ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

চুয়াডাঙ্গার ৮ ইউনিয়নে ভোট, ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট হবে

রেজাউল করিম লিটনঃ

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও আলমডাঙ্গা উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের ভোট অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (১৬ মার্চ)। জীবননগরের উথলী, কেডিকে, মনোহরপুর, বাঁকা, হাসাদাহ ও রায়পুর এবং আলমডাঙ্গার নাগদাহ ও আইলহাস ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমবারের মতো ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ভোট হবে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আলমডাঙ্গা উপজেলার ২টি ইউনিযনে ১৮ টি কেন্দ্রে এবং জীবননগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৫৪টি ভোটকেন্দ্রের ২৬১টি ভোটকক্ষে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট চলবে। চেয়ারম্যান প্রার্থী ও সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ছিলো প্রতিটি ইউনিয়নের হাট-বাজার থেকে শুরু করে এলাকার অলিগলি। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারনায় বাধা দেয়া ও কর্মীদের উপর হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় সুষ্ঠ নিরপেক্ষ- ভোট গ্রহন হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

সুষ্ঠু নির্বাচন না হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশসহ নানা হুমকি ও প্রাণনাশের অভিযোগে জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যায় রায়পুর গ্রামের নিজ বাড়ীতে সংবাদ সম্মেলন ওই ইউনিয়ন নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ঘোড়া প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুর রশীদ শাহ্।

এর আগে ১১ মার্চ একই অভিযোগে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন উথলী ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবজালুর রহমান ধীরু। ৯ মার্চ হাসাদহ ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী ইসরাইল হোসেন জীবননগর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠ নির্বাচন ও কর্মীদের জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা দাবী করেন। একই চিত্র আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ও আইলহাস ইউনিয়নে।

এদিকে আজ চুয়াডাঙ্গায় আসছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আহসান হাবিব খান। তিনি জীবননগর ইউনিয়নসমুহের ভোট কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করবেন।

আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউপিতে মোট ভোটার ১০ হাজার ৩৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৭৮১ এবং নারী ৩ হাজার ৫৭৬ জন। আইলহাস ইউপিতে মোট ভোটার ১২ হাজার ৪৫৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ হাজার ৩১০ এবং নারী ৬ হাজার ১৪৮ জন। দুটি ইউনিয়নের ১৮ টি ভোট কেন্দ্র।

জীবননগর উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ৮৩হাজার ৭৮৫জন। এর মধ্যে উথলী ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৫ হাজার ১৫৩জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭হাজার ৬১৪জন এবং নারী ভোটার ৭হাজার ৫৩৯জন।

কে.ডি.কে ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৩হাজার ৮৯৪জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬হাজার ৬৯২জন এবং নারী ভোটার ৬হাজার ৯০২জন,মনোহরপুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৩হাজার ৪৬১জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬হাজার ৭৮৩জন,নারী ভোটার ৬হাজার ৬৭৮জন,বাঁকা ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ১৫হাজার ১৪৫জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭হাজার ৫৮৪জন,নারী ভোটার ৭হাজার ৫৬১জন, হাসাদহ ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৫হাজার ৮৫৬জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৭হাজার৯০১জন, নারী ভোটার ৭হাজার ৯৫৫জন এবং রায়পুর ইউনিয়নে মোট ভোটার ১০হাজার২৭৬জন এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫হাজার ২৫৭জন এবং নারী ভোটার ৫হাজার ১৯জন।

নির্বাচনে ৫৪টি কেন্দ্রে ১জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ২জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। প্রতিকেন্দ্রে ২জন করে মোট ৫২২জন পোলিং অফিসার থাকবেন। প্রতিটি ভোট কক্ষে ১টি করে ২৬১টি ইভিএম মেশিন থাকবে। এছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে ১টি করে মোট ১৩০টি অতিরিক্ত ইভিএম মেশিন থাকবে বলেও জানান উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মেজর আহাম্মেদ। তিনি আরও জানান, কোনো কারণে ইভিএম মেশিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প ইভিএম মেশিনে ভোট হবে।

জেলা সদর নির্বাচন কর্মকর্তা ও রির্টানিং অফিসার কামরুল হাসান বলেন, নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি স¤পন্ন করা হয়েছে। সবার সহযোগিতা পেলে একটি ভালো নির্বাচন দেওয়া সম্ভব হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ৬ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ৬টি ম্যাজিস্ট্রেট টিম ও ২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়ন থাকবে। যাযাদি/ এম

;