পশ্চিম বাংলার জনপ্রিয় নিউজ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স চ্যানেল কলকাতা টিভির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবেনা, তার কারণ দর্শানোর জন্যে সাতদিনের নোটিশ পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। চিঠিতে তারা জানিয়েছে যে আপলিংক ও ডাউনলিংক সংক্রান্ত নিয়মাবলী সঠিক ভাবে পালন না করার জন্য কলকাতা টিভির লাইসেন্স বাতিল করা হবে যদি না কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়।
কলকাতা টিভির কর্ণধার কৌস্তভ রায় পুরো বিষয়টিকে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধের প্রয়াস বলে দেখছেন। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেছেন, প্রথমে আর্থিক দুর্নীতির কারণ দেখিয়ে আমাকে ইডির জেরার মুখে ফেলা হল। ইডির জেরায় যখন কিছু পাওয়া গেল না তখন সরাসরি কলকাতা টিভিরে বিরুদ্ধে লাইসেন্স বাতিলের এই হুঙ্কার। কারণ, কলকাতা টিভি সত্য কথা বলে। কোনও তোষণের রাস্তায় হাঁটে না। তাই, কলকাতা টিভির সম্প্রচার বন্ধ করার এই ঘৃণ্য অপচেষ্টা।
তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন যে সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার এই কেন্দ্রীয় চেষ্টার বিরুদ্ধে রাজনীতিবিদরাও সরব হবেন।
এরপরই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ওব্রায়েন টুইট করে বলেছেন, কেন্দ্রের মোদি সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললে কি হয় এটাই তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী তার সমালোচনা শুনতে পারেন না। তাই, তিনি টিভি কিংবা সংবাদপত্রের মুখ বন্ধ করতে চান। উল্লেখ্য, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে লেখা হয়েছে যে, ২০০৬ সালে এস এস টি মিডিয়াকে একটি নিউজ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার চ্যানেলের আপলিংক ও ডাউনলিংক এর অনুমতি দেওয়া হয়। নিয়ম অনুসারে এই অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৬ সালে। ২০১৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টের একটি রায়ে এস এস টি মিডিয়ার পরিচালন ভার যায় আর পি টেলিভিশনের হাতে। এরপর আর পি টেলিভিশন নিয়মানুগ পদ্ধতিতে আপলিংক, ডাউনলিংকের অনুমতি নিয়েছিল কিনা সেই তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে। তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া গেল যে, কলকাতা টিভি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই সম্প্রচার করছে, তাহলে পাঁচ বছর পরে টনক নড়লো কেন? তাও কলকাতা টিভি মোদির নীতির বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পর।
সুত্রঃ মানবজমিন