সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে নির্ধারণ করা হজের প্যাকেজ মূল্য সংশোধন করে ৪ লাখ টাকার মধ্যে পুনঃনির্ধারণ করার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা। গতকাল আইনজীবী সমিতি ভবনের প্রবেশ মুখে আল-কোরআন স্টাডি সেন্টারের ব্যানারে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের বাণিজ্যিকভিত্তিক হজ প্যাকেজ প্রত্যাহার করতে হবে। তারা বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। আগের বছরে যা ছিল ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা। বর্তমানে বাংলাদেশ-সৌদি-বাংলাদেশ রুটে প্লেন ভাড়া ৭৬ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। সেখানে বিমান ভাড়া দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা। দুদেশের সরকার হজযাত্রীদের সৌদি ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট কিনতে বাধ্য করে। এক্ষেত্রে হজযাত্রীদের স্বাধীনতা খর্ব করা হয়। প্যাকেজে অতিরিক্ত মোয়াল্লেম খরচ ও সৌদি ট্রাভেল খরচ ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া বাড়িভাড়া সৌদি আরবে না বাড়লেও এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাড়ানো হয়েছে। তাই আমরা চাই এসব অনাকাক্সিক্ষত খরচ কমিয়ে ৪ লাখ টাকার মধ্যে নির্ধারণ করার।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, সাবেক বিচারপতি মীর হাসমত আলী, আল কোরআন স্টাডি সেন্টারের প্রধান সমন্বয়ক এডভোকেট আশরাফ উজ জামান প্রমুখ। এর আগে গত ৬ই মার্চ সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলতি মৌসুমে নির্ধারণ করা হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা থেকে কমিয়ে ৪ লাখ টাকার মধ্যে পুনঃনির্ধারণ করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ধর্ম মন্ত্রণালয়কে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আল কোরআন স্ট্যাডি সেন্টার সুপ্রিম কোর্টের কো-অর্ডিনেটর এডভোকেট আশরাফ-উজ্-জামান। নোটিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান। এ ছাড়া, ই-মেইলযোগে নোটিশের অনুলিপি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি), সৌদি আরবের বাদশা, ইরানের প্রধানমন্ত্রী, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, কাতারের সরকারপ্রধানসহ বিশ্বের মুসলিম সব অ্যাম্বাসি বরাবর পাঠানো হয়।
মানবজমিন