এক বর্ণাঢ্য আয়োজন। দুইপাশে দু’দেশের পতাকা। দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছেন প্যারেডের জন্য। দর্শকসারিতে নারী-পুরুষের ভিড়। বনগ্রাম থেকে এই অনুষ্ঠান দেখতে আসা কলেজপড়ুয়া বিথী রাণী জানালেন, অভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতির কারণে বাংলাদেশকে ভালোলাগে। সুযোগ পেলে বাংলা মুভিও দেখেন। বাংলাদেশে ছিল তার পূর্ব-পুরুষেরা। তাই বিজিবি-বিএসএফ’র ‘রিট্রিট সিরিমনি’- উপভোগ করতে এসেছেন এই তরুণী।সঙ্গে এসেছেন মা ও বড় বোন।এভাবেই দু’দেশের নাগরিকদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বিজিবি-বিএসএফ যৌথ ‘রিট্রিট সিরিমনি’- অনুষ্ঠিত হয়েছে। করোনার কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার বিকাল ৫টায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বেনাপোলে এ জমকালো আয়োজন সম্পন্ন হয়। বেনাপোল, পেট্রাপোল, আখাউড়া-আগরতলা ও বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ী আইসিপিসমূহে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ এই জমকালো যৌথ ‘রিট্রিট সিরিমনি’- প্যারেডে অংশগ্রহণ করে।
বিজিবি জানিয়েছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বাংলাদেশ-ভারতের জনগণের মধ্যে যে বন্ধুপ্রতীম ভাতৃত্ববোধ জাগ্রত হয়েছিল সেই ভাতৃত্ববোধ সমপ্রসারণের জন্যই এই আয়োজন। পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে এ ‘রিট্রিট সিরিমনি’- অনুষ্ঠিত হয়।
‘রিট্রিট সিরিমনি’- প্যারেডে উপস্থিত ছিলেন, সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন। এই যৌথ ‘রিট্রিট সিরিমনি’- প্যারেডে বিজিবি’র পক্ষে যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন ভূঞা, সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ গোলাম মহিউদ্দিন, অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম রেজা এবং বিএসএফ’র ১৫৮ এর কমান্ড্যান্ট শ্রী অরুণ কুমার, ১৭৯ এর কমান্ড্যান্ট শ্রী সুনীল কুমারসহ দুই বাহিনীর অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের জনগণ দর্শনার্থী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ফুল দিয়ে একে- অন্যকে শুভেচ্ছা জানান দুই বাহিনীর কর্মকর্তাবৃন্দ।