গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে শঙ্কায় পড়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট পায় তারা। আর সেমিফাইনালে প্রোটিয়া মেয়েরা দেখায় চমক। ইতিহাস গড়ে তারা হারিয়ে দেয় আসরের হট ফেভারিট ইংল্যান্ডকে। শুক্রবার নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ৬ রানে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর জয় শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক সুনা লুস বলেন, এবার বড় চমকের আশায় তারা। কেপটাউনে আগে ব্যাটিং শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ১৬৪/৪। জবাবে ১৫৮/৮ স্কোর নিয়ে ইনিং শেষ করে ইংল্যান্ড। শেষ ৪ বলে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১২ রানের। শাবনিম ইসমাইলের লেংথ ডেলিভারি ব্যাটে লাগাতে পারলেন না হিদার নাইট।
বল স্টাম্পে আঘাত করতেই সব ফিল্ডার এসে ঘিরে ধরলেন বোলারকে। শাবনিম বাকি ৩ বলে ৫ রান দিলে রচিত হয় ইতিহাস। নিজেদের ক্রিকেট ইতিহাসে নারী-পুরুষ মিলিয়েই যে কোনো সংস্করণে এটি দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ফাইনাল। আজ শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে প্রোটিয়ারা। কেপটাউনের নিউল্যান্ডে খেলা শুরু বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়। আগেরদিন রুদ্ধশ্বাস প্রথম সেমিফাইনালে ভারতকে ৫ রানে হারায় অস্ট্রেলিয়া। ১৭২ রান তাড়া করে ১৬৭/৮-এ থামে ভারতীয়রা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ফাইনাল সামনে রেখে প্রোটিয়া অধিনায়ক সুনা লুস বলেন, ‘(ফাইনাল) এটা বিরাট। আমরা ইতিহাস গড়ে জাতিকে অনুপ্রাণিত করছি। আর একটি ম্যাচ, আমার বিশ্বাস আমরা এটাও পারবো। আশা করি ফাইনালে গ্যালারি ভর্তি দর্শকের সমর্থন পাবো। দুই বছর ধরে আমরা কঠোর পরিশ্রম করছি। ভালো ক্রিকেট খেলছি।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের ওপেনিংয়ে ৫৫ বলে ৬৮ রানের ইনিংসের পর ফিল্ডিংয়ে চারটি দুর্দান্ত ক্যাচ নিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার কুড়ান তাজমিন ব্রিটস। বল হাতে ২৯ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন পেসার আয়াবঙ্গা খাকা। শাবনিম ইসমাইলের শিকার ৩ উইকেট। উদ্বোধনী জুটিতে লরা ভলভার্টের সঙ্গে ৯৬ রানের জুটি গড়েন ব্রিটস। নিজের ইনিংসে ব্রিটস হাঁকান ৬টি চারের পাশাপাশি ২টি ছক্কা । ৪৪ বলে ৫ চার ও ১ ছয়ে ৫৩ রান করেন ভলভার্ট। আর তিন নম্বরে নামা মারিজান ক্যাপ খেলেন ১৩ বলে ২৭ রানের মারকুটে ইনিংস।
জবাবে উড়ন্ত সূচনা করে ইংল্যান্ড। প্রথম ৫ ওভারে ৫৩ রান করেন ড্যানি ওয়াট ও সোফিয়া ডাঙ্কলি। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে জোড়া ব্রেক থ্রু এনে দেন খাকা। দুটি ক্যাচই নেন ব্রিটস। ডাংকলি ১৬ বলে ২৮ ও ওয়াট ৩০ বলে করেন ৩৪ রান। এই দুজন ফেরার পর জয়ের আশা বাঁচিয়ে রাখেন ন্যাট সিভার ব্রান্ট। ৩১ বলে ৪০ রান করা সিভার ফেরান নাদিন ডি ক্লার্ক। এবারও ক্যাচ নেন ব্রিটস। শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২৮ রানের। নিজের কোটার শেষ ওভার করতে এসে স্রেফ ৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন খাকা। তখনও ইংলিশদের আশার প্রদীপ হয়ে টিকে ছিলেন অধিনায়ক নাইট। ১৯তম ওভারে এক ছক্কায় ১২ রান নিলে শেষ ৬ বলে বাকি থাকে ১৩ রান। কিন্তু সেই সমীকরণ মেলাতে পারেননি নাইট। শাবনিম ইসমাইলের বলে বোল্ড হয়ে যান ইংলিশ অধিনায়ক। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে টানা চার হার শেষে ইতিমধ্যেই দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ দল।