বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গত ১২ জুন বুধবার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ‘ইউনিয়নে মাদ্রাসায়ে নূর মাদিনা’ মাদরাসার মাঠে অনুষ্ঠিত হলো’বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশন চৌদ্দশত’ এর আয়োজনে এবং মাদ্রাসায়ে নূর মাদিনা’র সহযোগিতায় ফ্রি ব্লাড ক্যাম্পিং। সকাল ১০ টা হতে এটি চলে বিকেল তিনটা পর্যন্ত।
এতে প্রধান অতিথি ছিলেন মাদ্রাসায়ে নূর মাদিনা’রমাদ্রাসায়ে নূর মাদিনা’র পরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি আবু হানিফ নূরী।
ব্লাড গ্রুপ পরিক্ষার জন্য ছিলেন ,সনিয়া হোসাইন ঝুমা এবং ফাহমিদা সুলতানা পাখি।
সহযোগিতায় ছিলেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশ চৌদ্দশত) , ইয়াহইয়া মাহমুদ (সিনিয়র সভাপতি- বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশ চৌদ্দশত), জাকারিয়া সাদি (সাধারণ সম্পাদক- বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশ চৌদ্দশত), মোঃ আজহারুল ইসলাম ( সহ-সভাপতি-বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশ চৌদ্দশত’)।
উক্ত ক্যাম্পিং-এ ১০৩ জন ব্যাক্তির শতভাগ নির্ভুল ভাবে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়৷ তাদের মধ্যে এ পজিটিভ- ২৮ জন, বি পজিটিভ-৩০ জন, ও পজিটিভ- ৩২ জন, এবি পজিটিভ- ৮জন, এ নেগেটিভ- ৩ জন, বি নেগেটিভ- ২জন ছিলেন। এদের মধ্যে অধিকাংশ মাদ্রাসায়ে নূর মাদিনা’র ছাত্র ছিলেন এবং কিছু বাকিরা স্থানীয় বাসিন্দা ছিলেন।
দ্বিতীয় পর্বে ছাত্র এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা এবং ‘বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশ চৌদ্দশত’ সকল কার্যক্রম সম্পর্কে মাদ্রাসায়ে নূর মাদিনা’র পরিচালক হাফেজ মাওলানা মুফতি আবু হানিফ নূরী তার বক্তব্যে বলেন,আলহামদুলিল্লাহ আজ আমি খুবই আনন্দিত এবং নিজেকে এমন মহৎ কাজে সামিল রাখাতে খুবই উৎফুল্ল বোধ করছি এবং বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশন চৌদশত পরিবারের সামনের দিন গুলো যেন আরো সুন্দর ভাবে মানুষের সেবা করতে পারে সে-ই কামনা করছি এবং আমি আজ থেকে বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশন চৌদশত পরিবারের একজন সদস্য মনে করছি,
তাই যেকোন মানবিক কাজে যদি আমাকে সামিল রাখা হয় তাহলে আমি খুবই খুশী হইবো আলহামদুলিল্লাহ। ইনশাআল্লাহ আমার সাদ্য অনুযায়ী অসহায়ের পাশে দাঁড়াবার চেষ্টা করবো। দোয়া চাই সকলের কাছে দ্বীন ও দেশের সেবাই যেন সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি ধন্যবাদ সবাইকে।
‘বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশ চৌদ্দশত’ সংগঠনেরর প্রতিষ্টাতা পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,আলহামদুলিল্লাহ আমি নিজেও ৫ বার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রক্তদান করেছি এবং কত মানুষ আছে যারা একটু রক্ত না পাওয়ার জন্য মৃত্যুর পথে অগ্রসর হয়েছে, আমরা কি পারিনা রক্তদান করে তাদেরকে সুস্থ করে তুলতে ,সকলে সুস্থ থাকলে সুন্দর একটা পরিবেশ গঠিত হয়, আর আমরা জানি যে রক্তদান করলে কোন ক্ষতি হয়না বরং নিজেদের শরীরে নতুন রক্ত তৈরি হয় তাই আসুন ধর্মের বিচার না করে চলুন রক্তদান শিবিরে । ।
ইয়াহইয়া মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ!আমি ৫ বার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রক্তদান করেছি এবং আমি বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশন চৌদশত পরিবারের একজন কর্মী হয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।
কারণ আমি একেবারে কাছে গিয়ে অসহায় মানুষের জন্য একটু হাসির কারণ হতে পেরেছি। এটাই আমার জীবনের সব থেকে বড় পাওনা বলে মনে করছি আমি।
সামনের দিনেও যেন দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পারি সেজন্য দোয়া চাই।
জাকারিয়া সাদি তার বক্তব্যে বলেন,আলহামদুলিল্লাহ আমি ৫ বার বিনা মূল্যে রক্তদান করেছি।
অল্প কিছু রক্তদান ব্যর্থ যাবে না এ মহ্ৎ দান ,বিফলে যাবে না, হবে না নষ্ট, বাঁচবে একটি জীবন আস্ত!।
মোঃ আজহারুল ইসলাম তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, মানবিক কাজে অংশগ্রহণ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলা আমাদের সংগঠনেরর মূল্য উদ্দেশ্য।
আমি ইতিমধ্যে ৫ বার রক্তদান করেছি এবং ৬ষ্ঠ বারের অপেক্ষায় আছি। আসুন আমরা সবাই রক্তদানে এগিয়ে আসি, মুমূর্ষু রোগীর মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করি।
সর্বশেষ, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়কারী সনিয়া হোসাইন ঝুমা বলেন, বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশন চৌদ্দশত হচ্ছে একটি মানবিক সংগঠন, যেইখানে কাজ করতে পারা মানে নিজেকে একজন মানবিক মানুষ হিসাবে তৈরি করা! মানুষের সেবাই নিজের সর্বোচ্চ টা দিয়ে চেষ্টা করা ,আজকে বন্ধুমহল ব্লাড ফাউন্ডেশন চৌদ্দশত এর ফ্রী ব্লাড গ্রুপ ক্যাম্পিং একটা আহবান হিসাবে মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পরেছে,যাতে মানুষ বিনামূল্যে তার ব্লাড গ্রুপ টা জানতে পারে, মানুষ যেন নিজেও সচেতন হতে পারে এবং অপরকেও সচেতন করতে পারে, রক্তের জন্য মানুষকে যাতে হয়রানি না হতে হয় এটাই ক্যাম্পিং এর উদ্দেশ্য ছিলো!
এবং ফাহমিদা সুলতানা পাখি বলেন, এসব খুবই ভাল উদ্যোগ। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, “জীবে প্রেম করে যেই জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। তিনি বলেন, ১৮ থেকে ৬০ বছরের যে কোন সুস্থ ব্যক্তি রক্তদান করতে পারেন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ব্যক্তি, ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী, থেলাসেমিয়া রোগী, রক্তাল্পতায় আক্রান্ত রোগীদের অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার জন্য রক্তের প্রয়োজন হয়। তাই প্রতিনিয়ত রক্তের প্রয়োজন। রক্তদান করার মাধ্যমে আমরা ঐসব রোগীদের প্রাণ বাচাতে পারি।
মাদ্রাসায়ে নূর মাদিনা’র কর্তৃপক্ষ অংশগ্রহনকারীদেরকে দুপুরের খাবারে আপ্যায়িত করেন।