ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

হাফ ভাড়ার সিদ্ধান্ত ছাড়াই বিআরটিএ এর বৈঠক শেষ

আগামীকাল শনিবার পর্যন্ত সময় বেধে দিয়ে ঢাকার রাস্তা থেকে উঠে গেছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যে বাসে ‘কাফ ভাড়া’ কার্যকর এবং সিটি করপোরেশনের ময়লার ট্রাকে ছাত্র নাইমের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের বিচারসহ দশ দফা দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় শনিবার বেলা ১১টা থেকে ফের কঠোর আন্দোলন শুরু হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হয়েছে বিআরটিএ’র হাফ ভাড়া সংক্রান্ত সভা।
বুধবার গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ময়লাবাহী ট্রাকের ধাক্কায় নটরডেম কলেজের ছাত্র নাঈম হাসানের মৃত্যুর পরপরই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, ফার্মগেট, শান্তিনগর ও উত্তরায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা। নটরডেম কলেজের কয়েকশ ছাত্র মতিঝিল হয়ে বেলা ১১টার দিকে গুলিস্তানে গিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। সেখানে বেলা ২টা পর্যন্ত বিক্ষোভ দেখিয়ে তারা নগরভবনের দিকে রওনা হন।

বেলা ৩টার পর নগর ভবনের ফটক খুলে শিক্ষার্থীরা হুড়মুড় করে ভেতরে ঢুকে পড়েন। তারা স্লোগান দিতে থাকে: ‘মেয়র তোমার দেখা চাই, নাঈম হত্যার বিচার চাই’। পরে বেলা ৪টার দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র ফজলে নূর তাপস শিক্ষার্থীদের সামনে এসে তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে বলেন, ‘তোমাদের যে দাবি সেগুলো শুধু তোমাদের নয় আমারও দাবি। আমার আরও কিছু দাবি আছে। তবে তোমরা তোমাদের কথা সব জায়গায় বলতে পার, আমি পারি না’। মেয়রের বক্তৃতার পর নগরভবন থেকে সরে যায় শিক্ষার্থীরা।
একই দাবিতে ঢাকা বিজ্ঞান কলেজ, হলিক্রস কলেজ, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ এবং বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেটে বিক্ষোভ করে। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বেইলি রোডের মুখে শান্তিনগরে এবং উত্তরায় রাজউক ও মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তা আটকে বিক্ষোভ করে। স্লোগান, মিছিল আর প্রতিবাদী চিত্রাঙ্কনে দিনভর চলে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। এসময় তারা পুলিশ, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার যানবাহন আটকে কাগজপত্র পরীক্ষা করে, যেমনটা ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় দেখা গিয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত গুলিস্তান থেকে ১০ দফা পেশ করে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেন শিক্ষার্থীরা।
গুলিস্তান জিরো পয়েন্টে শিক্ষার্থীরা ১০টি দাবি ঘোষণা করে। দাবি পূরণ না হলে ফের সড়কে নামার ঘোষণা দেয় তারা। শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো-যথাযথ তদন্ত করে নাঈম হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া, জেলা শহরের বিভিন্ন রুটে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু, স্কুল-কলেজের সামনে হর্ন ও ওভারস্পিডিংয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের জরিমানা আদায় এবং তা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তরের অধিকার দেয়া, সব শিক্ষার্থীর হাফ পাস নিশ্চিত করা, প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে একাধিক গতিরোধক নির্মাণ, শহরের প্রত্যেকটি অচল ট্রাফিক লাইটের সংস্করণ এবং সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ, জেব্রা ক্রসিংয়ের পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার নিশ্চিত করা, চলন্ত বাসে যাত্রী ওঠানামা করালে প্রত্যেক বাসকে আইনের আওতায় আনা, সর্বোপরি নিরাপদ সড়ক আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করা।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের ‘হাফ ভাড়া’র দাবি নিয়ে বাস মালিকদের সঙ্গে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বৈঠক শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে বিআরটিএ অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যা ৬টায় বৈঠক শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি নিয়ে সরকার আন্তরিক। তবে পরিবহন মালিকেরা কমাতে রাজি নন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়া কমানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিতে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, নিজেদের মধ্যে বসে একটি প্রস্তাব দেয়ার জন্য পরিবহন মালিক সমিতির প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সচিব বলেন, ভাড়ার বিষয়টি চাপিয়ে দেয়া যাবে না। সরকার যদি নির্দিষ্ট একটি হার উল্লেখ করে বলে দেয়, বেসরকারি মালিকদের সেটা মানতে হবে। তাহলে তারা হয়তো বাস চালানো বন্ধ করে দিতে পারেন। তখন আরেক জনভোগান্তি হবে। এ জন্য আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চান তারা।

তিনি জানান, সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসিতে শিক্ষার্থীদের ভ্রমণের সময় ভাড়া ছাড় দেয়া হবে। তবে কত ছাড় দেয়া হবে, তা শুক্রবার জানিয়ে দেবেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অন্যদিকে বেসরকারি পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য অর্ধেক ভাড়া নেয়ার বিষয়ে কোনো সুরাহা হয়নি।
তিনি বলেন, মালিকেরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের পক্ষ কম নেয়া সম্ভব নয়। তবে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় তাদের কয়েক দিন সময় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে একটা সিদ্ধান্তে আসার অনুরোধ জানিয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট
;