ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

মৃত্যুর রেকর্ড ১১৯

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একদিনে মৃত্যুর বিষাদময় রেকর্ড হয়েছে গতকাল রোববার। আগের ২৪ ঘণ্টায় ১১৯ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে একদিনে
সর্বোচ্চ ১১২ জনের মৃত্যু হয়েছিল চলতি বছরের ১৯শে এপ্রিল। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১৯ জনসহ সরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত দেশে করোনায় মোট মারা গেছেন ১৪ হাজার ১৭২ জন। এর আগে গত শুক্রবার ১০৮ জনের মৃত্যুর কথা জানায় সরকার। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হলে গত ১৭ই এপ্রিল প্রথমবারের মতো দৈনিক মৃত্যু একশ’ ছাড়িয়ে যায়। টানা তিনদিন একশ’র ওপরে মৃত্যুর খবর জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং ১৯শে এপ্রিল ১১২ জনের মৃত্যুর কথা জানানো হয়, যা এ বছরের ২৭শে জুনের আগ পর্যন্ত ছিল সর্বোচ্চ। দেশে গত বছরের ৮ই মার্চ প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় এবং ওই বছরের ১৮ই মার্চ প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী মারা যাওয়ার খবর দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।

দেশে করোনার প্রথম ঢেউয়ের সময় গত বছরে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু ছিল ৬৪ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৫ হাজার ২৬৮ জন। তাদের নিয়ে সরকারি হিসাবে দেশে এ পর্যন্ত মোট করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৪০৬ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৩ হাজার ২৪৯ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হলেন ৮ লাখ ৪ হাজার ১০৩ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ২৪ হাজার ৬২৮টি। পরীক্ষা হয়েছে ২৪ হাজার ৪০০টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৬৫ লাখ ৬ হাজার ৭৮১টি। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরীক্ষা হয়েছে ৪৭ লাখ ৪৭ হাজার ১৫৮টি, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ লাখ ৫৯ হাজার ৬২৩টি। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৫৯ শতাংশ, এখন পর্যন্ত মোট রোগী শনাক্তের হার ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯০ দশমিক ৫১ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১৯ জনের মধ্যে পুরুষ ৭৫ জন ও নারী ৪৪ জন। দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত পুরুষ মারা গেছেন ১০ হাজার ১১৮ জন এবং নারী ৪ হাজার ৫৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১১৯ জনের মধ্যে বয়স বিবেচনায় ৬০ বছরের উপরে রয়েছেন ৫৯ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে আছেন ৩৪ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১১ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ৯ জন এবং ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ৬ জন। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের আছেন ২৪ জন, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগের ২২ জন করে, খুলনা বিভাগের ৩২ জন, বরিশাল বিভাগের ২ জন, সিলেট বিভাগের ৫ জন, রংপুর বিভাগের ৯ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগের আছেন ৩ জন। ১১৯ জনের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন ৯৯ জন, বেসরকারি হাসপাতালে ১৪ জন, বাসায় ৪ জন এবং হাসপাতালে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে ২ জনকে।
এদিকে করোনা বিভাগ ভিত্তিক শনাক্ত বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬৪৮ জন। এই বিভাগে শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। ঢাকা জেলায় (মহানগরসহ) শনাক্তের হার ১২ শতাংশ। ময়মনসিংহ বিভাগে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২৭১ জন। শনাক্তের হার ২৮ দশমিক ১৭ শতাংশ। চট্টগ্রামে বিভাগে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৪৮৯ জন। শনাক্তের হার ১৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ। রাজশাহীতে শনাক্ত হয়েছে ৯৬২ জন। শনাক্তের হার ২১ দশমিক ১২ শতাংশ। রংপুর বিভাগে শনাক্তের সংখ্যা ৪৪৭ জন। শনাক্তের হার ৩৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। খুলনা বিভাগে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২০২ জন। শনাক্তের হার ৪১ দশমিক ৪০ শতাংশ। বরিশাল বিভাগে শনাক্তের সংখ্যা ১৫০ জন। শনাক্তের হার ৩২ দশমিক ১১ শতাংশ। একই সময়ে সিলেট বিভাগে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯৯ জন। শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
এদিকে করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণে সারা দেশেই এখন উচ্চ ঝুঁকিতে। ৫০টির বেশি জেলায় অতি উচ্চ সংক্রমণ রয়েছে বলে মত দিয়েছে করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলেছে, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৪০টিই সংক্রমণের অতি উচ্চ ঝুঁঁকিতে রয়েছে। ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট বা ডেল্টা ধরনের সামাজিক সংক্রমণ চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিটি। ইতিমধ্যে এর প্রকোপ অনেক বেড়েছে। এই অবস্থায় এটি প্রতিরোধে খণ্ড খণ্ডভাবে নেয়া কর্মসূচির উপযোগিতা প্রশ্নবিদ্ধ উল্লেখ কর সারা দেশে ১৪ দিনের পূর্ণ শাটডাউনের সুপারিশ করেছে কমিটি।
পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় ২২শে জুন থেকে ঢাকাকে সারা দেশ থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই প্রচেষ্টায় ঢাকার আশপাশের ৪টি জেলাসহ মোট ৭টি জেলায় জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের চলাচল ও কার্যক্রম ৩০শে জুন মধ্যরাত পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে এরপরও করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সোমবার থেকে সারা দেশে সব গণপরিবহন ও মার্কেট-শপিং মল বন্ধ করা হচ্ছে। আর বৃহস্পতিবার শুরু হবে সর্বাত্মক লকডাউন, বন্ধ থাকবে সব সরকারি বেসরকারি অফিসও।

সুত্র মানবজমিন

;