ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

ডাক বিভাগের ৩০ সেবা , প্রতিযোগিতামূলক সেবা দিতে ডাক মাশুল কমছে

বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ২০১৮ সালে বিভিন্ন সেবার মাশুল বাড়ায়। বর্ধিত মাশুলের পরিমাণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেসরকারি খাতের কুরিয়ারসেবার চেয়ে বেশি হয়ে যায়। এতে ডাক বিভাগের পরিবর্তে বেসরকারি কুরিয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়েন সেবাগ্রহীতারা। এজন্য দেশের অভ্যন্তরে ডাক অধিদপ্তরের ৩০টি সেবার মাশুল পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল কমানোর এ প্রস্তাব এরই মধ্যে অর্থ বিভাগে পাঠিয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রস্তাবে বলা হয়, ডাক বিভাগের মাধ্যমে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত চিঠি পাঠাতে বর্তমানে মাশুল দিতে হয় ১৫ টাকা। এ মাশুল ৬৬ শতাংশ কমিয়ে ৫ টাকা করা হবে। শহরাঞ্চলের মধ্যে ডকুমেন্ট পাঠানোর জন্য ‘সিটি পোস্ট’ নামের একটি নতুন সেবা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এ সেবার মাধ্যমে জনগণ ২০০ গ্রাম পর্যন্ত ডকুমেন্ট একই শহরের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে মাত্র ৭ টাকায় পাঠাতে পারবে। এছাড়া এক কেজি পরিমাণ ডকুমেন্ট পাঠাতে বর্তমানে খরচ হয় ৫০ টাকা, আগামীতে সেটা ১৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড়া সারা দেশে ২০ কেজি পর্যন্ত পার্সেল পাঠানোর জন্য প্রথম কেজির জন্য বর্তমানে ৫০ টাকা খরচ করতে হয়, আগামীতে তা কমিয়ে ১৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ডাক বিভাগের ডিজিটাল কমার্স পার্সেল নামে একটি সেবা চালু রয়েছে। এ সেবার মাধ্যমে এক কেজি পর্যন্ত পণ্য পাঠাতে বর্তমানে খরচ হয় ২৩ টাকা, এটির খরচ কমিয়ে ২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বুক প্যাকেট নামের একটি সেবা চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে ১০০ গ্রাম পর্যন্ত ডকুমেন্ট ১ টাকা খরচে পাঠানো যায়। এক্ষেত্রে খরচ অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে ডাক বিভাগে রেজিস্ট্রেশন চার্জ ৫ টাকা, সেটি কমিয়ে ৩ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। জিইপি চার্জ ১৫ থেকে কমিয়ে ৫ টাকা করা হচ্ছে। এডি চার্জ ৫ টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অ্যাড মেইল নামে একটি নতুন সেবা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতি ১০০টি পর্যন্ত অ্যাড্রেসড মেইলে ৫০ টাকা ও ১০০টি আনঅ্যাড্রেসড মেইলের ক্ষেত্রে ২০ টাকা মাশুল বাসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। পোস্টকার্ড প্রতিটির দাম ৪ থেকে কমিয়ে ২ টাকা করা হচ্ছে। বর্তমানে অন্ধ ডাকমাশুল নামে একটি সেবা চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য মুদ্রিত প্যাকেট বা সামগ্রী (ব্রেইল পদ্ধতিতে মুদ্রিত যেকোনো কাগজপত্র, সাময়িকী ও পুস্তক) আট কেজি পর্যন্ত কোনো চার্জ ছাড়াই পাঠানো যায়। এ মাশুল অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

আমন্ত্রণপত্র একই শহরে ইস্যু ও বিলি ৫০ গ্রাম পর্যন্ত মাশুল ৬ থেকে কমিয়ে ৫ টাকা ও অন্য শহরে বিলির ক্ষেত্রে ৫০ গ্রাম পর্যন্ত মাশুল ৭ টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পণ্যমূল্য প্রতি ১ হাজার টাকায় ইন্স্যুরেন্স ফি ২৫ থেকে কমিয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সার্টিফিকেট অব পোস্টিং প্রতি তিনটি আর্টিকেল বা তার কম হলে ৩ থেকে কমিয়ে ২ টাকা ও বুক অব ৫০ ফরমস অব সার্টিফিকেট অব পোস্টিং ১০ থেকে কমিয়ে ৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়।

ভিপিপি ও ভিপিএল অনুসন্ধান ফি ২ টাকা অপরিবর্তিত, কোনো আর্টিকেল বুকিং হওয়ার পর উত্তোলন ফি ৫ থেকে কমিয়ে ২ টাকা ও পোস্টাল আর্টিকেলের ঠিকানা পরিবর্তন বা সংশোধন ফি ৫ থেকে কমিয়ে ২ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়। রিটেনশন ফি (পোস্টাল আর্টিকেল সাতদিনের বেশি রিটেনশনের ক্ষেত্রে প্রতিদিনের জন্য) ২ টাকা অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। পোস্টাল আইডেনটিটি কার্ড প্রতিটির জন্য ৫০ থেকে কমিয়ে ২০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। মেট্রোপলিটন এলাকায় প্রতিটি পোস্ট বক্স এক বছরের জন্য ভাড়া ৩০০ থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা এবং ছয় মাসের জন্য ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে প্রতিটি পোস্ট বক্স এক বছরের জন্য ভাড়া ২০০ থেকে কমিয়ে ১০০ টাকা এবং ছয় মাসের জন্য ১০০ কমিয়ে ৫০ টাকা করা হচ্ছে।

মানি অর্ডারের ক্ষেত্রে প্রথম ৫০০ টাকা পর্যন্ত কমিশন ৫ টাকা অপরিবর্তিত এবং পরবর্তী প্রতি ১০০ টাকা বা তার অংশবিশেষের জন্য কমিশন ২ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ৫০০ টাকা পর্যন্ত খরচ অপরিবর্তিত থকালেও পরবর্তী ১০০ টাকার জন্য কমিশন ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত কমছে। সাধারণ মানি অর্ডারের সর্বোচ্চ সীমা ১০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিরক্ষা কর্মচারীদের জন্য প্রতিবার মানি অর্ডারের সর্বোচ্চ সীমা ২৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া আরো কিছু সেবার মাশুল বিভিন্ন হারে কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মো. আফজাল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমানে ডাক অধিদপ্তরের যে অভ্যন্তরীণ মাশুল রয়েছে তা কুরিয়ার সার্ভিসের ফির চেয়ে বেশি। তাই কুরিয়ার সার্ভিসের ফির সঙ্গে আমরা ডাক বিভাগের মাশুলহার যৌক্তিক করতে চাচ্ছি। প্রস্তাবিত মাশুলহার যদি বাস্তবায়ন করতে পারি তাহলে জনগণের উপকার হবে। এজন্যই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সেবায় যে ডাক মাশুল নির্ধারিত রয়েছে সেটা অপরিবর্তিতই থাকছে।

সুত্রঃবনিক বার্তা

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট
;