যশোরসহ খুলনা বিভাগের দশ জেলার মানুষের পাসপোর্ট নিয়ে ভোগান্তির দিন শেষ হচ্ছে। গত দু’মাসে যশোর অফিস থেকে ছাপা হয়েছে প্রায় অর্ধলাখ ই-পাসপোর্ট। তারপরও যশোর পাসপোর্ট অফিসে মানুষের লম্বা লাইন থেকেই যাচ্ছে। নতুন পাসপোর্ট প্রাপ্তিসহ নানা জটিলতায় গ্রাহকরা অফিসে ভিড় করছেন।
এদিকে, পাসপোর্ট সংক্রান্ত কয়েকটি জটিলতারোধে কর্তৃপক্ষ কয়েকটা নতুন পদক্ষেপ ও সফটওয়্যার যুক্ত করেছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
যশোর পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৩ অক্টোবর থেকে যশোরে ছাপা হচ্ছে আন্তর্জাতিকমানের ই-পাসপোর্ট। খুলনা বিভাগের দশ জেলা এ অফিসের আওতাভূক্ত। ছাপার জন্য দশ জেলা কর্তৃপক্ষকে পাসপোর্ট সংক্রান্ত নথিপত্র এখন আর ঢাকায় পাঠাতে হয় না। অনলাইনে আবেদন ও কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে নথিপত্র সরাসরি ডিএসবিতে তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দপ্তরে চলে যাচ্ছে। যা গ্রাহকরা অনলাইনে নির্দিষ্ট নম্বর দিয়ে সার্চ করে জানতে পারছেন তাদের আবেদনের সর্বশেষ তথ্য।
এদিকে, ৩ অক্টোবর যশোরে বিভাগীয় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ুব চৌধুরী। উদ্বোধনের পর থেকেই যশোরে চাকা ঘুরছে জার্মানিতে তৈরি আধুনিক পাসপোর্ট ছাপা মেশিনের। এ জন্য কাজ করছেন চারজন বিশেষজ্ঞ। এরমধ্যে দু’জন রয়েছেন বিদেশি। ৩ অক্টোবর থেকে চলতি ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দু’মাসে যশোরে ছাপা হয়েছে ৪৬ হাজার ৬৭০টি আন্তর্জাতিকমানের ই-পাসপোর্ট। যার মাধ্যমে যশোরসহ দশ জেলার মানুষের পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতার অনেকাংশে অবসান হয়েছে। এসব জেলার মানুষকে নতুন পাসপোর্ট পেতে এখন আর ঢাকার জন্য অপেক্ষায় বসে থাকতে হয় না। যশোর থেকেই পাসপোর্ট ছেপে পাঠানো হচ্ছে খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার অফিসে। বর্তমানে এ কার্যক্রম আরো সহজ করেছেন যশোর অফিস কর্তৃপক্ষ। যশোরসহ দশ জেলার নতুন গ্রহীতারা প্রদানের তারিখে যশোর অফিস থেকেই পাসপোর্ট গ্রহণ করতে পারবেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
তবে, নতুন এসব পদক্ষেপ গ্রহণের পরও পাসপোর্ট অফিসে মানুষের ভিড় কমছে না। প্রতিদিনই লেগে থাকছে লম্বা লাইন। আবেদনকারীর ছবি তোলা, আঙ্গুলের ছাপ ও আইরিশ দিতে একদিকে থাকছে লাইন, অপরদিকে নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহকারীদের থাকছে লম্বা লাইন। এছাড়া, বিভিন্ন সমস্যায় আগতদের জন্য থাকছে আরেকটি লাইন। ফলে ভিড় সামলাতে কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
যশোর পাসপোর্ট অফিস সূত্র জানিয়েছে, খুলনা বিভাগের দশ জেলার আবেদনকারীদের সফটওয়্যার জনিত কিছু সমস্যা রয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে কর্তৃপক্ষ নতুন অ্যাপ সংযোজন করতে যাচ্ছে। অনেক সময় কোন কোন আবেদনকারীর চেহারা, হাতের আঙ্গুলের ছাপ বা আইরিশ অন্য কারোর সাথে মিলে যায়। তখন কেন্দ্রীয় সার্ভার সেসব আবেদন আটকে দেয়। পরবর্তীতে অভিযোগের প্রেক্ষিতে মেন্যুয়াল প্রক্রিয়ায় ই-মেইলের মাধ্যমে ঢাকায় তথ্য পাঠিয়ে সেগুলো ছাড়ানো হয়। এ সমস্যার সমাধানে নতুন সফটওয়্যার সংযোজন করে দ্রুতই সমাধান করা হচ্ছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে যশোর পাসপোর্ট অফিসের উপ পরিচালক নূরুল হুদা বলেন, পাসপোর্ট ছাপার যে কার্যক্রম আগে ঢাকায় হতো, সেটি গত দু’মাস যশোরে হচ্ছে। এ কাজে বেশি সুফল ভোগ করছে যশোরের মানুষ। ইতিমধ্যে যশোরে ৪৬ হাজার ৬৭০টি নতুন ই-পাসপোর্ট ছাপা হয়েছে। যার সবই যশোরসহ দশ জেলার মানুষের। পাসপোর্ট সংক্রান্ত কারো কোন জটিলতা থাকলে দালালের কাছে না গিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করার জন্য তিনি অনুরোধ জানান। এছাড়া সমস্যা সমাধানে সার্ভারে নতুন একটি সফটওয়্যার চলতি মাসেই যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকদের সকল জটিলতার সমাধান হবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের জুন মাস নাগাদ দেশে মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের কার্যক্রম শেষ হয়। এরপর দেশ ই-পাসপোর্টের যুগে প্রবেশ করে। বিশ্বের ১২০টি দেশে বর্তমানে ইলেক্ট্রনিক্স পাসপোর্টের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালের ২৮ জুন যশোর অফিসে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। ই-পাসপোর্ট হলো একটি বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট, যাতে এমবেডেড ইলেট্রনিক্স মাইক্রোপ্রসেসর চিপ রয়েছে। এ চিপের মধ্যে বায়োমেট্রিক তথ্য থাকে, যা পাসপোর্টধারীর পরিচয় প্রমাণের জন্য ব্যবহার হয়ে তাকে। এতে রয়েছে ব্যবহারকারীর ছবি, দশ আঙ্গুলের ছাপ, চোখের আইরিশসহ তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক যাবতীয় তথ্য। এ কারণে পাসপোর্ট জালিয়াতির কোন সুযোগ নেই। আর নতুন ই-পাসপোর্ট বা নবায়নের আবেদন ও টাকা জমাসহ এ সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে। এ কাজে হাতে লেখা কাগজের কোন ব্যবহার নেই বললেই চলে।