ধের খবর। একটি পরিবারের কেনা যন্ত্র এভাবে অন্য মানুষের জীবনেও ঢুকে পড়েছিল। খবরের সঙ্গে পরিচিত মুখের আলোচনাও চলত। রেডিওর চারপাশে গড়ে ওঠা এই সম্পর্কের দাম জমির হিসাবে ধরা যায় না। www.prothomalo.com

নিজের বেতনের টাকায় রেডিও কেনার স্মৃতি আমাকে দেলোয়ার মিঞার আকুলতার কিছুটা বুঝতে সাহায্য করে। তবে তাঁর পরিবারের ক্ষতির গভীরতাও মনে রাখতে হয়। আমার শখের সঙ্গে একটি মাসের বেতনের হিসাব জড়িত। তাঁদের গল্পে আছে জমি ও বসতবাড়ি হারানো, দীর্ঘদিনের অভাব। রেডিওর প্রতি ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে সন্তানের অনিশ্চয়তাকে আড়াল করলে গল্পটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সেই কষ্টটুকুও সমান মনোযোগে দেখতে হবে।

আলতাফের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা ছিলেন অত্যন্ত শৌখিন ও উদার। এলাকার মানুষ যা চাইতেন, দিতে চেষ্টা করতেন। কিন্তু এভাবে একসময় পৈতৃক ২৬ বিঘা জমি শেষ হয়ে যায়। এই পুরো ক্ষতিকে একটি রেডিও কেনার ফল বলে দেখানোও ঠিক হবে না। পরিবারের স্মৃতিতে উঠে এসেছে নানা ব্যয় ও সিদ্ধান্তের কথা। রেডিওটি সেই দীর্ঘ আর্থিক পতনের সবচেয়ে দৃশ্যমান স্মারক হয়ে আছে।

১৯৬৯ সালে দেলোয়ার মিঞা বসতবাড়ি বিক্রি করেন। অভাবের চাপে ১৯৭২ সালে বিক্রি করেন রেডিওটিও, ১৮০ টাকায়। যে জিনিস ঘরে আনতে জমি বিক্রি করেছিলেন, সাত বছরের মাথায় সেটিকেই ঘর থেকে চলে যেতে দেখলেন। সেই মুহূর্তে তাঁর মনে কী হয়েছিল, আমরা জানি না। তবে ছেলের মনে ঘটনাটি যে গভীর ক্ষত তৈরি করেছিল, তাঁর পরের জীবনের আকুলতা তা বুঝিয়ে দেয়।

আলতাফের মুখে সেই দিনের কথাটি ছিল, ‘জমিও গেল, রেডিও গেল!’ বাবার সান্ত্বনা ছিল, ‘আবার কিনে দিব।’ অল্প কয়েকটি কথায় একটি পরিবারের ভাঙনের ভার ধরা আছে। সন্তানের অভিযোগের মধ্যে হারানোর অসহায়তা, বাবার উত্তরে তাকে শান্ত করার চেষ্টা। প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় মানুষ কখনো কখনো নিজের সামর্থ্যের চেয়েও বড় আশ্রয় তৈরি করতে চায়। কিন্তু অভাবের সংসারে সেই আশ্রয় ধরে রাখা কত কঠিন, পরের ঘটনাগুলো আমাদের তা মনে করিয়ে দেয়।

দেলোয়ার হোসেন মিঞা মারা যান ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি। বাবার জীবদ্দশায় রেডিওটি আর ঘরে ফেরেনি। তারপরও ছেলে সেটিকে ভুলে যাননি। ২০২২ সালে তিনি সেটি ফিরিয়ে আনেন, বিক্রির প্রায় ৫০ বছর পর। এই দীর্ঘ সময়ের কথা ভাবলে অবাক হতে হয়। মানুষ কত জিনিসের অভাবেই অভ্যস্ত হয়ে যায়। অথচ কোনো কোনো অনুপস্থিতি রোজ চোখে না পড়েও মনের মধ্যে থেকে যায়।

আলতাফ কেন ওই রেডিওটিই চেয়েছিলেন, তা বোঝার জন্য নতুন ও পুরোনো যন্ত্রের বাজারদর জানা যথেষ্ট নয়। অন্য কোনো রেডিও হয়তো গান শোনাতে পারত। কিন্তু বাবার হাতে কেনা এই রেডিওটির সঙ্গে তাঁর নিজের জীবনের সম্পর্ক ছিল। যে জিনিস একদিন চলে যেতে দেখেছেন, তাকে ফিরিয়ে আনার মধ্যে হারানো সময়ের একটি অংশ উদ্ধার করার আকাঙ্ক্ষা থাকা অস্বাভাবিক নয়। ছেলের কাছে বস্তুটির মূল্য তাই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত।

আমাদের ঘরেও এমন কিছু জিনিস থাকে, যার প্রয়োজনীয়তা অন্যকে বোঝানো কঠিন। পুরোনো একটি কলম, বিবর্ণ চিঠি কিংবা বন্ধ হয়ে যাওয়া ঘড়ি কেউ ফেলে দিতে পারেন না। ব্যবহার শেষ হলেও তার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয় না। আলতাফের রেডিওটিকে সেই দৃষ্টিতে দেখলে তাঁর আবেগ আর বিচিত্র মনে হয় না। বরং নিজের প্রিয় কোনো স্মারকটির দিকে তাকিয়েই আমরা তাঁর টান কিছুটা অনুভব করতে পারি।

রেডিওটি ফিরে পাওয়ার পরের ঘটনাই সবচেয়ে কষ্ট দেয়। সেটি চালাতে একসঙ্গে আটটি ব্যাটারি প্রয়োজন ছিল। প্রতিবেদনের সময় সেই ব্যাটারির দাম ছিল প্রায় ৪০০ টাকা। আলতাফের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়নি। এই অঙ্ককে আজকের বাজারদর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিন্তু তৎকালীন অক্ষমতার কথাটি থেকেই বোঝা যায়, দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফিরে পাওয়া আনন্দের খুব কাছেই কীভাবে আরেকটি অভাব দাঁড়িয়ে ছিল।

চার শ টাকা কারও কাছে নিতান্ত ছোট খরচ হতে পারে। অন্য কারও সংসারে সেটুকু ব্যয় করার আগে প্রয়োজনের অনেক হিসাব মেলাতে হয়। এই ব্যবধানের কথা ভুলে গেলে আলতাফের নীরব রেডিওকে শুধু একটি আবেগঘন ছবি মনে হবে। অথচ তার পাশে দৈনন্দিন জীবনের কঠিন বাস্তবতা আছে। প্রিয় জিনিসটি কাছে পেয়েও ব্যবহার করতে না পারার বেদনা বোঝার জন্য সেই বাস্তবতার দিকে তাকানো জরুরি।

রেডিওটির গায়ে জাপানের নিপ্পন ইলেকট্রনিক কোম্পানি লিমিটেডের নাম লেখা ছিল। নির্মাতার পরিচয় আমাদের যন্ত্রটির উৎস জানায়। কিন্তু তার গায়ে আলতাফের পরিবারের ইতিহাস লেখা নেই। কত সম্পদ খরচ হয়েছিল, কেন বিক্রি করতে হয়েছিল, কত বছর পর সেটি ফিরল, এসব মানুষের মুখ থেকেই জানতে হয়। তাই পুরোনো রেডিও সংরক্ষণের সঙ্গে তার মালিক ও শ্রোতার কথা সংরক্ষণ করাও জরুরি বলে মনে করি।

আলতাফের রেডিও দেখতে মানুষের ভিড় হয়েছিল। এমন কাহিনি কৌতূহল জাগাবেই। কিন্তু একজন মানুষের কষ্ট দেখতে গিয়ে তাঁর সম্মান অক্ষুণ্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। তাঁকে শুধু অদ্ভুত শখের উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখলে অনেকটাই বাদ পড়ে যায়। তিনি দীর্ঘদিন একটি স্মৃতি বয়ে বেড়িয়েছেন। তাঁর নিজের ভাষায় সেই স্মৃতির কথা বলার সুযোগ থাকা দরকার। দর্শকের বিস্ময়ের চেয়ে স্মৃতির মালিকের অনুভূতির গুরুত্ব বেশি।

রেডিও ভালোবাসি বলেই মনে হয়, ভালোবাসার প্রকাশে দায়িত্ব থাকা প্রয়োজন। কারও সংসারের নিরাপত্তা হারানোকে আদর্শ ত্যাগ হিসেবে তুলে ধরতে চাই না। আবার পুরোনো যন্ত্র আঁকড়ে থাকা মানুষটিকেও অযৌক্তিক বলে সরিয়ে দিতে পারি না। মানুষের জীবনে প্রয়োজনের হিসাবের পাশাপাশি মায়ার হিসাবও থাকে। একটিকে বুঝতে গিয়ে অন্যটিকে অস্বীকার করলে দেলোয়ার ও আলতাফের সম্পর্কের জটিলতাটি বোঝা হবে না।

এই গল্প রেডিওর মানুষদের জন্যও ভাবনার সুযোগ এনে দেয়। আমরা যাঁরা অনুষ্ঠান তৈরি করি, সম্প্রচার নিয়ে ভাবি কিংবা শ্রোতার অধিকার নিয়ে কথা বলি, তাঁদের মনে রাখা দরকার, যন্ত্রের ওপারে একটি নির্দিষ্ট জীবন আছে। কারও সারা দিনের ক্লান্তির মধ্যে একটি গান শোনার অপেক্ষা থাকে। কেউ খবরের ব্যাখ্যা চান। শ্রোতাকে কেবল সংখ্যা হিসেবে দেখলে শব্দের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কটি আমাদের নজর এড়িয়ে যায়।

রেডিওতে আন্তরিকতা তৈরি হয় মানুষের কথা মন দিয়ে শোনার মধ্য দিয়ে। পরিচিত ভাষা, সহজ ব্যাখ্যা এবং শ্রোতার অভিজ্ঞতার প্রতি সম্মান একটি অনুষ্ঠানকে আপন করে তুলতে পারে। উচ্চারণ নিখুঁত হলেই সব কথা হৃদয়ে পৌঁছায় না। বক্তা শ্রোতাকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, সেটিও শোনা যায়। রেডিওর প্রতি মানুষের দীর্ঘ ভালোবাসার কথা বলতে গেলে এই পারস্পরিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

বিশেষ করে স্থানীয় ও কমিউনিটি রেডিওর কাছে এই গল্প একটি প্রশ্ন রেখে যায়। এলাকার মানুষের আনন্দ, স্মৃতি ও অভাব আমরা কতটা শুনছি? তাঁদের জীবনের কাহিনি তাঁদের নিজের কণ্ঠে তুলে ধরার সুযোগ কতটা দিচ্ছি? আলতাফের মতো একজন শ্রোতার কথা নিয়ে একটি অনুষ্ঠান হলে সেখানে তাঁর রেডিওর দাম জানার পাশাপাশি তাঁর কাছে রেডিওর অর্থ কী, তা শোনার অবকাশও থাকা উচিত।

রেডিওর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার সময় এই মায়ার কথাও মনে রাখা দরকার। প্রযুক্তি বদলাবে, শোনার মাধ্যমও বদলাবে। কিন্তু মানুষের কণ্ঠে মানুষের সঙ্গ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে যাবে। সেই আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান করেই নতুন শ্রোতার কাছে পৌঁছাতে হবে, পুরোনো শ্রোতাদের স্মৃতিও ধরে রাখতে হবে।

সব পুরোনো যন্ত্র আবার বাজবে না। সব হারানো সম্পদও ফিরে আসবে না। আলতাফের বাবা আর ফিরবেন না, এ সত্য সবচেয়ে কঠিন। তবু মানুষের যত্নের মূল্য আছে। প্রিয় স্মারক রক্ষা করা, তার ইতিহাস শুনে রাখা এবং স্মৃতির মালিকের পাশে সম্মান নিয়ে দাঁড়ানোর মধ্যেও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। অতীত বদলে দেওয়ার ক্ষমতা নেই বলে বর্তমানের এই সামান্য দায়িত্বটুকু ছোট হয়ে যায় না।

একদিন সহকর্মীরা আমাকে ‘রেডিও পাগল’ বলতেন। আজ আলতাফের গল্প পড়তে গিয়ে নিজের সেই পরিচয়টুকু আরও আপন মনে হয়। ইচ্ছা হয়, তাঁর নীরব রেডিওটির পাশে একটু বসি, মানুষটির কথা শুনি। যে বাবা একদিন বলেছিলেন, ‘আবার কিনে দিব’, তিনি আর নেই। বহু বছর পরে ছেলে নিজেই রেডিওটি ফিরিয়ে এনেছেন। এই ফিরে পাওয়ার মধ্যে কতখানি ভালোবাসা জমে আছে, তা কোনো যন্ত্র মেপে বলতে পারবে না। রেডিওটি নীরব থাকলেও সেই ভালোবাসার কথা আমাদের মন দিয়ে শোনা দরকার।

 Ref: বাংলাদেশের দুষ্প্রাপ্য ছবি সমগ্র
https://www.facebook.com/bdcs.official.
Original reporting: Abul Kalam Muhammad Azad and Ariful Gani, Prothom Alo. Reference supplied by the author: Bangladesh Rare Photographs Collection