সেলিম আবেদ, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা ডুমুরিয়ার টিপনা-কদমতলা সড়ক ৯ কিলোমিটার সড়কের অর্ধেক বিটুমিন ও খোয়া উঠে গিয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। কোথাও বড় অংশজুড়ে নেই পিচের আস্তিত্ব। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে মাল ও যাত্রাবহী গাড়ি চলাচল করছে। পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। জানা গেছে, খুলনার ডুমুুরিয়া উপজেলার টিপনা নতুনরাস্তা মোড়। মোড় থেকে ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘের টিপনা-কদমতলা সড়ক গিয়ে মিশেছে কদমতলা নদীর খেয়াঘাটে। এই খেয়াঘাটটি পার হলেই মাগুরখালী ইউনিয়ন। যার পশ্চিম সিমানা ছুঁয়েছে পাইকগাছা উপজেলায়। অন্যদিকে সড়কটির উৎপত্তি খর্ণিয়া ইউনিয়ন হলেও মাঝে দুইপাশ জুড়ে রয়েছে ৭নং শোভনা ইউনিয়ন। ফলে প্রতিনিয়ত তিনটি ইউনিয়নের মানুষ সড়কটি ব্যবহার করে। এছাড়া এলাকার উৎপাদিত শাক-সবজি ও মাছ বাজারজাত করণেও সড়কটি ব্যবহৃত হয়। স্থানীয় বাসিন্দা সন্দিপন বিশ্বাস জানান, প্রতি মঙ্গলবার শোভনা ইউনিয়নের জিয়ালতলা নামকস্থানে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান হয়। সেখানে অংশ নিতে অন্তত ৯ থেকে ১০টি বাস ও ২০ থেকে ২২টি মাহেন্দ্র- ইজিবাইক এ সড়কে চলাচল করে। সরেজমিন দেখা গেছে , সাড়ে ৮ কিলোমিটার সড়ক জুড়েই ছোট-বড় গর্ত। অনেক স্থানে বিটুমিন উঠে ছিটকে পড়েছে। কোথাও কোথাও লাল খোয়া বের হয়ে পড়েছে । চলতি বর্ষায় গর্তে পানি ও কাঁদা জমে সীমাহীন ভোগান্তি তৈরি করছে। সড়কটিতে ১০ বছর ধরে মোটরসাইকেলে যাত্রী বহন করেন হুমায়ুন কবির। তার বাড়ি গোনালী গ্রামে। তিনি জানান, দুই বছর আগে সড়কটি সংস্কার করা হয়। অথচ এরমধ্যেই সড়কটি ব্যবহারের উপযোগী নেই। চরম ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীবহন করতে হচ্ছে। এলাকার অনেক সচেতন মহল বলেন, সড়কটি টেকসই উন্নয়ন করা হয়নি সে কারণে স্বল্প সময়ের মধ্যে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন এই সড়কে মালবাহী ভ্যান গাড়ি পার করতে দুই-তিন জন লোক লাগে। সময়ও নষ্ট হয়। ভ্যান চালক দুলাল দেব নাথ বলেন, চারজন মানুষ নিয়ে এ সড়কে গাড়ি চালানো বর্তমানে কঠিন হয়ে পড়ছে। ভাঙাচোরা স্থানে গাড়ির চাকা পড়লেই যাত্রী নামিয়ে গাড়ি উঠাতে হয়। অনেক সময় গাড়ির চাকা বেঁকেও যায়।
জিয়ালতলা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যাত্রী বাস চালক সবুজ সরদার বলেন, সরু রাস্তা, এরপর পুরো সড়ক ভাঙাচোরা। রাতে বেশ ঝুঁকি নিয়েই গাড়ি চালাতে হয়। ওই বাসের যাত্রী পরিমল মন্ডল বলেন, বাস হেলেদুলে চলে। ফলে বাসে এইটুকু সড়ক বসে যেতে কোমরে ব্যাথা হয়ে যায়। সেই রাতে ভয়ও কাজ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জ্যোস্না এন্টারপ্রাইজ সড়কের একাংশের কাজ বাস্তবায়ন করে। বাস্তবায়নের সময়ই নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারে অভিযোগ ওঠে। এলাকাবাসী প্রতিবাদও করেছিল। কিন্তু এলজিইডি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তা কানে নেয়নি। জনগণকে এখন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, সড়কটি সংস্কারের সময় তিনি এই কর্মস্থলে ছিলেন না। তবে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন হলেই কাজ আরম্ভ করা যাবে।