মনিরুল ইসলামঃ
করোনার সংক্রমণ রোধে সারাদেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গাতেও চলছে কঠোর লকডাউন। চুয়াডাঙ্গার বেশীরভাগ মানুষের মধ্যে নেই করোনার সচেতনতার ছিটেফোঁটা। সরকার ঘোষিত চলমান লকডাউন মানতে নারাজ মানুষ। সরকার ঘোষিত লকডাউনে বিধিনিষেধ থাকা সত্বেও অনেককে তা ভঙ্গ করতে দেখা যাচ্ছে। অনেকে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে বাইরে বের হচ্ছে আবার কেউ কেউ খোলা রাখছে তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জেলা প্রশাসন, সদর উপজেলা প্রশাসক, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করছে বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন। সরকারী বিধিনিষেধ না মানায় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটগন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করছে। গতকাল চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৮টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হয়। এরমধ্যে ৬১টি মামলায় ৬৫ জনকে মোট ৪৬ হাজার ৮৫০ টাকা জরিমানা করা হয়।
সোমবার মুসলধারে বৃষ্টির মধ্যেও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসেন তার কর্তব্য থেকে সরে যান নি। বৃষ্টিতে ভিঁজে তিনি তার দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেছেন। সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসেনের তেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা শহরের বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় লকডাউন উপেক্ষা করে দোকান খুলে রাখা এবং স্বাস্থ্যিবিধ না মানার অপরাধে ৯ টি মামলায় ৯ জনকে ২৪ হাজার ৫শ’ টাকা জরিমানা করা হয়। এরমধ্যে,সরকার ঘোষিত লকডাউনে দোকান খুলে রাখার অপরাধে চুয়াডাঙ্গা পুরাতন হাসপাতাল রোডের ৫ ব্যবসায়ী, বড়বাজার নীচের বাজারের ৩ ব্যবসায়ীসহ মোট ৮ জনকে ৩ হাজার টাকা করে ২৪ হাজার এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় একজনকে ৫শ’ টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে, অভিযান চলাকালীন সময়ে দুপুরে মুসলধারে বৃষ্টি নামে। বৃষ্টিতে অনেকে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিলেও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট জাকির হোসেন বৃষ্টির ভিতরে ভিঁজে তিনি তার দ্বায়িত্ব পালন করে গেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারককে ভিঁজতে দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার ও সেখানে দ্বায়িত্বরত আনসার সদস্যরাও রাস্তায় নেমে আসেন।
অপরদিকে, গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আনসার সদস্যদের সাথে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি টিম চুয়াডাঙ্গা শহরের শহীদ হাসান চত্বরসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় োস্বাস্থ্যবিধি না মানায় ২০ জনকে মোট ২ হাজার ২শ’ টাকা জরিমানা করা হয়।