ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে বাংলাদেশের জয়

সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১০ ম্যাচ পর জয় পেলো বাংলাদেশ। গতকাল প্রথম ওয়ানডেতে শ্রীলঙ্কাকে ৩৩ রানে হারিয়ে সিরিজ শুরু করে টাইগাররা। মিরপুর শেরেবাংলা মাঠে আগে ব্যাটিং শেষে শ্রীলঙ্কাকে ২৫৮ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। আর দলীয় ১০২ রানে শ্রীলঙ্কার ষষ্ঠ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের লাগাম নেয় নিজেদের হাতে। কিন্তু এরপর ক্রমেই লাগাম ঢিলা হয়। লঙ্কান ৮ নম্বর ব্যাটসম্যান ভানিডু হাসারাঙ্গা ক্রিজে গিয়ে ঝড় তোলেন। আর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে লিটন দাস ক্যাচ ফেললে শঙ্কা জাগে টাইগার শিবিরে। তবে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত জয় ধরা দেয় বাংলাদেশকেই।
৪৪তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ২১১ রানে হাসারাঙ্গাকে সাজঘরে ফেরান পেসার মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। পরের বলেই ইসুরু উদানার উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজুর রহমান। হাঁফ ছাড়ে বাংলাদেশ। শেষ ১০ ম্যাচের ৯টিতেই হার দেখেছিল বাংলাদেশ। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক টেস্টে ড্র।
বল হাতে ১০ ওভারের স্পেলে ৩০ রানে চার উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এতে ওয়ানডেতে ৫০ শিকার পূর্ণ হলো এ টাইগার অফস্পিনারের। ৪৭ ম্যাচের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে মিরাজের শিকার ৫১ উইকেট। পেসার মোস্তাফিজুর রহমান তিন ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন নেন দুই উইকেট। ১০ ওভারের স্পেলে ৪৪ রানে এক উইকেট নেন বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান।
২৫৮ রানের লক্ষ্য। আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে খুব কঠিন কিছু নয়। জবাব দিতে নেমে শ্রীলঙ্কা অবশ্য বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে মুখ থুবড়ে পড়ে। ১০২ রানে হারিয়ে ফেলে ৬ উইকেট। দলের প্রথম ৬ ব্যাটসম্যানের মধ্যে ওপেনার দানুশকা গুনাতিলাকা ২১ ও অধিনায়ক কুসাল পেরেরা ৩০ রান করে আউট হন। বল হাতে চতুর্থ ওভারে দলকে প্রথম উইকেট এনে দেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। লঙ্কান অধিনায়ককে সঙ্গ দিতে এরপর ক্রিজে আসেন পাথুম নিশাঙ্কা। কিন্তু তাকে থিতু হতে দেননি দলের সেরা পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। তিনটি খরুচে ওভারের পর তাসকিন আহমেদকে সরিয়ে অধিনায়ক তামিম ইকবাল বল তুলে দেন ফিজের হাতে, আক্রমণে এসেই পাথুমকে ফিরিয়ে দিলেন বাঁহাতি এই পেসার। এক চারে ১৩ বলে ৮ রান করেন নিশাঙ্কা। ৮ ওভারে শ্রীলঙ্কার স্কোর ২ উইকেটে ৪১। ক্রিজে অধিনায়ক পেরেরার সঙ্গী সহঅধিনায়ক কুসাল মেন্ডিস। তবে জুটি জমতে দেননি দলে ফেরা সাকিব আল হাসান। সাকিবের বল ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন মেন্ডিস। কিন্তু পয়েন্টে ঝাঁপিয়ে ক্যাচ মুঠোয় নেন আফিফ হোসেন। ভাঙে ৪১ রানের জুটি। ৩৬ বলে দুই চারে ২৪ রান করেন সহঅধিনায়ক। ডেপুটির পর টিকে থাকতে পারেননি লঙ্কান অধিনায়কও। দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করে কুসাল পেরেরাকে থামান মেহেদী হাসান মিরাজ। আউট হওয়ার আগে ব্যাটিংয়ে এক চারে ৫০ বলে করেন ৩০ রান। তখন ২২ ওভারে শ্রীলঙ্কার স্কোর বোর্ডে ৪ উইকেটে ৯৪ রান। এরপর ক্রিজে ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার সঙ্গী আশেন বান্দারা। কিন্তু বল হাতে মিরপুর শেরেবাংলায় লঙ্কানদের ব্যাটিংয়ের মেরুদণ্ড গুঁড়িয়ে দিতে সময় নেননি মিরাজ। দু’জনেই দুই অঙ্ক ছোঁয়ার আগে ফেরেন সাজঘরে।
এরপর ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের আঘাতে দিশাহারা হয় লঙ্কান শিবির। তরুণ এই অলরাউন্ডার বোল্ড করেন দাসুন শানাকাকে। ২৫ বলে ১৪ রান করেন শানাকা। তখন জয়ের জন্য শেষ ১৫ ওভারে ১০১ রান চাই সফরকারীদের। ক্রিজে হাসারাঙ্গার সঙ্গী ইসুরু উদানা। পাল্টা আক্রমণে শ্রীলঙ্কার আশা বাঁচিয়ে রাখা ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ফিফটি করলেন ৩১ বলে। তাসকিন আহমেদের বলে ডিপ মিডউইকেট দিয়ে চমৎকার ছক্কায় আসে তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি। হাসারাঙ্গার খুনে ইনিংসে তিনটি চারের পাশে ছক্কা চারটি। তার ব্যাটে ক্রমেই শঙ্কা দেখা দেয় উল্টো হারের। তবে শেষ পর্যন্ত সাইফুদ্দিনের দ্বিতীয় শিকার হয়ে থামেন তিনি। ব্যাট হাতে করেন ৬০ বলে ৭৪ রান। লঙ্কানদের শেষ দুই উইকেট তুলে নেন মোস্তাফিজ।
এর আগে মুশফিকুর রহীম (৮৪) মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ (৫৪) ও তামিম ইকবালের (৫২) ফিফটিতে ভর করে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২৫৭/৬-এ। জয় শেষে ম্যাচসেরার পুরস্কার কুড়ান মুশফিকুর রহীম।

সুত্র মানবজমিন

;