ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

খুলনার ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎ এখন আর যায়না, মাঝে মাঝে আসে

ডুমুরিয়া(খুলনা) সংবাদদাতা :

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলায় স্মরণকালের ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ এখন আর যায় না, মাঝে মাঝে আসে! পহেলা জুলাই থেকেই এই অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে ডুমুরিয়ায়। ১ ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। তাই দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা! ঠিক কবে থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তারও সদুত্তর দিতে পারছে না বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্মকর্তা গন। বৃষ্টিহীন আষাঢ়ে মাটি ফাটা রোদ আর গরমের দাপটে জনজীবনে যখন অচল অবস্থা তখন মিলছে না বিদ্যুৎ। এদিকে, বিদ্যুৎ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ দেখাচ্ছেন অনেকে।
অস্বাভাবিক ও অসহনীয় লোডশেডিংয়ে তাই ডুমুরিয়ার সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ।নাজেহাল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাপন।
কেবল ডুমুরিয়ায় নয়, পুরো খুলনা বিভাগের ৯ টি জেলাতেই চলছে লোডশেডিংয়ের ভয়াবহতা।
সবার মুখে একই কথা- এমন বিদ্যুৎ সংকট এর আগে কখনও দেখেননি কেউ। যতই দিন যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট ততই যেন বাড়ছে। এতে অফিসে-আদালত, দোকান পাট, স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রীদের লেখা পড়া কার্যক্রম চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। জেনারেটর, আইপিএস ও ইউপিএস কোনো কিছুই দিয়েই অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, দোকানপাট ও বাসাবাড়ি স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। পচতে শুরু করেছে বাড়ির ফ্রিজের মাছ-মাংস, শাক-সবজি ও ফলমূলও। ভোর নেই, সকাল নেই, দুপুর নেই, সন্ধ্যা নেই, রাত নেই- বিদ্যুতের আসা যাওয়া চলছে প্রতি একঘন্টা পর পর। কোনো কোনো এলাকায় আধাঘন্টা পরপরও লোডশেডিং দিচ্ছে এ বিদ্যুৎ। ডুমুরিয়ার বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কথা বলে জানাযায়, এমন বিদ্যুৎ সংকট এর আগে কখনও হয়নি।তাদের কাছে মনে হয়- এই কারণেই রাত ৮টার মধ্যে মার্কেট, বিপণী বিতান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা হয়েছিল।বিদ্যুৎ সাশ্রয়ীটা বিষয় ছিল না, সংকট ছিল বলেই হয়তো এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে ১ জুলাই থেকে এই নিয়ম উঠে যাওয়ায় সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে বলেও মন্তব্য করেন ব্যবসায়ী মহল। বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে চাহিদার অর্ধেক বিদ্যুৎ। ফলে দিনের অর্ধেক সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা গেলেও অর্ধেক সময় বিদ্যুৎহীনই থাকছে পুরো বিভাগেই । সমস্যাটা কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে প্রশ্নে- সেটা তারাও জানেন না। এজন্য সুনির্দিষ্টভাবে তারাও কিছু বলতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন বিদ্যুৎ কর্মকর্তাগন।

;