সেলিম আবেদ, খুলনা প্রতিনিধি
ন্যায্য দাম না পেয়ে সারাদেশের সবজি চাষিরা যখন হাহাকার করছে, ঠিক তখনই খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার তরমুজ চাষিদের মুখে চওড়া হাসি ফুটেছে। মাছ-মুরগি-সবজি’ উৎপাদনে বিশেষ খ্যাতি অর্জনকারী খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার অসংখ্য চিংড়ি ঘেরে মাছের পাশাপাশি আইলে নানা রকমের সবজি চাষ করে সারা দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বেশ লাভের মুখও দেখছিলো। সাম্প্রতিক সময়ে বহুবিধ কারণে মাছ বা সবজিতে আশানুরুপ দাম না পাওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে। এমনতর অবস্থায় ডুমুরিয়ার কৃষকরা ঘেরের আইলে নানারকম সবজি চাষ-কে পাশে সরিয়ে রেখে অসময়ের তরমুজ চাষ করে বিপুল ভাবে লাভের মুখ দেখছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সমগ্র ডুমুরিয়া উপজেলায় ৩’শ ১৪ হেক্টর জমিতে অসময়ের তরমুজ চাষ হয়েছে। তারমধ্যে শরাফপুর ইউনিয়নের বিত্তি-ভুলবাড়িয়া, শোভনা ইউনিয়নের মাদারতলা, আটলিয়া ইউনিয়নের বরাতিয়া, মাগুরখালি ইউনিয়ন ও ডুমুরিয়া সদর-ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নের সিমান্তে নলঘোনা বিলে সর্বাধিক চাষিরা তরমুজ চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপারীরা এসে ডুমুরিয়ার বিভিন্ন সবজির আড়ৎ থেকে তরমুজের বেশ-বড়বড় স্তুপ দেখা কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তবে আড়তে কিছু সিন্ডিকেটের অভিযোগ উঠেছে।
গত সোমবার সকালে ডুমুরিয়া সদরে নলঘোনা বিলে ঘেরের আইল ধরে প্রায় ৪ কিলোমিটর পথ ঘুরাকালে প্রায় সকল ঘেরের মাচায়(বান) রঙ্গিন নেটের ব্যাগে ছোট-বড় তরমুজ ঝুলতে দেখা গেছে। তরমুজ ক্ষেতে পরিচর্যারত বেশ কয়েকজন চাষির সঙ্গে কথা হয়। শেষে বিল সমিতির সভাপতি কারিমুল শেখ ওই বিলের পথিকৃত চাষি জবেদ আলী শেখ(৬৮)’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, উনিই আমাদের তরমুজ চাষের পথ দেখিয়েছেন বলে আজ ভালো লাভের মুখ দেখছি। ৮ বিঘা জমির ৫টি চিংড়ি ঘেরের আইলে সফল তরমুজ চাষি জবেদ আলী শেখ বলেন, ৫ বছর আগে শখ করে তরমুজ চাষ করেছিলাম। ভাল ফল পেয়ে পরের বছর ২টি ঘেরে চাষ করে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিক্রি করি। তা দেখে বিলের সকলেই এখন তরমুজ চাষ করে লাভের মুখ দেখছে। গত ২১ আগষ্ট শুক্রবার এ বছর ২টি ঘের থেকে প্রথম ফল কেটে বাড়ি থেকে ৪৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি করে ৬১ হাজার টাকা পেয়েছি। আশা করছি এ বছর ৫ লাখ টাকা বিক্রি হবে। বিল থেকে কৃষকদের তরমুজ কিনে গাড়িতে করে ঢাকার কাওরান বাজার, পঞ্চগড় ও বরিশালে পাঠানো শুরু করা তরুণ ব্যবসায়ী খায়রুল ইসলাম বলেন, চলতি বছর এ পর্যন্ত ১১টি পিকআপ গাড়িতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যবসায়ীদের কাছে পাঠিয়েছি। আরও ২ মাস ধরে ব্যবসা চলবে। তবে ওই বিলের তরমুজ চাষি নারায়ণ মন্ডল বলেন, আমাদের বিলে ভাইরাস লেগে অনেকের তরমুজ গাছ মরে যাছে। কিন্তু উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের সহায়তা তো দূরের কথা কোনো খোজও নেয়নি। এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমূল হুদা বলেন, আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করছি। এ বছর তরমুজ চাষিরা বেশ-ভালো দাম পাচ্ছে।