দিনাজপুরের চিরিরবন্দর থেকে মা ও ছেলেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়ার ঘটনায় রংপুর অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) এএসপিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল বুধবার বিকেলে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে নেওয়া হলে বিচারক তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তাঁরা হলেন রংপুর সিআইডির এএসপি সারোয়ার কবির, এএসআই হাসিনুর রহমান, কনস্টেবল আহসানুল হক এবং গাড়িচালক হাবিবুর রহমান। এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে দিনাজপুর সদর উপজেলার দশমাইল মোড় থেকে অপহরণকাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটি থামিয়ে এএসপিসহ চারজনকে আটক করা হয়।
ভুক্তভোগীর স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর সিআইডির কাছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরের জনৈক লুৎফর রহমানের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা প্রতারণার অভিযোগ তোলেন পলাশ নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগের ভিত্তিতে গত সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে লুৎফরের বাড়িতে অভিযানে যান এএসপি সারোয়ার কবিরসহ তিনজন। লুৎফরকে না পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে একটি কালো মাইক্রোবাসে উঠিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে থাকেন। পরে তাঁদের পরিবারের লোকজনকে ফোন দিয়ে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। একপর্যায়ে এ ঘটনায় থানা পুলিশের কাছে যান ভুক্তভোগীর স্বজনরা।
অপহৃত নারীর জামাতা কামরুল হক জানান, গত সোমবার রাতে মোবাইল ফোনে ওই এএসপির কল আসে। এ সময় তিনি বলেন, আপনার শ্যালক ও শাশুড়িকে আমরা নিয়ে এসেছি। টাকা দিলে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হবে। মুক্তিপণ হিসেবে তাঁর দাবি ছিল ১৫ লাখ টাকা। এক ঘণ্টার মধ্যে টাকা দিতে না পারলে অপহরণ করা দুইজনকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে গত সোমবার রাতেই চিরিরবন্দর থানায় অভিযোগ করা হয়। একপর্যায়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে ভুক্তভোগীর স্বজনরা সাড়ে আট লাখ টাকা নিয়ে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে চান। তাঁরা প্রথমে রানীরবন্দর আসতে বলেন। পরে তাঁদেরকে টাকা নিয়ে দিনাজপুরের দশমাইল এলাকায় আসতে বলা হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ও সিআইডি মিলে দশমাইল মোড় থেকে তাঁদের আটক করে। আটকের পর প্রথমে চিরিরবন্দর থানা এবং পরে তাঁদের পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
এরপর চলে তাঁদের আটক নিয়ে লুকোচুরি। চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত চলছে। এখন বিস্তারিত বলা যাবে না।
এই ঘটনায় গতকাল বিকেলে লুৎফর রহমানের ভাই খলিলুর রহমান বাদী হয়ে চিরিরবন্দর থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন। সেই মামলায় আটক চারজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে দিনাজপুর আদালতে নেওয়া হয়। দিনাজপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালত-৪-এর বিচারক শিশির কুমার বসু তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ ব্যাপারে রংপুর সিআইডির ভারপ্রাপ্ত এসপি আতাউর রহমান বলেন, ‘তাঁরা আমার অনুমতি না নিয়ে চিরিরবন্দরে অভিযানে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে এএসআই হাসিনুর ও কনস্টেবল আহসানুল গত শনিবার থেকে ১০ দিনের ছুটিতে ছিলেন। তাঁরা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করে এবং অনুমতি ছাড়াই ভাড়া করা গাড়ি নিয়ে অভিযানে যান।’
সিআইডির ভারপ্রাপ্ত এসপি আরো জানান, কোনো অভিযানে গেলে জিডি করে যেতে হয়, সেটাও তাঁরা করেননি। এমনকি অভিযানের বিষয়ে লিখিত বা মৌখিকভাবেও অনুমতি নেননি তাঁরা।
ডেস্ক রিপোর্ট