রেজাউল করিম লিটন
ফুল দিয়ে সু-সজ্জিত এমন গাড়ি দেখলেই মনে হয় বিয়ে করতে যাচ্ছেন হবু বর। না, এটা বিয়ের গাড়ি নয়। এমন সু-সজ্জিত জেলা পুলিশের গাড়িতে অবসরে গেলেন চুয়াডাঙ্গা জেলার আরআই (পুলিশ ইন্সপেক্টর) আহাম্মদ আলী।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম তার সহকর্মীকে সম্মানিত করতে এবং বিদায় বেলাকে স্মরণীয় করে রাখতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করে সু-সজ্জিত সরকারি গাড়িতে তাকে বাড়ি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন। এ ছাড়াও তাকে সম্মাননা স্মারকসহ শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।
এ সময় পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম বলেন, অবসরে গমন করলেও ইন্সপেক্টর আহাম্মদ আলী আমাদেরই পরিবারের সদস্য। তিনি পুলিশ বাহিনীতে এসে এ দেশকে অনেক কিছু দিয়েছেন। তার বিদায় বেলায় এ সন্মানটুকু জানাতে পেরে আমরাও আনন্দিত।
তিনি আরো জানান, দেশের সকল জেলা পুলিশে কর্মরত প্রতিটি পুলিশ সদস্য এভাবে সন্মান নিয়ে বিদায় নেবেন এটা আমি প্রত্যাশা করি।
সহকর্মীকে বিদায় জানাচ্ছেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা
বিদায়ী পুলিশ পরিদর্শক আহাম্মদ আলী তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ বাহিনীতে এটি বিরল দৃষ্টান্ত। চাকরি জীবন শেষে সম্মানের সঙ্গে বিদায় নেয়া নিঃসন্দেহে সকলের জন্য অত্যন্ত আনন্দের। অনেক সময় এমনও হয়েছে ডিউটি শেষ করে ব্যারাকে ফিরে সহকর্মীকে না দেখে কোথায় গিয়েছে জানতে চাইলে পরে জানতে পেরেছি সে আজ পিআরএল গেছে। সেই দিক থেকে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি।
পুলিশ বাহিনীতে দীর্ঘ ৩৮ বছর কর্মরত ছিলেন তিনি। কর্ম দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে অবসর প্রস্তুতিকালীন ছুটিতে নিজ বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে কাটাতে সোমবার বেলা ১১ টায় নিজ জেলা গাইবান্ধার উদ্দেশ্যে রওনা করেন। এ সময় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ পরিদর্শক আহম্মদ আলীর এভাবে বিদায় সংবর্ধনার ফলে একদিকে যেমন তিনি এবং তার পরিবার আনন্দিত হয়েছেন অন্যদিকে তার সামাজিক মর্যাদা বহুগুনে বৃদ্ধি পেয়েছে। আহাম্মদ আলী ১৯৬২ সালে গাইবান্ধা জেলার সদর থানার দক্ষিণ জিদারী গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।
১৯৮৩ সালে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে সততা, নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, কর্মদক্ষতা এবং নিজ বাহিনীর প্রতি দায়িত্ববোধের কারণে তিনি চারবার পদোন্নতি প্রাপ্ত হন। বর্তমানে তিনি পুলিশ পরিদর্শক (সশস্ত্র) পদে চাকরিরত অবস্থায় অবসরে গেলেন।