ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

করোনায় মাহমুদ উস সামাদ এমপি’র মৃত্যু

করোনায় মারা গেছেন সিলেটবাসীর প্রিয়মুখ মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস এমপি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল পৌনে ৩টায় ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন)। গত ১০ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে করোনার টিকা নিয়েছিলেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। তার মৃত্যুতে সিলেটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। করোনাকালে যখন সবাই ঘরবন্দি ছিলেন তখন মানুষকে কাছ থেকে নিরলস সেবা দিয়ে গেছেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। খাবার নিয়ে ছুটে গেছেন মানুষের ঘরে ঘরে। এ কারণে এলাকার মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা ছিল তার। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি মানবসেবায় নিয়োজিত ছিলেন।মাহমুদ উস সামাদ কয়েসের মৃত্যুর খবরটি প্রথম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন তার ভাই যুক্তরাজ্যের বিশিষ্ট শিল্প উদ্যোক্তা আহমদ উস সামাদ চৌধুরী। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর। মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী জুলহাস আহমদ জানিয়েছেন- গত রোববার পর্যন্ত সিলেটের নিজ নির্বাচনী এলাকা সিলেট-৩ ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও বালাগঞ্জ সংসদীয় আসনে ছিলেন এমপি সামাদ চৌধুরী। এ সময় তিনি সিলেটে একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রোববার সিলেট থেকে ফেরার পথে তিনি বিমানেই অসুস্থ অনুভব করেন। ওই দিন রাতেই তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তির পর চিকিৎসকরা সোমবার সকালে করোনা পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করেন। বিকালে তার ফলাফল পজেটিভ আসে। বুধবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ভেন্টিলেশনে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার মারা যান তিনি। মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী সিলেট-৩ আসনে ২০০৮ সালের আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। এরপর দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করেন। তিনি সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। পাশাপাশি শেখ রাসেল শিশু-কিশোর পরিষদের মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর জন্ম ১৯৫৫ সালের ৩রা জানুয়ারি। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান জানিয়েছেন, ‘মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর জানাজা আজ বিকালে ফেঞ্চুগঞ্জে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগে সকালে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে তার লাশ নিয়ে আসা হবে।’ তিনি বলেন- ‘মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে সিলেট আওয়ামী লীগ গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।’ এদিকে- মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর মৃত্যুতে তার নির্বাচনী আসন ফেঞ্চুগঞ্জ, দক্ষিণ সুরমা ও বালাগঞ্জে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। করোনাকালে ভয়ে যখন সবাই গৃহবন্দি, তখন সরব ছিলেন এমপি মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তিনি করোনার গৃহবন্দি মানুষের জন্য যখন যা প্রয়োজন তখন তাই নিয়ে ছুটে গেছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। এ কারণে সিলেটের এমপিদের মধ্যে ব্যতিক্রম ছিলেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। দুর্যোগকালীন সময়ে নিজ এলাকায় অবস্থান করে শুধু সরকারি ত্রাণ সহায়তা বণ্টন নয়, নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ, তিনটি উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে ত্রাণ সহায়তা নিশ্চিত করা, স্থানীয় প্রশাসনকে পরামর্শ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণসহ নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন। স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা জানিয়েছেন, গত বছরের ২২শে মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার আগেই ঢাকা থেকে এলাকায় চলে আসেন মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী কয়েস। তখন করোনাকালীন লম্বা সময় তিনি এলাকায়ই থেকেছেন। প্রায় প্রতিদিন বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে এই সংসদ সদস্যকে। পাশাপাশি দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর সংসদ সদস্য কয়েস নিজ এলাকার জনগণকে সচেতন করতে প্রচারাভিযানও শুরু করেন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক, সিলেট-৩ আসন থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী এমপি’র মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিলেটের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এক শোক বার্তায় তিনি মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। শোক জানিয়েছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন। এ ছাড়া সিলেট জেলা বার, চেম্বার অব কমার্স সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়েছে।

সুত্র মানবজমিন

;