লিবিয়ার মিজদাহে ২৭ মে ব্রাশফায়ারে প্রাণে বেঁচে যাওয়া বাংলাদেশিরা গত সপ্তাহে ঢাকায় ফিরেছেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) গতকাল শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে।
আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে লিবিয়া থেকে ১৬৪ জন অভিবাসী স্বেচ্ছায় দেশে ফিরে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে মিজদাহে মর্মান্তিক গুলির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ৯ বাংলাদেশি আছেন। উল্লেখ্য, গত ২৭ মে মিজদাহে মানবপাচারকারীদের গুলিতে ২৬ বাংলাদেশিসহ ৩০ জন অভিবাসী নিহত হন। পরে তাঁদের সেখানেই দাফন করা হয়।
আইওএম জানায়, বিশেষ বিমানে গত সপ্তাহে যাঁরা বাংলাদেশে ফিরেছেন, তাঁদের মধ্যে ৩৯ জন অসুস্থও ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আইওএমের মেডিক্যাল কর্মীরাও ছিলেন। ফিরে আসা বাংলাদেশিরা সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোয়ারেন্টিনে আছেন। কোয়ারেন্টিন শেষ হলে আইওএম তাঁদের বিশেষায়িত সেবা দেবে। লিবিয়ায় আটকে থাকা অবস্থায় যাঁদের ওপর শারীরিক ও মানসিক ধকল গেছে, তাঁদের জন্য এই সেবা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
আইওএম জানায়, মিজদাহর ভয়ংকর ঘটনায় ১১ জন গুরুতর আহত হয়েছিলেন। আইওএম ও এর অংশীদাররা কয়েক মাস ধরে তাঁদের সহযোগিতা দিয়েছে।
সাইদ খান নামের এক বাংলাদেশি বলেন, ‘আমি সেই ঘটনা ভুলতে পারি না। আমি যেন দুঃস্বপ্নের মধ্যে ছিলাম। দেশে ফিরে আসার মতো সুস্থ হতে আমার চার মাস লেগেছে। আমাদের অনেকেই এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি। আমরা এখনো ভীতসন্ত্রস্ত। লিবিয়ায় চিকিৎসাসহ অন্যান্য সহায়তা এবং বাংলাদেশে ফিরে আসার ফ্লাইটের ব্যবস্থা করার জন্য আমি আইওএম ও বাংলাদেশ সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ।’
বাংলাদেশে আইওএমের মিশনপ্রধান জিওরগি গিগৌরি বলেন, ‘কভিড-১৯ বিশ্বজুড়ে অভিবাসী কর্মীদের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। ঝুঁকিতে থাকা অভিবাসীদের কাছে পৌঁছাতে চলাচলসহ অন্যান্য বিধি-নিষেধ কাটিয়ে উঠতে আমরা চেষ্টা করছি। অভিবাসীদের স্বাস্থ্য, আশ্রয়, খাদ্য ও কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বাংলাদেশ সরকার, বিশেষ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছি। এ ছাড়া সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা অভিবাসীদের আমরা দেশে ফিরিয়ে আনছি।’
প্রবাহঅনলাইন ডেক্স