ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

ডুমুরিয়ায় সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি মারছে আমের গুটি

সেলিম আবেদ,খুলনা প্রতিনিধি
শীত শেষে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে কেবলই মৌ মৌ করতে শুরু করেছে চারিদিক। মুকুলের সেই সুমিষ্ট সুবাস আন্দোলিত করে তুলছে মানুষের মন। প্রকৃতির এ মনোমুগ্ধকর পরিবর্তনই যেন জানান দিচ্ছে মধুমাস আসছে। ডুমুরিয়া  উপজেলার বাগানগুলোতে যেদিকে চোখ যায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে দৃশ্যমান  আমের মুকুল। মৌমাছিরাও আসতে শুরু করেছে তাদের মধু আহরণের জন্য।
শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের সেই সুমধুর কুহুতানে মাতাল করতে আবারও ফিরে আসছে বাংলার বুক মাতিয়ে ঋতুরাজ বসন্ত।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। প্রায় সব জায়গায় চোখে পড়ছে মুকুলে ছেয়ে যাওয়া সারি সারি আমগাছ। এভাবে ফাগুনের আগেই গাছে গাছে প্রস্ফূটিত আমের মুকুল সর্বত্র ছড়াচ্ছে হাল্কা স্বর্ণালী আভা। উপজেলার প্রতিটি গাছে নতুন ফুলে বাংলার প্রকৃতি এক অপরূপ সাজে সেজেছে। মুকুলের মৌ মৌ ঘ্রাণ পাগল করেছে সকলকে। মৌমাছির দল গুণ গুণ শব্দে, মনের আনন্দে আহরণ করছে মধু। মৌমাছির এ গুণ গুণ সুরও কেড়ে নিয়েছে অনেক প্রকৃতি প্রেমীর মনকে। নতুন ফুলে-ফুলে ভরে উঠেছে প্রতিটি আম গাছের শাখা প্রশাখা। এ যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। বছরের এ সময় কমবেশী সব শ্রেণির মানুষেরও দৃষ্টি থাকে সবুজ পাতায় ঢাকা আমগাছের শাখা-প্রশাখায়। সদ্য মুকুল ফোটার এমন দৃশ্য এখন ইট-পাথরের গড়া নগর থেকে শুরু করে বিস্তৃত উপজেলার গ্রামীণ জনপদজুড়ে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার ১৪ টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ল্যাংড়া, ফজলী, হিমসাগর, আশ্বিনা ও লক্ষনভোগ জাতের আমগাছগুলো মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে। বছরের নির্দিষ্ট এ সময়জুড়ে। কমবেশী সব শ্রেণির মানুষেরও দৃষ্টি থাকে সবুজ পাতায় ঢাকা আমগাছের শাখা-প্রশাখায়। উপজেলার আটলিয়া  ইউনিয়নের বরাতিয়া গ্ৰামের আমচাষি নিতাই মল্লিক বলেন, এবার নিজের ৭ বিঘা জমিতে  আমের চাষ করেছি। আবহাওয়ার কারণে এবার দেরিতে আমের মুকুল এসেছে। বর্তমানে আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য বেশ উপযোগী। বাগান গুলোকে এখন ভালোভাবে পরিচর্যা করে ভালো ফলন পাওয়ার আশায় উপযুক্ত করে গড়ে তুলছি। আমি এখন সারাদিন গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছি। এই জমি গুলোতে আমরুপালী, আশ্বিনা, ফজলী, ল্যাংড়া, হিমসাগর সহ বিভিন্ন জাতের আম রয়েছে। আশা করছি এবার বেশ মুনাফা অর্জন করতে পারব। খর্নিয়া  ইউনিয়নের আমচাষি রফিকুল মির জানান, এবার আমি ৩ বিঘা জমিতে আমের বাগান করেছি। চলতি বছর শীতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় ও কুয়াশার কারণে গতবারের তুলনায় এবার মুকুল কিছুটা কম এসেছে। কিন্তু বর্তমানে আবহাওয়া ভালো হওয়ায় ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।  এবারের আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য বেশ উপযোগী। তিনি আরো জানান, বর্তমানে আমরা গাছের মুকুল গুলোকে ছত্রাক ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করার জন্য কীটনাশক স্প্রে করছি। আশা করছি গতবার যে লোকসান হয়েছে তা এবার ইনশাআল্লাহ কাটিয়ে উঠতে পারব। উপজেলা  রানাই গ্রামের আম ব্যাবসায়ী স্বপন কুণ্ড  বলেন, এবারের আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য বেশ উপযোগী। আবহাওয়ার কারণে এবার মুকুল আসতে একটু বিলম্ব হলেও আশা করছি আমের বাম্পার ফলন হবে এবং কৃষকরা গতবারের লোকসান কাটিয়ে উঠবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইনসাদ ইবনে আমিন (তুহিন)  বলেন,  এ বছর শীতের প্রকোপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়া ও কুয়াশাচ্ছন্নের কারণে মুকুল কম এসেছে। আমরা কৃষি বিভাগ প্রতি বছরের ন্যায় আমের ভালো ফলনের জন্য কৃষকদেরকে সার্বিক পরামর্শ ও সহযোগিতা করার জন্য আম চাষীদের সাথে কথা বলছি এবং পরামর্শ দিচ্ছি। এজন্য কৃষকদেরকে সার্বিক পরামর্শ প্রদানের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কৃষকদের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধও করছি ।

;