ই-পেপার | শনিবার , ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড তেঁতুলিয়ায় ,১৭ জেলায় শৈত্যপ্রবাহের দাপট, বুধবার থেকে আবার বৃষ্টির শঙ্কা

সর্বশেষ চার বছর আগে শীত মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড হয়েছিল তেঁতুলিয়ায়। আবারও দেশের সবচেয়ে উত্তরের জনপদ সেই তেঁতুলিয়ায় চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ডের সাক্ষী হলো। গতকাল শুক্রবার সকালে সেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমে আসে ৫ ডিগ্রির ঘরে। এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি চুয়াডাঙ্গায় তাপমাত্রা ছয় দশমিক ছয় ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল।

গতকাল রাজধানী ঢাকায় দিবাভাগে সূর্যালোক আর তাপমাত্রা খানিকটা বাড়লেও উত্তর এবং পশ্চিমাঞ্চলে পারদ নেমেছে অস্বাভাবিক মাত্রায়। মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় ১৭ জেলায়। ঘন কুয়াশার চাদরে আবৃত এই অঞ্চলগুলোতে সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরেছে। এমন বৈরী আবহাওয়া এবং হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় জবুথবু এ অঞ্চলের জনজীবন। কায়িক শ্রমিক, খেটে খাওয়া মানুষেরা পড়েছে বেকায়দায়। উত্তরাঞ্চলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। আর যারা জীবিকার তাগিদে কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন তারা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। ঘন কুয়াশার সঙ্গে উত্তরের হিমেল বাতাসে মানুষ একেবারে কাবু হয়ে পড়েছে। কুয়াশায় ঢাকা পড়ে আছে পথঘাট। উত্তরের বহু এলাকায় ১০ হাত কাছেও দৃষ্টিসীমা হরণ করছে কুয়াশা। দুপুরেও সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা এড়াতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহ চলাচল করছে। মাঠে কৃষিকাজ প্রায় হচ্ছেই না। শীতবস্ত্রের অভাবে শীতার্ত গরিব ও ছিন্নমূল মানুষ কষ্ট পাচ্ছেন। শীতের প্রকোপে হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশু ও বয়স্করা। শীতের কারণে বেড়েছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ার মতো ঠান্ডাজনিত রোগ। এদিকে বৃষ্টি হয়েছে বান্দরবানে।

আবহাওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ পাঁচ বিভাগে বিস্তৃতি ঘটতে পারে। আজ সারা দেশের তাপমাত্রা গড়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। সকালে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিমা লঘুচাপের প্রভাবে আবারও বাংলাদেশের মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে আগামী ৩১ জানুয়ারি বুধবার থেকে ৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক বলেছেন, গতকাল রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ ও চুয়াডাঙ্গা জেলা এবং রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায়। এই পরিস্থিতি আরো অন্তত দুই দিন থাকবে এবং শৈত্যপ্রবাহের আওতা বাড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে যেতে পারে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে আবারও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হতে পারে। আজ শনিবার সকালে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে শৈত্যপ্রবাহ অতিক্রম করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের উত্তরের জেলাগুলোর ওপর আজ সকাল ৬টার সময় তাপমাত্রা ৭ থেকে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস থাকতে পারে। এই শৈত্যপ্রবাহ সোমবার অবধি অব্যাহত থাকার প্রবল সম্ভাবনা আছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের বুলেটিনে জানায়, গতকাল তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড হয়েছে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা। রাজশাহীতে ৮.৬, ঈশ্বরদীতে ৯.০, বগুড়ায় ৯.৮, বদলগাছীতে ৭.৫, রংপুর বিভাগের মধ্যে রংপুরে ৮.২, দিনাজপুরে ৭.২, সৈয়দপুরে ৯.০, ডিমলায় ৮.৬, রাজারহাটে ৬.৮ ও খুলনা বিভাগের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় ৯.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। পাশাপাশি গতকাল ঢাকায় সর্বনিম্ন ১৫ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

;