এম, সেলিম আবেদ,ডুমুরিয়া (খুলনা) সংবাদদাতা:
ঈদুল আজহা”র ঈদকে কেন্দ্র করে মসলা জাতীয় পণ্যগুলোর দাম বাড়ছে। এরই মধ্যে কোরবানিতে অন্যতম প্রয়োজনীয় মসলা পণ্য পেঁয়াজের দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ। আদা-রসুন, এলাচ এবং দারুচিনির দামও এখন চড়া। ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের বাজারে নতুন করে মসলার দাম বাড়ায় বড় বিপদের মুখে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষের। কোরবানি ঈদে নিত্যপণ্যের মতো মসলাও অপরিহার্য পণ্য। কারণ রান্নায় অবশ্যই মসলা ব্যবহার করতে হয়। খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন পাইকারী ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ঈদ ঘিরে মসলার বাজারে উত্তাপ বেড়েই চলেছে। কুরবানির ঈদে অন্যতম প্রয়োজনীয় মসলা এলাচি। বর্তমানে মানভেদে প্রতিকেজি জিরায় ৩০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৫৫ থেকে ৩৯০ টাকায়, দারুচিনি ১০ থেকে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ২৩০ টাকা থেকে ২৭০ টাকা ও এলাচি কেজিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩৫০ টাকা থেকে ১৬৮০ টাকায়। এছাড়াও তেজপাতা ৯০ টাকা থেকে ১৩০ টাকায়, সাদা গোল মরিচ ৯৮০ টাকা থেকে ১০০০ টাকা, কালো গোল মরিচ ৬৮০ টাকা থেকে ৭০০ টাকায়, জয়ফল ৬৫০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকায়, যত্রিক ১৩৫০ টাকা থেকে ১৪৫০ টাকা, কিসমিস ২৬৫ টাকা থেকে ২৭৫ টাকা, কাঠবাদাম ৬১০ টাকা থেকে ৭১০ টাকা, প্রতিকেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, দারুচিনি ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা ও এলাচি বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকায়, তেজপাতা ১৫০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১০০০ টাকা, কালো গোল মরিচ ৮০০ টাকা থেকে ৯০০ টাকায়। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবকিছুর দাম বাড়ছে, তাই এখন মসলার দামও বাড়ছে। তবে চাল-ডাল, তেল-আটার দাম যেভাবে বেড়েছে, সেভাবে মসলার দাম বাড়েনি বলে জানান তারা। দাম বৃদ্ধির পেছনের যুক্তি হিসেবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার পর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পণ্য আমদানিতে খরচ বেড়েছে। দেশের ভেতরে পণ্য আনা নেওয়ার খরচও বেড়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের টিকে থাকার স্বার্থে অন্য পণ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম বৃদ্ধির হতেই পারে। বাজারে মসলা কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বললে তারা জানান, পেঁয়াজ আদা, জিরা, এলাচ সব কিছুরই দাম বেড়েছে। ঈদকে পুঁজি করে বাড়তি মুনাফা করেন ব্যবসায়ীরা। ঈদে মসলার দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, ঈদুল আজহা কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারে দাম বাড়াতে হচ্ছে। বিশেষ করে চাল ও পেঁয়াজের বাজার এখনও অস্থির। মসলার দামও বাড়ছে। এরপরও চোখে পড়ছে না সরকারি কোনো মনিটরিং ব্যবস্থা। এখনই পাইকারি বাজারে যদি মনিটরিং করা না হয়, তাহলে এর প্রভাব খুচরা বাজারে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকার সচেতন মহল।