ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান করতে এসংক্রান্ত আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি গতকাল গণমাধ্যমকে বলেছেন, বর্তমান আইনের সাজায় পরিবর্তন এনে ধর্ষকদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইন সংশোধনের প্রস্তাব করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এই প্রস্তাব করা হচ্ছে। আগামী ১২ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব তোলা হবে।
সারা দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। সর্বশেষ নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এ নিয়ে সারা দেশে আন্দোলন চলছে। আজ শুক্রবার শাহবাগ চত্বরে মহাসমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিল।
ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩৭৬ ধারায় ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯ নম্বর ধারায়ও ধর্ষণের ঘটনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের কথা বলা আছে। তবে এ আইনে ধর্ষণের ফলে মৃত্যু হলে সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের কথা বলা আছে। যদিও ভারত, ইরান, চীন, গ্রিস, রাশিয়াসহ এশিয়া-ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ধর্ষণের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড, শিরশ্ছেদ, প্রকাশ্যে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান প্রচলিত আছে।
ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়ে মঙ্গলবার ছাত্রলীগের আইন সম্পাদক মোহাম্মদ ফুয়াদ হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট রাশিদা চৌধুরী নিলু সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠান।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করার দাবিতে সমর্থন জানিয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘এদের ছোটখাটো লঘুদণ্ড দিয়ে লাভ নেই। সর্বোচ্চ বিচারের যে দাবি উঠেছে, আমার মনে হয় এটা অযৌক্তিক নয়। এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনকে আপসহীন মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।’
প্রবাহ অনলাইন ডেক্স