সেলিম আবেদ, খুলনা প্রতিনিধি
‘এতো বড় নারীদের স্কুলে কোনো নারী শিক্ষকই নেই, ভাবা যায়! মেয়েরা কেবল একজন নারী শিক্ষকের কাছেই ‘ফ্রি’ কথা বলতে পারে, যা পুরুষ শিক্ষকের কাছে বলা সম্ভব না।’ ডুমুরিয়া সদরের একমাত্র সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১ জনও নারী শিক্ষক না থাকা প্রসঙ্গে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্রী দীপ-সরণী হৈমন্তি।’ খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা সদরে ২৫৯ ছাত্রীর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে গত ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে ১ জনও নারী শিক্ষক নেই। নেই কোনো সরকারি আয়া, পিয়ন, নৈশ-প্রহরী ও অফিস সহকারী। এই অবস্থায় ছাত্রী ও অভিভাবকদের নানামুখি সমস্যা পোহাতে হচ্ছে। সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের অফিস সুত্রে জানা গেছে, ডমুরিয়ায় নারী শিক্ষার বিকাশ ঘটাতে ১৯৭৭ সালে ডুমুরিয়া যুব সংঘ’র উদ্যোগে ডুমুরিয়া বাস-স্ট্যান্ডের পাশেই ২ একর ৩৭ শতাং জমির ওপর বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং ১৯৮৮ সালে তদানিন্তন সরকারের মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল এইচ.এম.এ গাফ্ফার (বীর উত্তম)’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি সরকারি করণ হয়।
বিদ্যালয়টির শুরু থেকে সরকারি নিয়মানুসারে নারী শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় নারী শিক্ষকরা অবসরে যেতে যেতে বিগত ২ বছর আগে শ্রেণি শিক্ষক কাবেরি গাইন বদলী হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ে আর কোনো নারী শিক্ষক নেই। আর প্রধান শিক্ষক সালমা রহমান ’২৫ সালের ১৭ এপ্রিল অবসরে যাওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়টিতে কোনো নারী শিক্ষকই নেই। বর্তমানে ৯ জন শিক্ষক থাকলেও ভৌত-বিজ্ঞানসহ ২ শিক্ষকের পদ শুন্য। এখানে উল্লেখ্য বিদ্যালটিতে সরকারি কোনো আয়া, পিয়ন ও অফিস সহকারী, নৈশপ্রহরী ও অফিস সহায়কও নেই। বিদ্যালয়ে ১ জনও নারী শিক্ষক না থাকায় নানা রকম মেয়েলি সমস্যা দেখা দিলে ছাত্রীরা কথা বলার মতো কোনো ম্যাডাম না পেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে। তাছাড়া নারী অভিবাবকরা স্কুলে যেয়ে যেকোনো বিষয়ে আলোচনার সময় কিছুটা অস্বস্থি অনুভব করেন। এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, আমরা প্রত্যেকেই মেয়ে। আমাদের কিছু বায়োলজিক্যাল প্রব্লেম থাকে। যা স্যারদের সঙ্গে বলা সম্ভব না। তাছাড়া একজন গার্লসই পারে আর একজন সার্লসের সমস্যা বুঝতে। ৯ম শ্রেণির রেজওয়ানা কবির সাবামনি বলেন, শারীরিক শিক্ষা বা বায়োলজি পড়ার সময় নারী শিক্ষক না থাকায় আমরা সব-কিছু পর্যালোচনা করতে পারি না। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রতন বিশ্বাস বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ে নারী শিক্ষক না থাকার বিষয়টি বার-বার কর্তৃপক্ষ-কে জানাচ্ছি। পাশাপাশি ভৌত-বিজ্ঞান(পদার্থ-রসায়ন) পড়ানোর শিক্ষকও জরুরি প্রয়োজন। ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও বিদ্যালয়টির সভাপতি সবিতা সরকার বলেন, সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আমি দেখবো। মাধ্যমিক ও উচ্চ-শিক্ষা বিভাগের খুলনা অঞ্চলিক উপ-পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, আমি মহা-পরিচালক মহাপরিচালক মহোদয়-কে জানিয়েছি। এ বিষয়ে মহা-পরিচালক মহাপরিচালক, ঢাকা-কে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও রিসিভ হয়নি। খুলনা- ৫(ডুমুরিয়া-ফুলতলা) সাংসদ আলি আসগর লবি বলেন, ওখানে নারী শিক্ষকের ব্যবস্থা করতে আমি ডিজি’র সঙ্গে কথা বলবো।