ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

সুদানে সংঘাতে তিন জাতিসংঘ কর্মীসহ কমপক্ষে নিহত ২৭

সুদান জুড়ে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২৭ জন নিহত ও দুই শতাধিক আহত হয়েছে। নিহতের মধ্যে তিনজন জাতিসংঘের কর্মী। গতকাল শনিবার (১৫ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে। খবর বিবিসি ও সিএনএন।

মোহাম্মদ হামদান দাগালোর নেতৃত্বাধীন আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

খার্তুমের ৯০ শতাংশের বেশি কৌশলগত স্থাপনা দখলে নেয়ার দাবি করেছেন দাগালো। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট ভবনও রয়েছে।

তবে এ দাবির বিরোধিতা করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। তিনি বলেন, সরকারি স্থাপনার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে সেনাবাহিনী।

এক সাক্ষাৎকারে ‘অপরাধী’ হিসেবে উল্লেখ করে হেমেদতি নামে পরিচিত দাগালোর বিরুদ্ধে যুদ্ধে উস্কানি দেয়ার অভিযোগ আনেন বুরহান। এর ফলে তিনজন বেসামরিক লোক নিহত ও কয়েক ডজন আহতের দাবি করেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও রাজধানীর সেনা সদর দপ্তরসহ খার্তুম জুড়ে সশস্ত্র সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সেন্ট্রাল খার্তুমের একটি হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, কয়েক ঘণ্টায় কয়েক ডজন আহত বেসামরিক ও সামরিক কর্মী চিকিৎসা নিতে এসেছে।

দাগালোর উত্থান শুরু হয়েছিল এই শতকের প্রথম দশকের গোড়ার দিকে। তখন তিনি দারফুর সংঘাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত কুখ্যাত জানজাওয়েদ বাহিনীর নেতা ছিলেন। ২০১৯ সালে গণতন্ত্রপন্থী শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে গুলি করে কমপক্ষে ১১৮ জনকে হত্যা করেছিল তার দল।

সুদানের সেনাবাহিনী দাগালোর আরএসএফকে দেশের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করার জন্য অভিযুক্ত করেছে ও দলটি ভেঙে দেয়ার দাবি করেছে।

এক বিবৃতিতে বলেছে, হেমেদতির বিদ্রোহী মিলিশিয়াকে ভেঙে দেয়ার আগে কোনো আলোচনা বা সংলাপ হবে না। দাগালোকে ‘পলাতক অপরাধী’ অভিহিত করে ওয়ান্টেড পোস্টারও জারি করেছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস আরএসএফ ও সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর নেতাদের ‘অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে মানবাধিকার সাহায্যে প্রবেশাধিকার ও জাতিসংঘের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছে।

আফ্রিকান ইউনিয়নও রাজনৈতিক ও সামরিক পক্ষগুলোকে ন্যায্য রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

সুদানের সেনাবাহিনীর জেনারেল কমান্ড একটি বিবৃতি জারি করে বেসামরিক নাগরিকদের বাড়ির ভেতরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। আরো বলছে, দ্রুত প্যারামিলিটারি বাহিনীর অনুসন্ধানে অভিযান পরিচালনা করবে যুদ্ধবিমান।

প্রসঙ্গত, আফ্রিকার দেশ সুদানে ২০২১ সালের অক্টোবরে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে। তার পর থেকেই সামরিক জেনারেলদের পরিচালিত সভরিন কাউন্সিল নামে একটি পরিষদ দেশ পরিচালনা করছে। সভরিন কাউন্সিল চায়, দুই বছরের মধ্যে আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফকে মূল সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করতে। তবে আরএসএফ চায় আরো অন্তত দশ বছর পর এ প্রক্রিয়া শুরু হোক। পক্ষদুটির সাম্পতিক দ্বন্দ্বের মূল কারণ এটিই।

এর আগে ২০১৯ সালে প্রায় তিন দশক ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট
;