আলেমা মুশফিকা আফরাঃ
কোরআন ও হাদিসের ফকিহ আলেমরা হজের কিছু বিধানকে ফরজ ও কিছু বিধানকে ওয়াজিব বলে ঘোষণা করেছেন। হজ গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য এসব বিধান পালন করা আবশ্যক। নিম্নে হজের ফরজ ও ওয়াজিব আমলগুলো তুলে ধরা হলো—
ফরজ বিধান : হজের ফরজ তিনটি। তা হলো—
১. ইহরাম বাঁধা।
(সুনানে কুবরা, হাদিস : ৯১৯০)
২. জিলহজ মাসের ৯ তারিখ সূর্য হেলার পর থেকে ঈদুল আজহার দিন সুবহে সাদিক পর্যন্ত যেকোনো সময় আরাফার ময়দানে অবস্থান করা। এই সময়ের মধ্যে অতি অল্প সময়ও আরাফার ময়দানে অবস্থান করলে ফরজ আদায় হয়ে যাবে। (তিরমিজি, হাদিস : ৮১৪)#
৩. আরাফায় অবস্থানের পর কাবা তথা বায়তুল্লাহ শরিফ সাতবার তাওয়াফ করা। যাকে তাওয়াফে জিয়ারত বা তাওয়াফে ইফাজা বলা হয়।
ওয়াজিব বিধান : হজের ওয়াজিব ছয়টি। তা হলো—
১. সামান্য সময়ের জন্য হলেও মুজদালিফায় অবস্থান করা। আর তা করতে হবে জিলহজের ১০ তারিখ সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৯৮; তিরমিজি, হাদিস : ৮১৫)#
২. সাফা মারওয়ায় সাত চক্কর লাগানো। যাকে সায়ি বলা হয়। চক্কর লাগানো আরম্ভ হবে সাফা থেকে, আর শেষ হবে মারওয়ায়। (দারাকুতনি, হাদিস : ২৬১৫; মুসলিম, হাদিস : ২১৩৭)#
৩. যথাসময়ে রমি করা তথা শয়তানকে পাথর মারা। (মুসলিম, হাদিস : ২২৮৬)#
৪. তামাত্তু ও কেরান হজকারীরা দমে শোকর তথা হজের কোরবানি করবে।
৫. হারামে কোরবানির দিনগুলোতে মাথা মুণ্ডানো বা চুল ছোট করা। (মুসলিম, হাদিস : ২২৯৮; বুখারি, হাদিস : ১৬১৩)#
৬. মক্কাবাসী ছাড়া অন্যরা তাওয়াফে সদর তথা তাওয়াফে বিদা করা। (মুসলিম, হাদিস : ২৩৫০)#
আরো কিছু ওয়াজিব বিধান : উল্লিখিত ছয়টি হলো হজের ওয়াজিব। হজের আমলগুলোতে আরো কিছু ওয়াজিব রয়েছে। যেমন—
১. সতর ঢাকা। (সহিহ বুখারি)
২. মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা। (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৯১৯০)#
৩. ১২ জিলহজ সূর্যাস্তের আগে তাওয়াফে জিয়ারত (ফরজ তাওয়াফ) সম্পন্ন করা। (মুসলিম, হাদিস : ২৩০৭)#
৪. সূর্য ঢলে যাওয়ার পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত আরাফায় অবস্থান করা। (সহিহ মুসলিম)
৫. প্রত্যেক তাওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করা। (বুখারি, হাদিস : ১৫১১)#
৬. তাওয়াফ অবস্থায় (অজু বা গোসল ফরজ হয় এমন অবস্থা থেকে) পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন থাকা। (নাসায়ি, হাদিস : ২৮৭৩; মুসলিম, হাদিস : ২১৭৩)#
৭. কেরান ও তামাত্তু হজকারী তারতিব বজায় রেখে তিনটি কাজ করা। তা হলো—ক. রমি, খ. কোরবানি, গ. হলক। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৯৮)
৮. তাওয়াফের সূচনা হাজরে আসওয়াদ থেকে করা। (মুসলিম ৮/১৭৪)