এম সেলিম আবেদ, ডুমুরিয়া(খুলনা)সংবাদদাতা
খুলনার ডুমুরিয়ায় কুল চাষ করে বিপ্লব ঘটিয়েছে ডুমুরিয়া এলাকার চাষীরা। চলতি মৌসুমে আগাম জাতের বিষ মুক্ত ও পুষ্টি সমৃদ্ধ এ কুল চাষ করে তারা সাবলম্বী। নারকেল এবং আপেল কুল বিশেষ করে ডুমুরিয়া উপজেলার বাগআচড়া এলাকার পঞ্চানন রায়ের পুত্র আদর্শ কৃষক রনজিত রায়, তিনি ৩ বিঘা, শোভনা এলাকার কালিপদ মন্ডলের পুত্র কৃষক কিশোর মন্ডল ১ বিঘা,একই এলাকার গৌরের পুত্র পলাশ মন্ডল ১ বিঘা,ইনতাজ শেখ ২ বিঘা, কুলবাড়িয়া এলাকার সন্তোষ মন্ডলের পুত্র কৃষক সমর মন্ডল ২ বিঘায় চাষ করেছেন। তারা এবার খুলনা সাতক্ষিরা মহাসড়কের দক্ষিন পাশে কাঠালতলা থেকে মাদারতলা যাওয়ার রাস্তার ধারের জমিতে বিষ মুক্ত মৌসুমি কুল চাষ করেছেন।যা সঠিক পরিচর্যা ও নিয়মিত সার প্রয়োগ করলে মাত্র ৬০/৬৫ দিনে বরোই কুল বিক্রি করা সম্ভব বলে তারা জানান। রাসায়নিক সার ছাড়া ভার্মি কম্পোস্ট ও পোকা দমনে হলুদ কার্ড ও সে· ফ্লেমন ফাঁদ ব্যবহার করে তারা ব্যাপক সফলতা পাচ্ছন। শ্রমিক, সুতা, বাঁশ, সেচসহ ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা সব কৃষক মিলে খরচ হয়েছে বলে তারা জানান। তারা আরো বলেন, কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসলে ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকার কুল বিক্রিয় করতে পারবেন বলে তারা আশাবাদী।
গত কয়েক বছর ধরে এই কুল চাষ করে তারা সফলতা অর্জন করেছেন। এসব কুল চাষিদের দেখাদেখি সমগ্র বিলে কম খরচে অধিক লাভের আশায় আগাম কুলচাষে ঝূঁকে পড়েছে কৃষকরা। পাকা সড়ক থেকে দক্ষিনে তাকালেই দেখা যায় থোকায় থোকায় পরিপুষ্ট কুল ফল, নজর কাড়ার মতো। উপজেলার উপ কৃষি কর্মকর্তারা এসে এ কুলক্ষেত পরিদর্শন করেন এবং এ চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করেন। এতো কুল কোথায় বিক্রি হবে এমন প্রশ্নের জবাবে কুষকরা বলেন, এ বছর আমাদের কুল দেশের নওগাঁ, বরিশাল, রাজবাড়ী, সাতক্ষিরা, ঝিনাইদহ সহ বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে। এদিকে উপজেলার আংগারদহা এলাকার আশুতোষ অধিকারী বলেন, আমি এতোদিন টমেটা,শিম, মিষ্টি কুমড়া চাষ করে থাকি তেমন একটা সুবিধা পাইনা তবে অন্যের দেখাদেখি আগামীতে কুল চাষ করবো। ডুমুরিয়া উপজেলার উপ সহকারী কৃষি অফিসার ইকবল হোসেন জানান, ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে কমবেশি জমিতে কুলচাষ করেছেন। অধিকাংশ ইউনিয়নের মাটি খুবই উর্বর। তাই এখানকার কৃষকদের কুল বাগান গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়। কৃষি অফিসের পরামর্শে এখন ওইসব এলাকায় ব্যাপক কুল চাষ হচ্ছে এবং কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। বর্তমানে উন্নত জাতের কুল এলাকার চাহিদা পূরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।