হাসান আহমেদ
জীবননগর উপজেলার সুপরিচিত আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামটি উন্নত ও সমৃদ্ধ কিন্তু এখানে উদ্যোক্তার খুব অভাব। চাকুরী অথবা ব্যবসা সবাই চলছে এভাবেই। এই গতাগতিক নিয়ম থেকে বেরিয়ে এসে উদ্যোগ নিলেন একজন নারী উদ্যোক্তা কাজী সুজানা। প্রথমে চেয়েছিলেন নিজে কিছু করতে । চাকরি বা অন্যের দাসত্বে থাকার ইচ্ছা ছিলনা তার কখনোই। নিজে কিছু করবে এবং গ্রামীন নারীদের অন্দরমহলে থেকে স্বাবলম্বী করবে এই ইচ্ছেটা আজ বাস্তবরুপে ধরা দিয়েছে। লাখনাও স্টিচ নামের সেলাই জানতেন তিনি। সেটা দিয়েই সূচ ও সুতার নিখুত কারুকাজে ফুটিয়ে তোলা তার লাখনাও কালেকশনে তৈরিকৃত পোশাকগুলো আজ পেয়েছে জনপ্রিয়তা। এটার মূল্য এতো তা তিনি জানতেন না। মার্কেটে কিনতে গিয়ে দেখেন এদেশে বানিজ্যিক ভাবে তৈরি হয়না এই পোশাক । বাইরের দেশ থেকে বিশেষতঃ ভারত থেকে আমদানি করা হয় বিধায় এই পোশাকের মূল্য আকাশ ছোঁয়া যা সাধারণ মধ্যবিত্তের সাধ্যের বাইরে।
তার কাছে এই উদ্যোগের সফলতা কতটুকু জানতে চাইলে বলেন, আলহামদুলিল্লাহ তুমুল সাড়া পেয়েছি । দেশীয় কর্মী দিয়ে তৈরি লাখনাও স্টিচ পছন্দ করেছেন সবাই । বাইরে থেকে আনা লাখনাও স্টিচ এর ড্রেসের থেকে কোনো অংশে কম নয় আমাদের দেশের গ্রামীণ নারীদের হাতে এই তৈরি পোশাক । দামটা রাখার চেষ্টা করছি হাতের নাগালে । আলহামদুলিল্লাহ ৬ মাসে লাখ টাকার বিক্রিও হয়েছে এবং আমার তৈরি পোশাক পৌঁছে গেছে সুদূর আয়ারল্যান্ডে । লাখনাও কালেকশন নামটা দিয়েছি যেন সবাই সহজেই খুঁজে পায় । ভবিষ্যতে ইচ্ছে আছে সারাদেশে এমনকি বাইরের দেশে আমাদের তৈরি পন্য সরবরাহ করার।
আমাদের দেশের গ্রামীণ নারীরা যে কাজ টা পারে সেটা বাইরে থেকে আমদানি করে তার দাম আকাশ ছোঁয়া না করার প্রত্যয়ে শুরু হয় এই কুঠির শিল্প ! অনলাইনের সুবাধে সহজেই পড়াশোনা করে লাখনাও স্টিচ সম্পর্কে ধারনা আর মাত্র ৫০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে কিছু পোশাক তৈরি করে শুরু হয় তার চলা, তৈরিকৃত পোশাকের ছবি তুলে অনলাইনে দিতে থাকতেন তখন । অনলাইনে লাখনাও কালেকশন নামের পেজ থেকে দারুন সাড়া মেলে আস্তে আস্তে তার কালেকশনের পোশাকগুলো ব্যাপক চাহিদা পেতে থাকে। একসময় গ্রামের নারী,তরুণী, বয়স্কদের দিয়ে করাতে হয় সেলাই এর কাজ। বাড়তে থাকে চাহিদা আর পাশাপাশি বাড়ছে গ্রামীন নারীদের আত্বকর্মসংস্থান।