ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

কলকাতার মোহনবাগানকে হারালো বসুন্ধরা কিংস

শুরু থেকেই আক্রমণ পালটা আক্রমণে চলে ম্যাচ। ম্যাচের প্রথম মিনিটে মোহনবাগানের রক্ষণে ভীতিও ছড়ান রবসন রোবিনহোরা। সুযোগের খুঁজে ছিল কলকাতার জায়ান্টরা। সেই সুযোগটা পেয়ে কাজেও লাগায় তারা। লিস্টন কোলাসোর গোলে এগিয়েও যায় মোহনবাগান। তবে পিছিয়ে পড়ে হাল ছাড়েনি কিংস। প্রথমার্ধেই সমতা টানে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা। মিগেল ফিগেইরার দুর্দান্ত গোলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়। দ্বিতীয়র্ধে রবসন রোবিনহোর গোলে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বসুন্ধরা কিংস। ভুবেনশ্বরে অ্যাওয়ে ম্যাচে মোহনবাগানের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে ফিরেছিল বাংলাদেশের ক্লাবটি।

এটি এএফসির কোন আসরে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের কোন ক্লাবের প্রথম জয়। এ জয়ে এএফসি কাপে ‘ডি’ গ্রুপে কিংসের সংগ্রহ মোহনবাগানের সমান সাত পয়েন্ট। তবে হেড টু হেডে এগিয়ে থাকায় গ্রুপের শীর্ষে এখন কিংস। দুই জয় আর দুই হারে ছয় পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপে তিন নম্বরে ভারতের আরেক দল ওড়িষা এফসি। চার ম্যাচে কিংসকে হারানো মাজিয়া তিন পয়েন্ট নিয়ে আছে গ্রুপের একেবারে তলানিতে।
কিংস অ্যারেনায় কখনও হারেনি বসুন্ধরা কিংস। এমন পয়া ভেন্যুতে সপ্তম মিনিটে গোলরক্ষক মেহেদি হাসান শ্রাবণ ভুল করে বসেন, তার বাড়ানো বল বক্সের সামনে পেয়ে যান হুগো বুমো কিন্তু কোনো বিপদ ঘটেনি। পেছন থেকে দৌড়ে এসে বল ক্লিয়ার করেন বিশ্বনাথ ঘোষ। পরের মিনিটেই প্রতি আক্রমণে যায় বসুন্ধরা কিংস। মোহনবাগানের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এই ব্রাজিলিয়ানের নেওয়া শট ঝাঁপিয়ে আটকান গোলরক্ষক ভিসাল কাইথ। ১৩ মিনিটে রবসন রোবিনহোর বাঁকানো শট দূরের পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ১৭ মিনিটে পিছিয়ে পড়ে কিংস। মোহনবাগানকে এগিয়ে নেন লিস্টন কোলাসো। বাম দিক থেকে জেসন কামিংস বক্সে বল ফেললে তা ফেরানোর চেষ্টা করেছিলেন শ্রাবণ, কিন্তু গ্লাভসে আটকাতে না পারায় বল চলে যায় বক্সে ফাঁকায় থাকা লিস্টনের পায়ে। কোনোরকম ভুল করেননি ভারতের এই উইঙ্গার। ২১ মিনিটে সমতা ফেরানোর সেরা সুযোগ নষ্ট করেন ডোরিয়েল্টন গোমেজ। চার্লস দিদিয়ের বাড়ানো দারুণ পাস ধরে বক্সে ঢুকে শটও নিয়েছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান কিন্তু তা চলে যায় পোস্টের উপর দিয়ে। ৩১ মিনিটে মিগেল ফিগেইরার প্রচেষ্টাও চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। তবে ৪৩ মিনিটে আর কোন ভুল করেননি এই ব্রাজিলিয়ান। বক্সের সামনে দিদিয়েরের দেওয়া বল পেয়ে শরীর ঘুরিয়ে দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন মিগেল। তাতে প্রথমার্ধ শেষ হয়েছে ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই রবসনের শট ডানপাশের পোস্টে লেগে ফিরে আসলে এগিয়ে যাওয়া হয়নি কিংসের। ৭১ মিনিটে মিগেলের আরো একটি প্রচেষ্টা অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রাকিবের বাড়ানো বলে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে পোস্টে ডুকেছিলেন এই ব্রাজেলিয়ান। তবে কাজের কাজটি করতে পারেননি। এই ম্যাচেও দুই দলের খেলোয়াড়রা বারবার সংর্ঘষে জড়িয়েছেন। তবে মালয়েশিয়ান রেফারি শক্তহাতে হ্যান্ডেল করেছেন। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে রবসন রোবিনহোর গোলে লীড পায় বসুন্ধরা কিংস। দিদিয়ের বাড়ানো বলে ডোরিয়েল্টনের ক্যাটব্যাকে গোলটি করেন ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড। শেষ দিকে কলকাতার জায়ান্টরা চাপ বাড়িয়েছিল কিংসের রক্ষণে জিকোর জায়গায় পোস্টে দাড়ানো মেহেদি হাসান শ্রাবণের দারুন কিছু সেভে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে কিংস।
এটি মোহনবাগানের সঙ্গে চতুর্থ সাক্ষাতে কিংসের প্রথম জয়। এএফসি কাপের ২০২০-২১ মৌসুমে মালেতে প্রথম সাক্ষাতে কলকাতার ক্লাবটির সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে কিংস। গত আসরে কলকাতার সল্টলেকে হেরেছিল ৪-০ গোলে। তবে এবার অ্যাওয়ে ম্যাচে ২-২ গোলে ড্র করার পর গতকাল প্রথম জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা।
আগামী ২৭ নভেম্বও কিংস অ্যারেনায় মাজিয়ার সঙ্গে হোম ম্যাচ খেলবে কিংস। ভুবেনশ্বরে কিংসের ফিরতি ম্যাচ ১১ ডিসেম্বর।

;