২০১৯ সালের ৯ই জুলাই, ম্যানচেস্টার ওল্ড ট্রাফোর্ড ক্রিকেট গ্রাউন্ডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় ভারত ও নিউজিল্যান্ড। সেই ম্যাচে ভারতের স্বপ্ন চূর্ণ করে ফাইনালে পৌঁছে নিউজিল্যান্ড। এক আসর পর ফের একই মঞ্চে মুখোমুখি দুই দল। এবার কিউইদের হারিয়ে পুরনো হিসাব মেটানোর পালা ভারতের। আজ মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে ভারত। দুপুর আড়াইটায় শুরু হবে ম্যাচটি। ২০১৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে কেইন উইলিয়ামসনের ৬৭ এবং রস টেইলরের ৭৪ রানে ভর করে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রানের টার্গেট দেয় নিউজিল্যান্ড। রান তাড়ায় ব্যাটিংয়ে ৯২ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। সপ্তম উইকেটে রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়ে ১১৬ রানের জুটি গড়েন তৎকালীন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি। তবে তাদের লড়াকু সংগ্রহ যথেষ্ট হয়নি ভারতের জয়ের জন্য।
জাদেজা ৭৭ এবং ধোনি ৫০ রানে আউট হওয়ার পর আর কেউ হাল ধরতে পারেননি। শেষতক ১৮ রানের হারে ভারত।
২০২৩ বিশ্বকাপের রাউন্ড রবিন লীগ পর্বে ৯ ম্যাচে শতভাগ জয়ে পূর্ণ ১৮ পয়েন্ট শীর্ষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে ভারত। ৯ ম্যাচে ৫ জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে সেমিতে যায় নিউজিল্যান্ড। রাউন্ড রবিন লীগের এক নম্বর এবং চতুর্থ দলের মধ্যে আয়োজিত হচ্ছে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালটি।
ফেভারিট কোন দল?
নিউজিল্যান্ডের মোকাবিলায় ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে ভারত। বিশ্বকাপের লীগ পর্বের পারফরম্যান্সে কিউইদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে স্কাই ব্লুরা। গ্রুপ পর্বের সবকটি ম্যাচ জিতেছে ভারত। বিপরীতে ৫ জয়ের সঙ্গে ৪টি ম্যাচ হেরেছে নিউজিল্যান্ড।
হেড টু হেড পরিসংখ্যান
ওয়ানডে বিশ্বকাপে মোট ১০ বার দেখা হয়েছে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের। এর মধ্যে ৫ জয় কিউইদের। ৪টি জিতেছে ভারত। পরিত্যক্ত হয় একটি ম্যাচ। ওয়ানডে ফরম্যাটে মোট ১১৭ বার দেখা হয়েছে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের। এর মধ্যে ৫৯ জয় ভারতের। ৫০টি ম্যাচ জিতেছে নিউজিল্যান্ড। ৭ ম্যাচের কোনো ফল হয়নি। ১টি হয়েছে ড্র। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মোট ৩৮টি ওয়ানডে খেলেছে ভারত। এর মধ্যে ৩০টিই জিতেছে স্কাই ব্লুরা। ৮ জয় কিউইদের।
বিশ্বকাপ রেকর্ড
ওয়ানডে বিশ্বকাপের দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত। ১৯৮৩ সালের পর ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জেতে দলটি। ২০০৩ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হওয়া ভারত মোট ৪ বার সেমিফাইনাল খেলেছে। ১৯৭৫-এর পর ১৯৭৯ সাল- বিশ্বকাপের প্রথম দুই আসরের সেমিফাইনালিস্ট নিউজিল্যান্ড। এরপর টানা দুই আসরে গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয় কিউইরা। ১৯৯২ সালে তৃতীয়বারের মতো সেমিফাইনাল খেলে নিউজিল্যান্ড। ১৯৯৬ সালে ব্ল্যাক ক্যাপদের বিশ্বকাপ যাত্রা থামে কোয়ার্টার ফাইনালে। ১৯৯৯ সালে ফের সেমিফাইনালে ব্যর্থ হয় নিউজিল্যান্ড। ২০০৩ বিশ্বকাপে সুপার সিক্সে থামে কিউইদের মিশন। ২০০৭ এবং ২০১১- টানা দু’বার সেমিফাইনাল খেলার পর ২০১৫ এবং ২০১৯ বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয় নিউজিল্যান্ড।
ভারতের শক্তি
বিশ্বকাপের লীগ পর্বে ভারতের তিন বিভাগেই (ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং) সমানতালে ছন্দ দেখিয়েছে। তবে আলাদা করে চোখে পড়েছে পেস বিভাগের নৈপুণ্য। মোহাম্মদ শামি, মোহাম্মদ সিরাজ, জাসপ্রীত বুমরাহদের আগুনে বোলিংয়ে গ্রুপপর্বে ভারতের বিপক্ষে সব দলেরই প্রথম ১০ ওভারে ৫০ রান তুলতে খাবি খেতে হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত দুটি উইকেট হারাতে হয়েছে দলগুলোকে। আজ সেমিফাইনালে ভারতের পেস আক্রমণের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে কিউইদের।
নিউজিল্যান্ডের শক্তি
সেমিফাইনালে সাফল্য পেতে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারদের চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হবে ভারতীয় বোলারদের। কিউই ব্যাটারদের মধ্যে ডেভন কনওয়ে বাদে মোটামুটি সবাই নিয়মিত ছন্দ দেখাচ্ছেন। রাচিন রবীন্দ্র, অধিনায়ক কেইন উইলিয়ামসন, ড্যারিল মিচেল বিপদের কারণ হতে পারেন ভারতের। তাছাড়া রাউন্ড রবিন লীগে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান করা দল নিউজিল্যান্ড।
ভারতের দুর্বলতা
আপাত দৃষ্টিতে বিশ্বকাপে ভারতের দুর্বলতা চোখে পড়েনি। তবে অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়ার অভাববোধ করছে স্কাই ব্লুরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে চোটে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়া এই ক্রিকেটারের অভাব পূরণ করতে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ৯ বোলার খেলিয়েছে ভারত। অধিনায়ক রোহিত শর্মার ভাষ্য, ষষ্ঠ বোলারের খোঁজে পাঁচ বোলারের সঙ্গে অতিরিক্ত তিন বোলার ব্যবহার করেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের দুর্বলতা
বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বোলিং দুর্বলতা নজরে পড়েছে। ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদিদের মতো গ্রেট বোলাররাও খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। বিশেষ করে পাকিস্তান ম্যাচে বাজে পারফর্ম করেন তারা। ফখর জামানের বিধ্বংসী সেঞ্চুরির মোকাবিলায় ৬ ওভার ৫০ রান খরচ করেন ট্রেন্ট বোল্ট। লীগ পর্বে সুবিধা করতে পারেননি ম্যাট হেনরি, লকি ফার্গুসনরাও।