স্টাফ রিপোটার :
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষ্ণপুরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত টিমের জমি পরিদর্শন করা কে কেন্দ্র করে কাফনের কাপড় গায়ে দিয়ে, বিষের বোতল হাতে নিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিবাদ করলো সহাস্রাধিক গ্রামবাসীরা।
বৃহস্পতিবার (৪;জুলাই) বেলা ১১টায় জীবননগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে ভূমি মন্ত্রণালয়ের তদন্ত টিম গ্রামে প্রবেশের পর এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় স্হানীয় রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাহাজ্জত হোসনে জনগণের রষাণলে পড়ে লাঞ্ছিত হন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য গত ২০১৮ সাল থেকে সিঙ্গাপুর ভিত্তিক সাইকিলিক্ট এনার্জি লিমিটেড চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ৬শ’ বিঘা তিন ফসলী জমিতে ৫০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে জমি অধিগ্রহণের চেষ্টা করে আসছে। কৃষ্ণপুর গ্রামের সাবেক ছাত্রনেতা সাজ্জাদ হোসেন বলেন জমি অধিগ্রহণের পক্ষে চুয়াডাঙ্গা ২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর ভূমি মন্ত্রণালয় একটি ডিও লেটার দেন এবং তাঁর অনুষারী স্হানীয় চেয়ারম্যান তাহাজ্জত হোসনে সহ সংসদ সদস্যর অনুষারী নেতাকর্মীরা ৫০ মেগাওয়াট সোলার বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে উঠে পড়ে লেগেছে বিষয় টি নিয়ে দীর্ঘদিন কৃষ্ণপুর গ্রামবাসী তিন ফসলি জমিতে কোনভাবেই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে দেবেন না বলে মানববন্ধন বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে আসছেন। এরই মধ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার ১১ টার দিকে তদন্ত কমিটির আহবায়ক মো: মমতাজ বেগম যুগ্ম সচিব ভূমি মন্ত্রণালয়, এমডি আলী আফরোজ উপ সচিব বিদ্যুত জ্বালানী ও খনিজ মন্ত্রণালয় সদস্য, কবির হোসেন সিনিয়র সহকারী সচিব ভূমি মন্ত্রণালয় ও উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা সদস্য, হাসিনা মমতাজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত হলে বিক্ষুব্ধ বিষ্ণুপুর গ্রামবাসী কাফনের কাপড় মাথায় বেঁধে বিষের বোতল হাতে নিয়ে তদন্ত কমিটির সামনে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে প্রতিবাদ জানান তাদের জীবন থাকতে কোনভাবেই তিন ফসলি জমিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্থাপন করতে দেবেন না।
এবিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা জাহাৃঙ্গীর আলম জানান, গত ৫ই ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ইং তারিখে চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচাক বিভাস চন্দ্র সাহা কৃষ্ণপুর গ্রামের উল্ল্যেখিত জমি যে তিন ফসলী জমি এর স্বপক্ষে ভূমি মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু তার পরেও চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য উক্ত কোম্পানির পক্ষে গত ১৪ ই নভেম্বর ২০২৩ তারিখে ভূমি মন্ত্রণালয় বরাবর একটি ডিও লেটার দেন।
উক্ত ডিও লেটার পাওয়ার পর গত ১৬ মে ২০২৪ ভূমি মন্ত্রণালয় মোছাঃ মমতাজকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। উক্ত তদন্ত কমিটি সদস্যরা আজ ৪ জুলাই বৃহস্পতিবার কৃষ্ণপুর গ্রামের মাঠে সরজমিনে পরিদর্শন করতে এসেছেন।
বৃহস্পতিবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা কৃষ্ণপুর গ্রামের মাঠে প্রবেশ করলে সহস্রাধিক নারী-পুরুষ গ্রামবাসী তদন্ত কমিটির কাছে জমি অধিগ্রহণ না করার জন্য আবেদন জানায়। এবং গ্রামবাসীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে বলে জমি অধিগ্রহণ হলে তার জীবন দেবে তবু জমি দেবেনা। এসময় গ্রমবাসীদের হাতে ছিল বিষের বোতল গায়ে ছিল কাফনের কাপড়।
উল্লেখ্য এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির শান্ত রাখতে ব্যাপক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষ করাআযায়।
এদিকে এনিয়ে গত ২০২২ সালে উক্ত কোম্পানীর পক্ষে জৈনক্য আবু তাহের জবা বাদী হয়ে গ্রামের তিন শতাধিক কৃষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেন। এ মমলায় কৃষকরা আদালতে বারান্দায় ধর্ণা দিচ্ছে।