ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

লাব্বাইক ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান

‘লাব্বাইক, আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্ দা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়ালমুলক লা শারিকা লাক’
। অর্থাৎ- ‘আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির, তোমার কোনো শরিক নেই, সব প্রশংসা ও নিয়ামত শুধু তোমারই, সব সাম্রাজ্যও তোমার।’ এই ধ্বনিতে মুখরিত হলো পবিত্র আরাফাতের ময়দান। আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে দিয়ে প্রার্থনায় মশগুল হলেন হজযাত্রীরা। কান্নায় ভেঙে পড়লেন আল্লাহর দরবারে। পাহাড়ে, সমতলে- যে যেখানে ঠাঁই পেয়েছেন, সেখানে বসেই ‘লাব্বাইক’ তালাবিয়া পাঠ করেছেন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেছেন। হৃদয় গলিয়ে বিগত জীবনের গোনাহ মাফ চেয়েছেন। এমন দৃশ্য গতকাল আরাফাতের ময়দানের। ইহরাম বাঁধা হজযাত্রীদের পদচারণায় এদিন ভোর থেকেই মুখরিত হয়ে ওঠে এই ঐতিহাসিক ময়দান। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণকে বুকে ধারণ করে ইসলাম ও এর নবীর পক্ষে সাক্ষ্য দেয়া এই ময়দা
সোমবার ভোর থেকে গতকাল ফজরের নামাজ পর্যন্ত হজযাত্রীরা অবস্থান করেন মিনায়।
সেখানে আল্লাহর ইবাদত বন্দেগিতে দিনরাত পার করেন তারা। মঙ্গলবার ফজরের নামাজের পর থেকেই মুখে এক সুরে ‘লাব্বাইক’ ধ্বনি তুলে যাত্রা করেন আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে। সৌদি আরবে ৯ই জিলহজের দিনটিই পবিত্র আরাফাতের দিন। এ দিনের আনুষ্ঠানিকতাকে মূল হজ হিসেবে ধরা হয়। পুরো আরাফাতের ময়দান এদিন সাদা ইহরাম বাঁধা হজযাত্রীদের ঢলে সফেদ সমুদ্রের রূপ ধারণ করে। আরাফাতের ময়দানে এক লাখ ১০ হাজার বর্গমিটারের নামিরা মসজিদ এক ঐতিহাসিক নিদর্শন। মহানবী (সা.) যেখানে দাঁড়িয়ে বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন, সেখানেই গড়ে উঠেছে এই মসজিদ। দিনের দৈর্ঘ্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদটির ভেতরে এবং ৮ হাজার বর্গমিটার চত্বরে হজযাত্রীতে ভরে যায়।

বাকিরা আরাফাতের ময়দানে যে যেখানে স্থান পেয়েছেন সেখানে, নিজেদের তাঁবুতে অবস্থান নিয়ে ইবাদতে মগ্ন হন। এই মসজিদে দুপুরে ঐতিহাসিক নামিরা মসজিদে খুতবা দেন এ মসজিদের খতিব ইউসুফ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ। এই খুৎবাকে দেখা হয় মহানবী (সা.)-এর বিদায় হজের ভাষণের আঙ্গিকে। তার খুৎবা শেষে হজযাত্রীরা এক আজানে জামাতে একসঙ্গে জোহর ও আসরের নামাজ আদায় করেন। এ সময় মসজিদে নামিরার ভেতরে এবং বাইরে বিস্তৃত আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হজযাত্রীরা নামাজে শরিক হন। খুৎবা বিশ্বব্যাপী রেডিও ও টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয় ২০টিরও বেশি ভাষায়। এর মধ্যে বাংলা অন্যতম। অনলাইন সৌদি গেজেট বলছে, দুপুরের নামাজের পর হজের চারটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম উকুফ আরাফাত শুরু হয়। এ সময় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তারা আল্লাহর ইবাদত করেন। আল্লাহর কাছে নিজেকে উৎসর্গ করেন। এদিনে বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর অসংখ্য মুসলিম হজের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে রোজা রাখেন। যারা আরাফাতের দিন পবিত্র হজ করতে পারেন না, তাদের কাছে এটা এক মহান বরকতময় সুন্নত। আজ সৌদি আরবসহ অনেক মুসলিম দেশ পালন করবে পবিত্র ঈদুল আজহা।

সৌদি আরব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- এবার কমপক্ষে ২৫ লাখ মুসলিম পবিত্র হজব্রত পালন করছেন। তারা মঙ্গলবার ভোর থেকে মাশাইর ট্রেন, বাস এবং অন্য যানে করে মিনা থেকে আরাফাতের ময়দানের দিকে ছুটতে থাকেন। এতে সব রাস্তা হজযাত্রীতে এক অদ্ভুত সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তাদের মাথার উপর দিয়ে উড়তে থাকে নজরদারিকারী হেলিকপ্টার। রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তাদেরকে হজযাত্রীদের হাতে পানির বোতল তুলে দিচ্ছিলেন স্বেচ্ছাসেবকরা। আবার প্লাস্টিকের উচ্ছিষ্টও তুলে নিয়ে পরিষ্কার অভিযান চালাচ্ছিলেন তারা।

নাইজেরিয়ার হজযাত্রী মোহাম্মেদ হামাদ বলেছেন, আল্লাহর কাছাকাছি আসার এ অনুভূতি অসাধারণ। তিনি সর্বশক্তিমান, কল্যাণ, শান্তি আর সমৃদ্ধির জন্য তার কাছে সরাসরি ফরিয়াদ জানানোর এ এক অনন্য সুযোগ। আফগানিস্তানের হজযাত্রী মোহাম্মদ নুমান বলেন, আমাকে এবার হজে আসার তৌফিক দিয়েছেন আল্লাহ। এ জন্য তার কাছে শুকরিয়া। কেমন লাগছে বলে বোঝাতে পারবো না। সবার হজ আল্লাহ কবুল করুন।

@মানবজমিন

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট
;