ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

ডুমুরিয়ায় ব্যাটারী চালিত অটোভ্যান ও ইজিবাইক চালাচ্ছে শিশু- কিশোররা

সেলিম আবেদ, খুলনা সংবাদদাতা
খুলনার ডুমুরিয়ায় দিন দিন বেড়েই চলেছে অনভিজ্ঞ চালকের সংখ্যা। গ্রামীণ সড়কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সড়কগুলোতেও তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে ঐসব চালকদের সঙ্গে যাত্রীরাও রয়েছেন চরম ঝুঁকিতে। সরেজমিনে সড়কগুলোতে শিশু-কিশোর চালকদের দেখা যায় যাত্রী সাধারণ ও মালামাল নিয়ে বেপরোয়া গতিতে ভ্যান-ইজিবাইক  চালাতে।
খুলনা-সাতক্ষিরা মহাসড়কের ডুমুরিয়ায় জনবহুল ও যানবাহনে ভরপুর ব্যস্ততম রাস্তায় দেখা মেলে অদক্ষ্য এসব চালকদের। সুমন (১২) নামে একজন অটো ভ্যান চালক জানায়, সে বরাতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র বাবা, মা, ভাই, বোন নিয়ে চারজনের সংসার তাদের। ভাই-বোনের মধ্যে সে বড়ো। মূলত তার বাবা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে তার বাবা যখন দিনমজুরের কাজ করেন তখন সে তার বাবা-মায়ের  নির্দেশেই সাংসারিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য ভ্যান চালায়। এতে তার সারাদিন আড়াই থেকে তিনশ টাকা রোজগায় হয়। খর্নিয়া এলাকার সুরোত আলী(১৬) জানায়, বাবা অসুস্থ্য দুই ভাই দুই বোন মোট ছয় জনের সংসার ৯ম শ্রেণী প্রযন্ত পড়ে আর পড়তে পারিনি এখন সংসারের হাল ধরতে হয়েছে। উপজেলার পাচপোতা গ্রামের রেজাউল সরদারের ছেলে নাজমুল  (১৫)একই গ্রামের   শাইনুরের ছেলে ফায়সাল(১৬) এদের প্রত্যেকের সংসারে ৫/৬ জন সদস্য, তারা সবাই সংসারের অভাব অনাটনের কারনে ভ্যান চালায়।উপজেলা ডুমুরিয়ার  মাগুরখালি ইউনিয়নের সুভাষ মন্ডল, খর্নিয়া গ্রামের মজিদের ছেলে অটোরিকশা চালক সাব্বির হোসেন (১৪) জানায়, পরিবারে তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে ছোটো। বোনদের বিয়ে হয়ে গেছে। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর সে আর বিদ্যালয়ে যায় না। অভাব অনটনের সংসারে হাল ধরতে এখন রিকশা চালাচ্ছে। এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, অর্থনৈতিক টানাপড়েন  থাকায় পরিবারই তাদের শিশুশ্রমের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শিশুশ্রম রোধে সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোকে যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে। উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদার বলেন, আমি ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবগত করবো যাতে সব গুলো  ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে শিশু-কিশোর শ্রমিকদের তালিকা করে তাদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষার সর্বাত্মক চেষ্টা করতে পারে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট
;