ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পুকুরে গোসল করতে গিয়ে সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত মো. সুমন মোল্যাকে (২৫) আটক করেছে থানা পুলিশ। দুই সন্তানের জনক সুমন মোল্যা উপজেলা সদর ইউনিয়নের জাটি গ্রামের মো. শের আলী মোল্যার ছেলে।
রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস বিফ্রিংয়ে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা।
তিনি জানান, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ও গুপ্তচর নিয়োগ করে আলফাডাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তী বেজিডাঙ্গা ব্রিজের ওপর থেকে শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ওয়াহিদুজ্জামানের নেতৃত্বে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দিলীপ কুমার বিশ্বাস সঙ্গীয় ফোর্সসহ সুমন মোল্যাকে গ্রেপ্তার করেন।
তিনি আরও জানান, গত ১ এপ্রিল ওই ছাত্রীর মামা বাদী হয়ে সুমন মোল্যাকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকেই সুমন মোল্যা পলাতক ছিল।
জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রামে মামাবাড়ি থেকে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে এক কিশোরী। শুক্রবার বিকেলে প্রতিদিনের ন্যায় সে একটি পুকুরে গোসল করতে যায়।
এ সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওতপেতে থাকা সুমন মোল্যা পুকুরের দক্ষিণ পাশ থেকে ওই ছাত্রীকে পিছন থেকে গামছা দিয়ে মুখ চেপে ধরে পাশের একটি ঘাস খেতে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায়। পরে ওই ছাত্রী কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়িতে পৌঁছে মামা-মামির কাছে বিষয়টি খুলে বলে।
পরিবারের লোকজন তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ দেখতে পেয়ে দ্রুত আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখতে পেয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর ওই স্কুলছাত্রী এখন কিছুটা সুস্থ। বর্তমানে বাড়িতেই রয়েছে।
এ ঘটনায় গত ১ এপ্রিল রাতে ওই ছাত্রীর মামা বাদী হয়ে সুমন মোল্যাকে একমাত্র আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(১) ধারায় আলফাডাঙ্গা থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ধর্ষক সুমন মোল্যাকে অতি দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে ফরিদপুরের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নন্দিতা সুরক্ষাসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সোচ্চার হয়ে ওঠেন।
প্রতিনিধি