এম, সেলিম আবেদ,ডুমুরিয়া(খুলনা) সংবাদদাতা।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার ভদ্রা নদীতে মাছ সংকট হওয়ায় কষ্টে আছেন জেলে পরিবারের লোকজন। গত কয়েক বছর ধরে নদীতে আর চাহিদা মত মাছ মিলছে না। সারাদিন নদীতে জাল ফেলে দু থেকে তিন শত টাকার মাছও পাওয়া যায় না। মাছের অভাবে তারা দিন দিন তাদের পেশা পরিবর্তন করছেন। উপজেলার বরাতিয়া গ্রামের মাধব মালো পেশায় একজন জেলে। চার দশক থেকে ভদ্রা নদীতে মুঠো জাল ফেলে পাঁচ সদস্যের পরিবারের ব্যায় বহন করে আসছেন। এতো দিন ভালোভাবে তার সংসার চলছিলো। বর্তমানে নদীতে মাছ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন।এ সমস্যা তার একার নয়।মাধোব মালোর মতো জেলে পাড়ায় উজ্জ্বল,মনো,মান্দার,উত্তম,সহ অর্ধশত জেলে পরিবার কষ্টে আছেন।জেলেরা জানান,নদী বা খাল বিলের ওপর নির্ভর করে এখন সংসার চালানো কঠিন।একারনে এই পেশা ছেড়ে জেলেরা ভিন্ন ভিন্ন পেশায় সম্পৃক্ত হতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় লোকজন বিভিন্ন ধরনের জাল কিনে নদীতে মাছ ধরছেন। ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে মাছের পরিমাণ। একারনে একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে মাছের ব্যবসা সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় সম্পৃক্ত হয়েছি। এতে সংসারের অভাব-অনটন কিছুটা কমেছে বলে তিনি জানান। নদী,খাল জলাশয় এখন আর মুক্ত নেই। স্থানীয় প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়েছে। উপজেলার খর্নিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ দিদারুল হোসেন দিদার বলেন,এসব পরিবারের লোকজন কোন আর্থিক সামর্থ্য, সঞ্চয় ও ভিন্ন কর্মদক্ষতা না থাকায় কষ্টে জীবনযাপন করছে। সময়ের বিবর্তনে এসব পরিবারের জীবনজীবিকার উন্নয়নে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এজন্য তিনি জেলে পরিবারের শিশুদের শিক্ষা ও যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ নিয়ে আয় উপার্জন কর্মের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া উচিত বলে অভিমত ব্যক্ত করেন। এব্যাপারে কথা হয় ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক সাথে তিনি বলেন, এই মৌসুমে একটু সমস্যা হয় তাদের। এমন সময়ে সরকারি ভাবে সহযোগিতার ব্যবস্থা নেই।