সুপার টুয়েলভ রাউন্ডে একমাত্র দল হিসেবে ৫ ম্যাচে ৫ জয় তুলে নিয়ে রূপকথা লিখে চলছিল পাকিস্তান। সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তারাই ছিল ফেভারিট। কিন্তু বাবর আজমদের এ স্বপ্নের দৌড় থামিয়ে ফাইনালে নাম লেখাল অস্ট্রেলিয়া। গতকাল দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান ৪ উইকেটে ১৭৬ রান সংগ্রহ করলেও অজিরা ৫ উইকেট ও ৬ বল হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।
রোববার এ মাঠেই ট্রান্স-তাসমান ফাইনালে মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। টি২০ বিশ্বকাপ এবার পাবে নতুন চ্যাম্পিয়ন। বলাবাহুল্য, মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। সেবার প্রথম শিরোপার জন্য খেলতে নামা কিউইদের কাঁদিয়ে পঞ্চম ওয়ানডে বিশ্বকাপ মুকুট জিতে নিয়েছিল অজিরা। রোববার দুবাইয়ে সেই হারের প্রতিশোধ নেয়ার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো কোনো বিশ্বকাপ শিরোপার স্বাদ পাওয়ার সুযোগ এসেছে কেন উইলিয়ামসনের দলের সামনে। কিউইরা ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরেছে ইংল্যান্ডের কাছে।
কাল জিততে শেষ দুই ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ২২ রান। কিন্তু শাহিন শাহ আফ্রিদির করা ১৯তম ওভারের শেষ তিন বলে টানা ছক্কা মেরে এক ওভার বাকি থাকতেই অস্ট্রেলিয়াকে অবিশ্বাস্য এক জয় উপহার দেন উইকেটকিপার ও ব্যাটার ওয়েড।
১৭৭ রান তাড়া করতে নেমে ডেভিড ওয়ার্নার ৩০ বলে ৪৯ রান করে দিলেও ৯৬ রানে ৫ উইকেট হারায় অজিরা। তখন ম্যাচের ভাগ্য দুলছিল পেন্ডুলামের সুতোর মতোই। সেখান থেকে মার্কাস স্টয়নিস (৩১ বলে ৪০*) ও ম্যাথু ওয়েডের (১৯ বলে ৪১*) জাদুকরী ব্যাটিংয়ে জয় পেল অস্ট্রেলিয়া। ষষ্ঠ উইকেটে ৪১ বলে ৮১ রানের অবিচ্ছিন্ন পার্টনারশিপে অস্ট্রেলিয়াকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন স্টয়নিস ও ওয়েড। এর মধ্যে ওয়েডই ছিলেন সবচেয়ে মারমুখী। ২ বাউন্ডারি ও ৪ ছক্কায় ৪১ রান করে তিনিই হয়েছেন ম্যাচসেরা। ওয়েড ৪০ রানের ইনিংস সাজিয়েছেন ২ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায়।
জয় শেষে অজি দলনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ বলেন, এটা দারুণ এক ক্রিকেট ম্যাচ। ম্যাথু ওয়েড যেভাবে স্নায়ু শক্ত রেখেছে তা অবিশ্বাস্য। মার্কাস স্টয়নিসের সঙ্গে তার পার্টনারশিপও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দিনশেষে বড় টার্গেটটা ছুঁয়ে ফেলতে পেরে আমরা আনন্দিত।