ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

বগুড়ার সান্তাহারে প্রভাবশালীদের তাণ্ডব! সরকারি পুকুর কেটে মাটি পাচার, ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা।

এম আব্দুর রাজ্জাক বগুড়া থেকে :

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি পুকুর দখল ও অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। রাতের আঁধারে চলা এই তাণ্ডবের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হিসেবে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে। (৩০ মার্চ সোমবার) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা সুলতানা ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে এই দণ্ড দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার পৌর শহরের নতুন এলাকার শাহী মসজিদের পাশের সরকারি পুকুরে কয়েকদিন ধরে গোপনে মাটি কাটা হচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে উত্তোলিত মাটি ট্রাকযোগে পাশের একটি ইটভাটায় পাচার করা হতো। এতে পুকুরের স্বাভাবিক কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পাশের সড়ক ধসে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে যা স্থানীয় জনসাধারণের জন্য বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের ক্ষোভ চরমে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, শাহী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আজাহারুল ইসলাম সাজ্জাদ পুকুরটিকে মসজিদের সম্পত্তি দাবি করে প্রভাব বিস্তার করে এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে এক সচেতন বাসিন্দা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়। এরপর বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা আদায় করা হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম জানান, “সরকারি সম্পত্তি দখল বা ক্ষতিসাধনের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে এমন কঠোর পদক্ষেপই পারে সরকারি সম্পদ রক্ষা করতে এবং প্রশাসনের এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। এছাড়া আরও জানিয়েছেন তারা, ইতিপূর্বে আমরা আদমদীঘি উপজেলায় এ ধরনের সহকারি কমিশনার (ভূমি) পাই নাই। বর্তমান তিনি দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন সরকারি কাজে। তিনি সরকারি বিধিবিধান মোতাবেক আইন অনুযায়ী মাঠ প্রশাসনে কাজ করছেন। সেই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা বেগম এবং সহকারী কমিশনার( ভূমি ) মাহমুদা সুলতানা কে অসংখ্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন সান্তাহারবাসী।

;