ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

অর্থ হাতিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে পালালো ভুয়া এনজিও

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি শহরের তালপট্রি মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় অফিস ভাড়া নেয় এসকেএস নামক একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান। এনজিওটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঋণ প্রদানের আশ্বাস দিয়ে গ্রাহকদের কাছ বিভিন্ন অংকের অর্থ আদায় করে। কিন্তু গ্রাহকদের অর্থ হাতিয়ে অফিসে তালা ঝুলিয়ে পালিয়েছে এর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার বিকাল বালিয়াকান্দি শহরের তালপট্রি মাদরাসা সংলগ্ন মানিক মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় শতাধিক নারী-পুরুষ অপেক্ষা করছে অফিসের সামনে। ওই বাড়িতে এসকেএস নামে একটি সাইন বোর্ড ঝুলছে। কিন্তু অফিসের দরজায় ঝুলছে তালা।

বাড়ির মালিক মানিক মিয়া বলেন, গত এক সপ্তাহ আগে ৩০ হাজার টাকা সিকিউরিটি ও মাসে সাড়ে ৬ হাজার টাকায় ভাড়া প্রদান করা হয় এনজিওটির পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার চুক্তিপত্র সম্পাদন করার কথা ছিল। এখন দেখছি বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন এসে জড়ো হচ্ছে। কিন্তু তাদের নাম বা আমার কাছে কোনো ঠিকানা নেই।

জানা যায়, উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়নের ঘোড়ামারা গ্রামের গফফার শেখের নিকট থেকে ৭ হাজার টাকা, শহিদুল ইসলামের নিকট থেকে ৭ হাজার একশত টাকা, আলমের নিকট থেকে ৫ হাজার একশত টাকা, ইয়াসমিনের নিকট থেকে ৭ হাজার একশত টাকা, সালমার নিকট থেকে ৪ হাজার একশত টাকা, বিনার নিকট থেকে ৭ হাজার একশত টাকা, রশিদের কাছ থেকে ৫ হাজার দু’শত টাকা, হালিমের কাছ থেকে ২ হাজার দু’শত টাকা, বহরপুর ইউনিয়নের নতুনচর গ্রামের রুপবানের নিকট থেকে ৭ হাজার দু’শত টাকা, রাশিদার নিকট থেকে ৭ হাজার দু’শত টাকা, নারুয়া ইউনিয়নের গাড়াকোলা গ্রামের রহিম শেখের নিকট থেকে ৬ হাজার নয়শত টাকা এবং নারুয়া, ঘোড়ামারা, সদাশিপুর, চরফরিদপুর, নতুনচর, ইন্দুরদীসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষের কাছ থেকে কোনো প্রকার বই ছাড়াই বিপুল অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গফফার, শহিদুল, আলম, ইয়াসমিনসহ অনেকেই জানান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে। সুন্দরভাবে কথা বলে মঙ্গলবার সকালে টাকা নিয়ে দুপুর ২টার পর অফিসে ঋণ নিতে আসতে বলে ভুক্তভোগীদের। পরে তারা অফিসে গিয়ে দেখেন তালা ঝুলছে। তারা মনে করেছিলেন বাইরে আছে, আসবে। অপেক্ষা করতে থাকলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন আসতে থাকে। তখন তারা বুঝতে পারেন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আম্বিয়া সুলতানা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তিনি সবাইকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন।

জই/প্রবাহঅনলাইন ডেস্ক

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট
;