নাঈমুর রহমান,আন্দুলবাড়ীয়া প্রতিনিধিঃ
প্রতিষ্ঠালাভের কথামালার কাঠগড়ায় কবি আশরাফুন নাহার শোভা, জানালেন আন্দুলবাড়ীয়া সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের অজানা সব ইতিহাস খচিত গল্প। চায়ের কাপে আড্ডা সাথে অজানা তথ্যের সাক্ষী হতে প্রশ্নের উপর পাল্টা প্রশ্নে করে জানবার ব্যাপক প্রত্যয় নিয়ে তার সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকার লাভের সুযোগ হয় এই প্রতিবেদকের।কথাও হয়েছিল বিস্তর। এখানে তার কিছু অংশ পাঠকদের জন্য:
১. কত সালে আন্দুলবাড়ীয়া সাহিত্য পরিষদের জন্ম হয়?
= ২০১৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসের দিন, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় চত্ত্বরে সবুজ ঘাসের উপর এক আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় একটি সাহিত্য সংগঠণ সৃষ্টির। এর প্রয়াত উদ্যোগী এক জন্মক্ষনা কবি সিরাজুল ইসলাম লাভলু , নারায়ণ ভৌমিক বাবু , আমি , কবি আব্দুল হামিদ ফকির,কবি হাফিজুর রহমান,কবি শংকর প্রামাণীক, আতিয়ার রহমান, পশু ডাক্টার হাফিজুর এই গুটিকতক মানুষ মিলে আমাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি হয়েছিল। ওখান থেকেই সাহিত্য পরিষদের সূচনার লগ্ন সৃষ্টি হয়।
২.কে সর্বোচ্চ অগ্রণী ভূমিকা রেখেছিলেন আন্দুলবাড়ীয়া সাহিত্য পরিষদ গঠনে?
= প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম লাভলু ভাই।
৩. প্রথম যখন কমিটি গঠন হয় কারা মূল দায়িত্বে ছিলেন?
= সভাপতি-প্রয়াত সিরাজুল ইসলাম লাভলু ভাই ,সাধারণ সম্পাদক আমি (আশরাফুন নাহার শোভা )।
৪. সিরাজুল ইসলাম লাভলু স্যারের মৃত্যুর পর কে হাল ধরেন?
= সকলের সিদ্ধান্তে নারায়ণ ভৌমিক সভাপতি হন আমি বরাবরের মত সাধারণ সম্পাদক।
৫. সাহিত্য পরিষদের সহযোগিতায় প্রথম দিকে কারা এগিয়ে আসেন ?
=আন্দুলবাড়ীয়ার চেয়ারম্যান মহোদয় শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তরা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বৃন্দ ,আজিম খান,আব্দুল লতিফ বিশ্বাস,ওয়াহেদ মিয়া, আসাদুজ্জামান আকুল,বিজয় হালদার সহ অনেকেই।
৬. সেসময় যুবকদের ভিতর কারা সার্বিক দায়িত্বে ছিল?
=আব্দুল আলীম,শৈশব,কণা,নৈঋত, সহ আরও অনেকেই। খুব সৃজনশীল ছিল ওরা।
৭.সাহিত্য পরিষদ কতটি সংকলন প্রকাশ হয়েছে এবং কী কী নামে ছিল কারা দাযিত্ব নিয়েছিলেন?
= স্মরণীকা নামক একটি কবিতা সংকলন। যেটি করতে উদ্যেমী কাজে সার্বিক দায়িত্বে ছিল বাবু নারায়ণ ভৌমিক, আজিজ মোহাম্মদ জুনিয়র,কবি আব্দুল হামিদ ফকির,কবি হাফিজুর রহমান,কবি শংকর প্রামাণীক ,সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম মামুন সহ সাহিত্য সংগঠণের সকলেই। এরপর বিজয় নিশান নামক একটি সংকলন বের হয়েছে ২০২০ সালে আমি সহ যুবদের ভেতর নাঈমুর রহমান খান, ইকরাম হোসাইন, রফিকুল ইসলাম রাজা, মোল্লা তাছলিম, রিয়াজ উদ্দিন বাদশা ,কাজী তানিম,মিতুল হোসেন সহ নারায়ণ ভৌমিক, আজিজ মোহাম্মদ জুনিয়র,কবি আব্দুল হামিদ ফকির,কবি হাফিজুর রহমান,কবি শংকর প্রামাণীক ,মোল্লা রকিব উদ্দিন,সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম মামুন,অধম আব্দুল হক সহ সাহিত্য সংগঠণের সকলেই ছিল।
৮. কখনো কাওকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে কী?
= কবি ফহিম ফিরোজকে ক্রেস্টসহ সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল ২০১৮ এর দিকে।
৯. শুরু থেকে সাহিত্য পরিষদের এই দীর্ঘ ৫ থেকে সাড়ে ৫ বছরের পথচলায় কী কী পেয়েছেন ?
= মানুষের ও সদস্যদের অঢেল ভালোবাসা।
১০.কখনো কী অভিমানে হাল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ?
= হ্যা একবার । কিন্তু পরিনি !!
১১. সাহিত্য পরিষদকে নিয়ে ভবিষ্যৎ ভাবনা ও স্বপ্ন কী কী ?
= আরও অনেক এগিয়ে নেওয়া,অনেক সংকলন প্রকাশ,সম্মাননা প্রদান সব মিলিয়ে যুব ও প্রবীন সমন্বয়ে সুন্দর কিছু করবার। যা আন্দুলবাড়ীয়ায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
১২. আপনি তো বর্তমান সভাপতি আপনি সভাপতি হবার পর কী কী উদ্যোগ নিয়েছেন ?
= করোনাকালীন সময়ে ত্রান থেকে শুরু করে মাস্ক বিতরণ,অনলাইন সাহিত্য আড্ডা গ্রুপ, ধর্মীয় জীবনীমূলক পুস্তক বিতরণ সামনে একটি সংকলন হতে চলেছে এই আর কি !