এম আব্দুর রাজ্জাক,বগুড়া থেকে :
জয়পুরহাটে ভিডিও কলে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল : নগদ টাকা ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়
ভিডিও কলে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত দেখিয়ে ফাঁদে ফেলে বাসায় ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নগদ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ও স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায়ের অভিযোগ উঠেছে জয়পুরহাটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আদম আলী (৩৮),
আজ (২৮ অক্টোবর মঙ্গলবার) জয়পুরহাট চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, ক্ষেতলাল উপজেলার ধাওয়াপাড়া কাপাসটিকরি গ্রামের প্রবাসী সদরুল আলমের স্ত্রী রোজিনা বেগম এবং কালাই উপজেলার জিন্দারপুর ইউনিয়নের মাদারপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে খাইরুল ইসলাম।
মামলার অভিযোগে জানা যায়, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে ভিডিও কলে ভুক্তভোগীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে সুযোগ বুঝে তাকে বাসায় ডেকে নিয়ে গোপন ভিডিও ফাঁসের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা আদায় করেন এবং জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। ভুক্তভোগী আদম আলী সাংবাদিকদের জানান,
রোজিনার স্বামী প্রবাসে থাকায় স্থানীয় দলিল লেখক রবিনের মাধ্যমে তার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। রবিনের চক্রান্তে রোজিনাকে ব্যবহার করে আমাকে ব্ল্যাকমেইল করে বাসায় ডেকে এনে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা নেয় এবং স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর করায়। পরবর্তীতে আমাকে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করা হয়, যা রোজিনা ও খাইরুলের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।এ বিষয়ে মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ বলেন, আমার মক্কেলকে পরিকল্পিতভাবে অন্তরঙ্গ ভিডিও দেখিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় আদালতে প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত ক্ষেতলাল থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
ক্ষেতলাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল করিম বলেন, আমরা এখনো আদালতের কোনো নির্দেশ পাইনি। আদালতের নির্দেশ পেলেই সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।