ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

ডুমুরিয়ায় অতিথি পাখি পাহারা দিচ্ছে পুলিশ সাংবাদিক

Oplus_131072

 

সেলিম আবেদ  খুলনা প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়ায়  নদীর ধারে ও মাছের ঘেরের ভেড়িতে শীতের সময়   দূর-দূরান্ত থেকে আসা শীতকালীন অতিথি পাখির কিচিরমিচিরে মুখরীত হয়ে ওঠেছে বিস্তীর্ণ এলাকা। উপজেলার মাগুরখালি,আধারমানিক,বাগআচড়া,পুটিমারি, সহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা খাল বিলে ও মাছের ঘেরে বেড়িবাঁধে এসব পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে উঠেছে। সকাল আর পড়ন্ত বিকেলে দল বেঁধে উড়ে বেড়ানোর দৃশ্য যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে আঁকা চলমান চিত্র, যা মুগ্ধ করছে এলাকাবাসীর। এদিকে কিছু অসাধু পাখি শিকারিদের বিপরিতে মহড়া দিচ্ছে পুলিশ, সাংবাদিক। প্রকৃতি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি বছর শীত মৌসুমে হাজার হাজার পরিযায়ী পাখি খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাংলাদেশে আসে। আমাদের দেশে আবাসিক ও অতিথি পাখি  মিলিয়ে প্রায় ৬৫০ প্রজাতির পাখি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৬০ প্রজাতি আবাসিক এবং বাকি ৩০০ প্রজাতি অতিথি পাখি। এসব অতিথি পাখির মধ্যে প্রায় ২৯০ প্রজাতি শীত মৌসুমে আসে, আর অল্প কয়েকটি প্রজাতি সারা বছর অবস্থান করে। নদীতীরের কলকল ধ্বনি আর পাখির কলকাকলি মিলেমিশে প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে বহু গুণ।পাখিপ্রেমী রহিমা বেগম ও সায়মা সুলতানা তাসমিম বলেন, শীত এলেই নদী, খাল, বিল ও জলাশয়ের ধারে চোখে পড়ে নানা রঙের নাম জানা-অজানা পাখি। অথচ দুঃখজনকভাবে এখনো বেআইনিভাবে এসব অতিথি পাখি শিকার করা হয়। তার মতে, অতিথি পাখি আমাদের বন্ধু ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন উজাড়, জলাভূমি ধ্বংস, অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় দিন দিন সঙ্কুচিত হয়ে যাচ্ছে।বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২ অনুযায়ী পরিযায়ী পাখি শিকার করলে সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। একইভাবে পাখির গোশত বা দেহাংশ সংরক্ষণ, বিক্রি কিংবা পরিবহন করাও দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণীর পেশাদার শিকারি সুযোগের ফাঁক গলে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।তবে উপজেলার  মানুষ এখন পাখি রক্ষায় সচেতন। উপজেলার খর্নিয়া এলাকার শেখ রাসেল ও আফজার জানান, প্রতি বছর শীতে এসব এলাকায়  পাখির আগমন ঘটে। হোগল বন ও ঘেরের পাশে বনের আড়ালের ভেতর তারা নিরাপদে থাকে। আগে শিকারিরা বন্দুক নিয়ে আসত, এখন এলাকাবাসীর প্রতিরোধে তারা আর আসে না। ডুমুরিয়া মডেল স্কুলের প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও খর্নিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাধন কুমার মুখার্জি এবং ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান  বলেন, পাখির আবাসস্থল সঙ্কট, শিকার ও বিষটোপ ব্যবহারের কারণে অতিথি পাখির সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা জরুরি। ডুমুরিয়া  উপজেলা নির্বাহী অফিসার  সবিতা সরকার বলেন, অতিথি পাখি আমাদের পরিবেশের অমূল্য সম্পদ। কেউ বিরক্ত করলে বা শিকার করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। মানুষের সচেতন পাহারাই পারে ডুমুরিয়ায় এই ডানা মেলা উৎসবকে বাঁচিয়ে রাখতে।

 

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত রিপোর্ট
;