দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও পর্যটন (ট্যুরিস্ট) ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত।
বৃহস্পতিবার (২৫) রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে (আইভ্যাক) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী এই ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, দেশের পাঁচটি কেন্দ্রের মাধ্যমে এই ভিসা সেবা দেওয়া হবে। সেগুলো হলো: ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা।
এর আগে, দিনেশ ত্রিবেদী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেন।
আজ দুপুরে বঙ্গভবনে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরিচয়পত্র পেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য বৈঠক করেন।
বৈঠক শেষে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন যে, তার কর্মকাল বাংলাদেশ-ভারত পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ়, ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে সহায়ক হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে সব ধরনের ভিসা সীমিত করে ভারত। পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় ট্যুরিস্ট ভিসা। এর মধ্যে কেটে গেছে প্রায় দুই বছর।
এরপর বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই ভারতে দেশটির নাগরিকদের জন্য স্থগিত থাকা ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া কবে স্বাভাবিক হবে তা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত আসছিল না।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছিল, নিরাপত্তা উদ্বেগ, জনবল সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে পুরো কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। এরই মধ্যে নতুন হাইকমিশনার আসার পর ট্যুরিস্ট ভিসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আলোচনা ছিল।
গত ১২ জুন ঢাকায় এসেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। স্থলপথে বেনাপোল দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা মিলেমিশে ভিসার সমাধান করব। আমাদের শুধু অভিন্ন সীমান্ত নেই, অভিন্ন স্বপ্নও আছে। আমাদের আকাশ এক, বাতাস এক, চ্যালেঞ্জও অনেক ক্ষেত্রে এক। তাই আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। ভালোবাসা আর পারস্পরিক আন্তরিকতার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।
দীনেশ ত্রিবেদীর ওই বক্তব্যে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হওয়ার আভাস মিলেছিল। আজ সে কথা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন।
যমুনায় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে হাইকমিশনার বলেন, যখন সীমান্তে আপনাদের মুখোমুখি হয়েছি, ওই সময় প্রথম প্রশ্ন আমাকে করা হয়েছিল, ভিসার কী হবে? ওই জিনিসটা আমার মাথায় ছিল যে ভিসা কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষের জন্য।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নিয়মিত ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হচ্ছে। আগামী ২৮ জুন থেকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় পর্যটক ভিসার আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, হাইকমিশনার হিসেবে আমি প্রথম এই জিনিসটা করলাম। আমি অনেক খুশি, আর আশা করি যে এখানকার সাধারণ মানুষও খুশি হবেন।
হাইকমিশনার বলেন, আরও গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে মেডিকেল। জরুরি ভিত্তিতে মেডিকেল ভিসার আবেদন গ্রহণের কার্যক্রম আগের মতোই চলমান থাকবে।
প্রাথমিকভাবে পাঁচটি ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে আগে যেসব ভিসা সেন্টার চালু ছিল, পর্যায়ক্রমে সেগুলোও পুনরায় চালু করা হবে বলে জানান তিনি।
ভিসা সেন্টারে শিশুদের জন্য আলাদা জায়গা তৈরির উদ্যোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক বাচ্চারা আসে, তাদের জন্য একটা আলাদা ঘর দরকার, যেখানে বাচ্চাদের জন্য খেলনা, কিছু খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। (অভিভাবকদের) যদি অপেক্ষা করতে হয়, সেক্ষেত্রে বাচ্চাদের অনেকসময় সমস্যা হয়। আবার যারা হুইলচেয়ারে আসেন, তাদের জন্য র্যাম্পের যদি দরকার হয়, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ইউএনবি।