বন্ধ হয়ে যাওয়া মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) ডেসটিনির সক্রিয় কর্মী ছিলেন আল আমিন প্রধান। সেখানে থাকতেই স্বপ্ন দেখেছিলেন বিশ্বসেরা ধনীদের একজন হবেন তিনি। প্রতারণার অভিযোগে কোম্পানিটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি হতাশ হন। কিন্তু ধনী হওয়ার স্বপ্ন তার ফুরিয়ে যায়নি। শেষ পর্যন্ত ই-কমার্স ব্যবসার নামে অনলাইনে খুলে বসেন ‘এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস’ নামে এমএলএম কোম্পানি।সেখানে ২২ লাখ ব্যক্তিকে সদস্য বানিয়ে আল আমিন হাতিয়ে নেন ২৬৮ কোটি টাকা। কিন্তু সে টাকার পুরোটা আত্মসাতের আগেই পাঁচ সহযোগীকে নিয়ে ধরা পড়ে গেছেন তিনি। সোমবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার ক্রাইম সদস্যরা এ অভিযান চালান।
আল আমিন প্রধান এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও। গ্রেপ্তার অপর পাঁচজন হলেন- প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জসিম, ব্যবস্থাপক মানিক মিয়া, ব্যবস্থাপক তানভীর আহম্মেদ, সহকারী ব্যবস্থাপক পাভেল সরকার এবং অফিস সহকারী নাদিম মো. ইয়াসির উল্লাহ। তাদের কাছ থেকে একটি হ্যারিয়ার গাড়ি, দুটি পিকআপভ্যান, সার্ভারে ব্যবহূত ছয়টি ল্যাপটপ, দুটি পাসপোর্ট ও বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে প্রতারণায় জড়িত প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিবি কর্মকর্তারা। সেখানে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) একেএম হাফিজ আক্তার বলেন, এসপিসি ওয়ার্ল্ড এক্সপ্রেস ই-কমার্সের নামে এমএলএম পরিচালনা করে সাধারণ মানুষকে বেশি কমিশনের প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল তারা। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কোম্পনিটি খুলে এ পর্যন্ত হাতিয়ে নিয়েছে ২৬৮ কোটি টাকা। প্রথম ধাপে লোকজনকে কিছু টাকা ফেরত দেওয়া হলেও পরে বাকি টাকা নিজেরাই পকেটে ভরেছে তারা।
ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের ডিসি মীর মোদ্দাছ্ছের হোসেন বলেন, গুগল প্লে স্টোর থেকে প্রতিষ্ঠানটির অ্যাপ নামানো যেত। এখানে সদস্য হতে প্রত্যেককে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১২০০ টাকা দিতে হতো। এর বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটি নামমাত্র কিছু পণ্য হাতে ধরিয়ে দিত। প্রথম গ্রাহক আরও তিনজনকে সদস্য করতে পারলে সেখান থেকেও কমিশন পেতেন। অন্য যে কোনো এমএলএম ব্যবসার মতো এখানেও প্রথম দিকে গ্রাহকদের লাভ হচ্ছিল। ১০ মাসে প্রতিষ্ঠানটি ২২ লাখ ২৫ হাজার ব্যক্তিকে যুক্ত করতে সক্ষম হয়। এদের মধ্যে ১৭টি দেশের প্রবাসী বাংলাদেশি সদস্য রয়েছেন অন্তত পাঁচ লাখ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে আটটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট মিলেছে। এগুলো যাচাই করা হচ্ছে। সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের সিনিয়র সহকারী কমিশনার নাজমুল হাসান বলেন, এই প্রতারক চক্রের মূল হোতা আল আমিনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
প্রবাহঅনলাইন ডেস্ক