ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

ফাঁসি কার্যকরের পর মিন্টু  ও আজিজকে নিজ  গ্রামের গোরস্তানে পাশাপাশি দাফন

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকরের পর মিন্টু  এবং আজিজকে নিজ গ্রাম চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার লক্ষ্মীনারায়নপুর গ্রামের গোরস্তানে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর জানাজা শেষে তাদেরকে দাফন করা হয়।  একসাথে অনুষ্ঠিত দুজনের জানাজায় গ্রামের বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।
মিন্টু ও আজিজের মরদেহ তাদের গ্রাম রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামে পৌঁছায় সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে। ভোরের সাথে সাথে তাদের মরদেহ দেখতে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ ভিড় করতে থাকেন। জানাজার পরও মানুষের ঢল অব্যাহত ছিল। দাফনের পর অনেকে তাদের কবর দেখতে যান।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে সোমবার রাত পৌনে ১১টায় কার্যকর করা হয় মিন্টু এবং আজিজের ফাঁসির রায়। তারা আলমডাঙ্গার জোড়গাছা গ্রামের কমেলা খাতুন ও তার বান্ধবী ফিঙ্গে বেগমকে ২০০৩ সালে ২৭ সেপ্টেম্বর রায়লক্ষ্মীপুর গ্রামের মাঠে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের গলা কেটে দেয়। এই বিষয়ে দায়ের হওয়া মামলায় ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সুজন, আজিজ ও কালুকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর আসামিপক্ষের লোকজন হাইকোর্টে আপিল করেন। ২০১২ সালে ১১ নভেম্বর নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার আদেশ দেন হাইকোর্ট। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ দুই আসামির রায় বহাল রাখেন এবং অপর আসামি সুজনকে বেকসুর খালাস দেন।  মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ ও মিন্টু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে প্রত্যাখ্যাত হন।

স্থানীয় খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান রুন্নু জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে মরদেহ কবরে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। এ কারণে দাফনকাজে কিছুটা বিলম্ব ও বিঘ্ন ঘটে।
ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, ফাঁসির আগে দেয়া সুযোগ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে শেষ সাক্ষাতের সময় মিন্টু ও আজিজ সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে কাঁদতে থাকেন। মরদেহ রাতেই বাড়িতে পৌঁছানোর সময় স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে এলাকার বাতাস। পরে সকাল ৬টায় দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট

 

;