ই-পেপার | শুক্রবার , ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
×
;

পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিকের বিদেশ ভ্রমণ আটকে দিল ভারত

পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক সানা ইরশাদ মাত্তু’র বিদেশ ভ্রমণ আটকে দিয়েছে ভারত। সানা ইরশাদ ভারতশাসিত কাশ্মীরের একজন ফটোসাংবাদিক। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা ছিল তার। কিন্তু দিল্লি বিমানবন্দরে অভিবাসন বিষয়ক কর্তৃপক্ষ তার সফর থামিয়ে দিয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। কোভিড-১৯ মহামারি তিনি যেভাবে কভারেজ করেছেন, তার জন্য তাকে পুলিৎজার পুরস্কার দেয়া হয়েছে। সেই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু সানা ইরশাদ বলেন, বৈধ ভিসা এবং টিকেট থাকা সত্ত্বেও তার সফর আটকে দেয়া হয়েছে।
তার সফর কেন আটকে দেয়া হয়েছে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সে বিষয়ে ভারত সরকারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সানা ইরশাদ বলেছেন, চার মাসের মধ্যে তার বিদেশ সফর এটা নিয়ে দ্বিতীয়বার আটকে দেয়া হয়েছে।

তিনি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, কেন তাকে সফর করতে দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু তারা কোনো কারণ জানাতে পারেননি। এ বছর বেশ কিছু অধিকারকর্মী ও সাংবাদিককে ভারতে প্রবেশ অথবা ভারতের বাইরে যেতে দেয়া হয়নি।
এর আগে মার্চে সাংবাদিক রানা আইয়ুবকে মুম্বই বিমানবন্দরে থামিয়ে দেয়া হয়। ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর জার্নালিস্টস-এর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে তার বৃটেনে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে তার সফরে বাধা দেয়া হয়। রানা আইয়ুব ওয়াশিংটন পোস্টে লিখে থাকেন। পরে তার আবেদনের শুনানিতে দিল্লি হাই কোর্টে জয় পান তিনি। তাকে সফরের অনুমতি দেয় আদালত। কয়েকদিন পরে তিনি এই অনুমতি পান। এপ্রিলে ব্যাঙ্গালোর বিমানবন্দরে থামিয়ে দেয়া হয় অ্যামনেস্টি ইন্ডিয়ার সাবেক প্রধান আকার প্যাটেলকে। একবার নয়, দু’বার তাকে বিমানে উঠা আটকে দেয় কর্তৃপক্ষ। আকার প্যাটেল যখন অ্যামনেস্টির প্রধান ছিলেন, তখন ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় আইন ভঙ্গ করা নিয়ে অ্যামনেস্টি রিপোর্ট করে। এর ফলে ভারতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদন্ত হয়। তদন্তকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তার ফ্লাইট একটি ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। পরে অনুমতি ছাড়া তাকে দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দেয় আদালত।
এমি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়া ভারর্তীয় বশোদ্ভূত মার্কিন সাংবাদিক অঙ্গদ সিং। দিল্লি অবতরণের পর পরই তাকে নিউ ইয়র্কে ফেরত পাঠানো হয়। এ সম্পর্কে ভারত সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অঙ্গদ সিংয়ের পরিবার বলেছে, তাকে ফেরত পাঠানোর আগে বিমানবন্দরে তার পাসপোর্ট কেড়ে নেয়া হয়। এর কারণ হিসেবে তার মা মুখ খুলেছেন। তিনি বলেছেন, ভাইস নিউজে কোভিড সংকট এবং ভারতে কৃষকদের প্রতিবাদ নিয়ে ডকুমেন্টারি বানিয়েছিলেন অঙ্গদ সিং। এ কারণে তার সঙ্গে এই আচরণ করা হয়েছে।
এ বছর শুরুর দিকে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সের নৃবিজ্ঞানী, প্রফেসর ফিলিপ্পো ওসেলা’কে ফেরত পাঠিয়েছে। তিনি কমপক্ষে ৩০ বছর ধরে ভারত পরিদর্শন করছিলেন। দিল্লি হাই কোর্টে তাকে ফেরত পাঠানোর বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন প্রফেসর ওসেলা। ফেরত পাঠানোকে তিনি খেয়ালখুশিমতো এবং অসাংবিধানিক বলে দাবি করেন। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে ফেরত পাঠানোর কোনো কারণ না জানিয়েই তার সঙ্গে একজন ‘কঠোর ক্রিমিনালের’ মতো আচরণ করেছে। গত সপ্তাহে ভারত সরকার আদালতে নিজেদের সিদ্ধান্তের পক্ষে কথা বলেছে। তারা জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ম্যাটেরিয়াল থাকার কারণে সর্বোচ্চ পর্যায়ে কালোতালিকা ভুক্ত করা হয়েছে তাকে।

;