কুষ্টিয়ায় ফেসবুক ভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল “ভয়েজ অব কুষ্টিয়া”র সম্পাদক মুন্সী শাহীন আহমেদ জুয়েল এবং বার্তা সম্পাদক অঞ্জন কুমার শীল শুভকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। গত বুধবার ভোররাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাদের নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে আসে এবং কুষ্টিয়া সদর মডেল থানায় সোপর্দ করে। এরপর বিকেলে তাদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে ওই দিন সন্ধায় তাদেরকে আদালতে সৌপর্দ করা হয়। পরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজু বাদি হয়ে এই দুই জনের নামসহ অগ্যাত আরো কয়েকজনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন,গত ২৮জুন “ভয়েস অফ কুষ্টিয়া” নামে সরকারের অনুমোদনহীন একটি নিউজ পোর্টাল সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে বাধাগ্রস্ত ও ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করার উদ্দেশ্যে “কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। উক্ত মিথ্যা খবরের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই মামলা করেন।
গ্রেপ্তারকৃত অঞ্জন কুমার শীল শুভর স্ত্রী স্মৃতি বানী শীলের অভিযোগ, গত ১১জুন গভীর রাতে এক নারীর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ২১জুন কুষ্টিয়া মডেল থানায় হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার অভিযোগে মামলা করেন আহত ওই নারীর মা। এই ঘটনার সংবাদ ভয়েস অব কুষ্টিয়ায় প্রকাশ হয়েছিল। ওই মামলায় এজাহারে মিজানুর রহমান মিজুর নাম ছিল। ওই সংবাদের প্রতিশোধ নিতেই আমার স্বামীর বিরুদ্ধে এই বানোয়াট অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে।
কুষ্টিয়া সদর মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল ইসলাম বলেন, পূর্বের কোন সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে এই মামলার সম্পর্ক নেই। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ও কাঠ ব্যবহার করা হয়েছে বলে একটি সংবাদ প্রকাশ করে তারা তা ফেসবুকে ভাইরাল করেছে। এ ঘটনায় তাদের নামে তথ্য প্রযুক্তি নিরাপত্তা আইনে থানায় একটি মামলা হয়েছে। সেই মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
সু্ত্র কালেরকন্ঠ