রেজাউল করিম লিটনঃ
চুয়াডাঙ্গার সদর উপজেলার বদরগঞ্জ বাজারে বাকি বিল্লাহ বাবলু নামের পল্লী চিকিৎসকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার বিকেলে বদরগঞ্জ বাজারে নিজ ওষুধের দোকান থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এরপর সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান (সদর সার্কেল) ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহাব্বুর রহমান।
ওসি মাহাব্বুর রহমান বলেন , বাবলু ওষুধ ব্যবসার পাশাপাশি পল্লী চিকিৎসক ছিলেন। স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের মাধ্যমে জেনেছি তিনি বিভিন্ন মানুষের থেকে ধার নেয়া টাকা ফেরত দিতে পারছিলেন না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যা নাকি আত্মহত্যা-খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বাকি বিল্লাহ (৫০) সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের দশমী গ্রামের বসির উদ্দিন মিয়ার ছেলে। তিনি বদরগঞ্জ বাজার কমিটির ক্যাশিয়ার ছিলেন।
বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, বাকি বিল্লাহ দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। কয়েক বছর আগে দেশে ফিরে তিনি বদরগঞ্জ বাজারে একটি ওষুধের দোকান দেন। এর মধ্যে তিনি বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি বদরগঞ্জ বাজার কমিটির ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে ফেলেছিলেন। টাকার জন্য সবাই তাকে চাপ দিচ্ছিল। তাই পাওনাদারদের চাপে তিনি নিজ ফার্মেসিতে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বদরগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি মিণ্টু বলেন, বাজারে ২৫ সদস্যের একটি সমিতি আছে। সমিতির সদস্যরা প্রতিদিন ৪০০ টাকা করে জমা দেন। ১০ দিন পরপর লটারির মাধ্যমে সেসব টাকা একজনকে দেওয়া হতো। এই সমিতির ক্যাশিয়ার ছিলেন বাকি বিল্লাহ। তিনি কাউকে না জানিয়ে সমিতির ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করেছিলেন। কয়েকবার মিটিংয়ের পর তিনি ১ লাখ ২০ হাজার ফেরত দেন। বাকি টাকা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাকে ৬ মাসের সময় দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলেন। অনেকেই ধারণা করছে, বাকি বিল্লাহ বিভিন্ন মানুষের থেকে ধার ও সমিতির টাকা ফেরত দিতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন।
বাবলুর ছেলে আমির হাসান জানান, তার বাবা দীর্ঘদিন ধরে পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে পারছিলেন না।